শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩
শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩

চাঁদপুরে করোনা ল্যাবের কার্যক্রম বন্ধ, ভোগান্তির শিকার জেলাবাসী

প্রিয় চাঁদপুর ডেস্ক প্রকাশিত: রবিবার, ১৫ জুন, ২০২৫, ১০:৫৫ পিএম
চাঁদপুরে করোনা ল্যাবের কার্যক্রম বন্ধ, ভোগান্তির শিকার জেলাবাসী

চাঁদপুরে ল্যাব না থাকায় করোনা পরীক্ষা করাতে গিয়ে ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন জেলাবাসী। চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালে আরটি-পিসিআর ল্যাব না থাকায় উপসর্গ নিয়ে আসা রোগীদের পাঠানো হচ্ছে কুমিল্লায়। যে কারণে অনেকেই করোনার উপসর্গ থাকলেও গোপন করে পরীক্ষা করাচ্ছেন না।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, চাঁদপুরে করোনা আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ায় ২০২০ সালের ২৭ জুলাই সাবেক মন্ত্রী দীপু মনির উদ্যোগে তার বাবার নামে ভাষাবীর এম এ ওয়াদুদ মেমোরিয়াল ট্রাস্ট ও চাঁদপুর মেডিকেল কলেজের যৌথ উদ্যােগে আরটি-পিসিআর ল্যাব চালু করা হয়। তৎকালীন সময় ল্যাবটি চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতাল কিংবা সিভিল সার্জন কার্যালয়ে না করে দীপু মনির বাসভবনে স্থাপন করা হয়। করোনা প্রেক্ষাপট স্বাভাবিক হলে পুরোপুরি কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায় আরটি-পিসিআর ল্যাবটির।

ছাত্র-জনতার আন্দোলনে শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে ভারতে পালালে ৫ আগস্ট সারাদেশের মতো চাঁদপুরে ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয়। ওইসময় চাঁদপুর শহরের নতুনবাজার কদমতলা এলাকায় ডা. দীপু মনির বাসাও ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ করা হয়। এতে করে করোনা পরীক্ষার আরটি-পিসিআর ল্যাবের মেশিন ও সরঞ্জাম লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ হয়। যে কারণে এখন আর ল্যাবের কোনো অস্তিত্ব নেই। নতুন করে করোনা সংক্রমণ বাড়ায় উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা বেড়েছে জেলাবাসীর।

চাঁদপুর জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের মেডিকেল অফিসার মো. শাখাওয়াত হোসেনের দেওয়া তথ্যমতে, জেলায় এখন পর্যন্ত করোনা পরীক্ষা করিয়েছেন ৯৪ হাজার ৯৬ জন। এরমধ্যে করোনা পজিটিভ ১৭ হাজার ৬৫৮ জনের। আর ফলোফল নেগেটিভ এসেছেন ৭৬ হাজার ৪৩৮ জনের। এখন পর্যন্ত রোগীর সংখ্যা ১৭ হাজার ৬৭৭ জন। জেলায় করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর সংখ্যা ২৪৬ জন।

Model Hospital

চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা সিয়াম ও ইসমাইল হোসেন বলেন, ‘হঠাৎ করে আবার করোনা দেখা দিয়েছে কিন্তু চাঁদপুরে কোনো সতর্কতা দেখছি না। হাসপাতালে করোনা পরীক্ষা করার কোনো ল্যাব নেই। এখন থেকে কুমিল্লা গিয়ে পরীক্ষা করাতে হয়। আমাদের দাবি, দ্রুত করোনা পরীক্ষার আরটি-পিসিআর ল্যাব স্থাপন করা হোক।’

এ বিষয়ে চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. একেএম মাহবুবুর রহমান বলেন, সাবেক মন্ত্রী দীপু মনি নিজ বাসায় একটি ল্যাব করেছিলেন কিন্তু ৫ আগস্টের পর সেটি মিসিং। আপাতত এখন চাঁদপুরে করোনা পরীক্ষা করার কোনো ল্যাব নেই। কেউ এলে তাদের কুমিল্লায় পাঠানো হচ্ছে। তবে নতুন করে চাঁদপুরে করোনায় আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি।

তিনি আরও বলেন, করোনা নিয়ে ভয় বা আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। নিজ নিজ জায়গা থেকে সচেতন হতে হবে। মাস্ক ও হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহার করতে হবে।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’