শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩
শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩

শাহরাস্তি খাল পুনরুদ্ধারে দৃঢ় পদক্ষেপ: উন্নয়ন ও পরিবেশ রক্ষায় প্রশাসনের প্রশংসনীয় উদ্যোগ

মোঃ মাসুদ রানা প্রকাশিত: রবিবার, ১৫ জুন, ২০২৫, ৯:৫৬ পিএম
শাহরাস্তি খাল পুনরুদ্ধারে দৃঢ় পদক্ষেপ: উন্নয়ন ও পরিবেশ রক্ষায় প্রশাসনের প্রশংসনীয় উদ্যোগ
চাঁদপুর জেলা প্রশাসনের নির্দেশে শাহরাস্তি উপজেলা প্রশাসন পৌরসভার সরকারি খাল পুনরুদ্ধার ও সংস্কার কার্যক্রমের ৫০ তমদিনেও অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অব্যাহত রেখেছেন।
শনিবার( ১৪- জুন) দুপুরে চাঁদপুর কুমিল্লা আঞ্চলিক মহাসড়কের শাহরাস্তি পৌরসভার সুয়াপাড়া, কালিয়াপাড়া ও করবা এলাকা  দিয়ে প্রবাহমান বানিয়াচৌঁ খালের জলাবদ্ধতা নিরসনে ও নিরবিচ্ছিন্ন পানি প্রভাব নিশ্চিত করতে এ অভিযান পরিচালনা করেন।
ওই সময় উপজেলা নির্বাহী অফিসার, বিজ্ঞ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও পৌর প্রশাসক নিগার সুলতানা নেতৃত্বে উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি ও এক্সিকিউটি ম্যাজিস্ট্রেট নিরুপম মজুমদার এবং সংশ্লিষ্ট প্রশাসন এ অভিযান পরিচালনা করেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ওইদিন এ অভিযানে উপজেলা প্রশাসনের উপস্থিতিতে কালিয়াপাড়া এলাকার জাহাঙ্গীর সুপার মার্কেটের একটি সৌরকাভার্ট অপসারণ করে সেখানে ম্যানহোল, পল্লী বিদ্যুৎ সংলগ্ন স্থানে পৌরসভা কর্তৃক ম্যানহোল স্থাপন, একই সঙ্গে দোয়াভাঙ্গা শাহরাস্তি গেইট এলাকায় টং দোকানের স্থাপনা এবং ভরাটকৃত ভূমি গুড়িয়ে দিয়ে খাল পুনরুদ্ধার করা হয়।
স্থানীয় এলাকাবাসী, উপজেলা ও পৌর প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, শাহরাস্তি উপজেলার ৩ নং ওয়ার্ডের বানিয়াঁচৌ মহল্লার এই খালটি দিয়ে ৪টি মহল্লার বানিয়াঁচৌ, ঘুঘুরশাল, শুয়াপাড়া, সাহাপুর এলাকার বর্ষার পানি ডাকাতিয়া নদীতে গিয়ে পড়ে থাকে।
১৯৯৮ সালে পৌরসভা গঠনের পর থেকে প্রবাহমান এ খালের বিভিন্ন অংশ দখলদাররা কৃত্রিম বাধ দিয়ে পানি প্রবাহে বাধা সৃষ্টি করে আসছিল।
এতে ওই ৪ টি মৌজার শত শত একর আবাদি জমিনের ফসলআদি বিনষ্ট হত। সম্প্রতি ওই পুঞ্জিভূত সমস্যা নিয়ে স্থানীয়রা শাহরাস্তি উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও বিজ্ঞ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিগার সুলতানার নিকট একটি অভিযোগ নিয়ে এলে তিনি এ পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। ওই হিসেবে অন্তত ৩ কিঃ মিঃ খাল খননের সংস্কার কার্যক্রম হাতে নেন যা চলমান রয়েছে।
এছাড়া অত্র পৌরসভায় গত ৫০ দিনে  ছোট বড় বেশ কয়েকটি খাল ও অসংখ্য ড্রেন ও পয়ঃনিষ্কাশনের  বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়,১৯৯৮ সালের ১৪ই অক্টোবর শাহরাস্তি পৌরসভাটির গঠনের সময় এর জনসংখ্যা ছিল ৩১ হাজার ৬শ’৫০ জন। বর্তমানে ওই জনসংখ্যা বেড়ে ৪৭ হাজার ৭’শ ৪০ জনে পৌঁছেছে।
সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে  নগরায়ন ও জনবসতি। কিন্ত বিগতদিনে পৌর বাসির সুযোগ-সুবিধা সে ভাবে বাড়েনি। বরং অপরিকল্পিত নগরায়নের ফলে পৌরসভার ছোট বড় ১৭ টি খাল অবৈধ দখলদারদের নিয়ন্ত্রণে চলে যায়।
এতে জলপ্রবাহে তৈরি হয় প্রতিবন্ধকতা। এরই মধ্যে নতুন যুগের দুষন পলিথিন বর্জে সয়লাব হয়ে যায় নালা ও খাল বিল।
সঙ্গত কারনে অল্পতেই পৌর শহরের ভিটেবাড়ি প্লাবিত হয়ে তৈরি হয় জলাবদ্ধতা।
এ বিষয়ে শাহরাস্তি পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা (প্রথম শ্রেণি) মোঃ তোফায়েল আহমেদ শেখ জানান, এ অবস্থা থেকে উত্তরণে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও পৌর প্রশাসক নিগার সুলতানা বেশ কিছু উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। যার অংশ হিসেবে এ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। এ সংস্কারের ফলে হারিয়ে যাওয়া খালটির ৩ কিঃমিঃ এলাকায় জলপ্রবাহ পুনরুদ্ধার ও দৃশ্যমান হবে।
আসন্ন বর্ষায় পৌরবাসীসহ খালের দুপাশে বসবাসকারী জনগণ এ সুবিধার আওতায় আসবেন।
শাহরাস্তি উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নিগার সুলতানা জানান,ইতিমধ্যে বানিয়াচৌ, কালিয়াপাড়া,দোয়াভাঙ্গা মেহের স্টেশন পর্যন্ত খালটির সংস্কার কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
ওই কার্যক্রমের অংশ হিসেবে আজ চাঁদপুর কুমিল্লা আঞ্চলিক মহাসড়কের পার্শ্ববর্তী খালের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে নিরবিচ্ছন্ন পানি চলাচলের ব্যবস্থা করা হয়। এই কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে পৌরবাসীকে তাকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান।
এদিকে ওই সংস্কার কাজে সার্বিক সহযোগিতা করেন, শাহরাস্তি পৌরসভার প্রধান সহকারী মোহাম্মদ নজরুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, কর্মচারীবৃন্দ।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’