শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

১৫ মোটরসাইকেল ভাঙচুর

ফরিদগঞ্জে নিখোঁজ ইব্রাহিমকে খোঁজতে গিয়ে সংঘর্ষে আহত-১০

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: সোমবার, ১৬ জুন, ২০২৫, ১০:০৬ পিএম
ফরিদগঞ্জে নিখোঁজ ইব্রাহিমকে খোঁজতে গিয়ে সংঘর্ষে আহত-১০
চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে ছোট একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই ইউনিয়নের বাসিন্দাদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন এবং ১০–১৫টি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয়েছে।
সোমবার (১৬ জুন) সকালে উপজেলার বালিথুবা পশ্চিম ও পাইকপাড়া উত্তর ইউনিয়নের দুটি পরিবারের মধ্যে পূর্বের একটি ঘটনা ঘিরে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। দিনের শুরুতে পরিস্থিতি শান্ত থাকলেও বিকেলে বালিথুবা পশ্চিম ইউনিয়নের মদনেরগাঁও এলাকার কয়েকজন লোক শাশিয়ালি এলাকায় গিয়ে হামলা চালায় বলে অভিযোগ ওঠে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বালিথুবা পশ্চিম ইউনিয়নের মদনেরগাঁও এলাকার আবুল হাসেমের ছেলে ইব্রাহিম (১৭) পারিবারিক অভিমানে বাড়ি ছেড়ে জামতলা এলাকায় বন্ধুর বাড়িতে আশ্রয় নেয়। পরিবারের লোকজন খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে জানতে পারেন, ইব্রাহিম তার বন্ধু মাহাদির বাড়িতে অবস্থান করছে।
রোববার গভীর রাতে ইব্রাহিমের মামা রাশেদ ও তার আত্মীয়রা জামতলায় গিয়ে মাহাদির বাড়ির সামনে অপেক্ষা করতে থাকেন। ভোরের আজানের পর তারা মাহাদিদের ঘরে ডাকাডাকি শুরু করেন। এসময় মাহাদিদের আত্মীয় রবিউল চিৎকার করে চোর বলে অভিযোগ করেন। এর পরই বাকবিতণ্ডা ও হাতাহাতি শুরু হয়।
রাশেদের ভাষ্য অনুযায়ী, মাহাদি ইব্রাহিমকে ঘরের লাকড়ির ঘরে লুকিয়ে রাখে। তাঁরা ইব্রাহিমের খোঁজ নিতে চাইলে মারধরের ঘটনা ঘটে। পরে স্থানীয় ইউপি সদস্য মিজান ও বিএনপি নেতা আব্দুল হান্নান ঘটনাটি সমাধানের জন্য বৈঠকের উদ্যোগ নেন।
বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে মদনেরগাঁও এলাকার এক থেকে দেড় শতাধিক লোক দেশীয় অস্ত্রসহ মোটরসাইকেল ও অটোরিকশা যোগে শাশিয়ালি এলাকায় আসে। শাশিয়ালি এলাকার বাসিন্দাদের অভিযোগ, তারা হামলা চালিয়ে তাণ্ডব চালায়। এরপর এলাকাবাসী প্রতিরোধ গড়ে তোলে।
মদনেরগাঁও এলাকার সাজিদ পাটওয়ারী জানান, তাঁর এলাকার ইব্রাহিমের পরিবারের সদস্যদের মারধরের খবরে তাঁরা ঘটনাস্থলে যান। সেখানে শাশিয়ালি এলাকার বাসিন্দারা তাদের উপর অতর্কিতে হামলা চালায়।
এসময় রাকিব গাজী, শরীফ পাটওয়ারী, সুজন বেপারী, তামিমসহ অন্তত ৮–১০ জন আহত হন। তাঁদের চাঁদপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। হামলায় অন্তত ৮–১০টি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয়েছে।
শাশিয়ালি এলাকার বাসিন্দা আব্দুল মালেক অভিযোগ করেন, তাঁর ছেলে রবিউলের ওপর হামলার পাশাপাশি তাঁকেও মারধর করা হয়েছে। তাঁর স্ত্রী রুনু বেগমও হামলার শিকার হয়েছেন। হামলাকারীরা এলাকার মসজিদে গিয়েও মোয়াজ্জেম আব্দুল হান্নানের ওপর হামলা চালানোর চেষ্টা করে।
সংঘর্ষের খবর পেয়ে ফরিদগঞ্জ থানা পুলিশের এসআই কফিল উদ্দিন ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে যান। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং স্থানীয়দের সহায়তায় আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়। ঘটনার তদন্ত চলছে এবং আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’