শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

লুধুয়া হাইস্কুল এন্ড কলেজের এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের বিদায় উপলক্ষে মিলাদ ও দোয়া

মনিরুল ইসলাম মনির প্রকাশিত: শনিবার, ২৪ মে, ২০২৫, ৪:৩৭ পিএম
লুধুয়া হাইস্কুল এন্ড কলেজের এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের বিদায় উপলক্ষে মিলাদ ও দোয়া
চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী লুধুয়া হাইস্কুল এন্ড কলেজে এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের বিদায় উপলক্ষ্যে মিলাদ দোয়া ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (২৪ মে) সকালে কলেজ প্রাঙ্গণে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির কার্যনির্বাহী সদস্য আলহাজ্ব ড. মোহাম্মদ জালাল উদ্দিন।
বক্তব্যে তিনি বলেন, লেখাপড়া করে শুধু পুথিগত জ্ঞান অর্জন করলেই হবে না। শিক্ষা গ্রহন করে একজন ভালো মানুষ হতে হবে। কেননা শিক্ষিত মানুষের চেয়ে ভালো মানুষ বেশি প্রয়োজন। আমি পুথিগত জ্ঞান অর্জন করলাম কিন্তু দেশের জন্য কিছু করতে পারলাম না। সমাজের জন্য কিছু করতে পারলাম না। তাহলে এই শিক্ষা মূল্যহীন। সুতরাং এমন শিক্ষা অর্জন করতে হবে যেই শিক্ষা দিয়ে মানুষের জন্য ও দেশের জন্য করা যায়।
তিনি আরো বলেন, আমার নেতা তারেক রহমানের স্বপ্ন একটি অপরাধ দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়বেন। সেই লক্ষ্যে আমি আজকে ছাত্র/ছাত্রীদের উদ্দেশ্যে ঘোষনা করতে চাই, যতি কেহ মাদক, ইভটিজিং এবং অন্যান সামাজিক অপরাধের সাথে যদি যুক্ত হয়, আর আমি যদি প্রমাণ পাই তাহলে উপযুক্ত শাস্তি দিয়ে ছাড়বো।
এধরনের কোন অপরাধীর ঠাঁই নেই। তিনি সকল শিক্ষার্থীদেরকে মনোযোগ সহকারে লেখাপড়া করার জন্য আহ্বান করেন এবং আসন্ন এইচএসসি পরীক্ষায় এ প্লাস পেলে আকর্র্ষনীয় পুরস্কৃত করা হবে বলে ঘোষনা করেন।
লুধুয়া হাইস্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ মোঃ জাকির হোসেনের সভাপতি ও সহকারি শিক্ষক মোঃ হুমায়ুন কবির চানমিয়ার পরিচালনায় অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন, ইউনিসেফ এর ক্রান্টি ম্যানেজার ডাঃ এমদাদুল হক মানিক, লুধুয়া হাইস্কুল এন্ড কলেজের গভর্নিং বডির সাবেক সভাপতি আলহাজ্ব আলী আজগর খান, সাবেক সদস্য এসএম বোরহান উদ্দিন, ছেংগারচর পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম প্রধান, মতলব উত্তর উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোঃ আলমগীর সরকার, ইঞ্জিনিয়ার আবুল হাশেম, কাজী হেলাল উদ্দিন, উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক তোফায়েল পাটোয়ারী, ড. আব্দুল মান্নান, বোরহান উদ্দিন খান, মাইনুদ্দিন দেওয়ান, শিক্ষক রুহুল আমিন, জহির হোসেন।
অনুষ্ঠান শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তেলোয়াত পরীক্ষার্থী মোঃ জাকারিয়া। হামদ পরিবেশন ১০ম শ্রেণির শিক্ষার্থী মিথিলা আক্তার। মানপত্র পাঠ বিদায়ী শিক্ষার্থী সাবিকুন নাহার ও মাহিনুর আক্তার।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’