শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

হাজীগঞ্জের পদুয়ায় মাদকের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোয় তিন যুবক রক্তাক্ত!

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: শুক্রবার, ২০ জুন, ২০২৫, ১১:৪৮ এম
হাজীগঞ্জের পদুয়ায় মাদকের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোয় তিন যুবক রক্তাক্ত!

চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলা ৮নং হাটিলা পূর্ব ইউনিয়নের পদুয়া এলাকায় প্রকাশ্যে মাদক ব্যবসা ও সেবনে বাঁধা দেওয়ায় ৩ যুবককে কুপিয়ে জখম করছে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা ।

১৯ জুন (বৃহস্পতিবার) রাত আনুমানিক ৮ টার সময় ইউনিয়নের পদুয়া দিঘীরপাড়ে এ ঘটনা ঘটে। পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে চাঁদপুর সদর হাসপাতালে নিয়ে যায়। এদের মধ্যে রুহুল আমিনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

আহতরা হলেন পদুয়া মুন্সী বাড়ি আমির হোসেনের ছেলে রুহুল আমিন,বিল্লাল হোসেন মিয়াজীর ছেলে মিলন মিয়াজী,সরোয়ার আলমের ছেলে জুনায়েদ হোসেন।

এ বিষয়ে রুহুল আমিনের বাবা আমির হোসেন বাদী হয়ে হাজীগঞ্জ থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন।

Model Hospital

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়- বেলঘর গ্রামের কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য আমির হোসেনের ছেলে মিলন, খোরশেদ আলমের ছেলে রবিউল, আব্দুর রশিদের ছেলে কামরুল হাসান, আবু মিয়ার ছেলে রিফাত হোসেন, আবুল বাসারের ছেলে কাউসার আলম, আতাবর হোসেনের ছেলে রবিউল আলম দীর্ঘ দিন ধরে পদুয়া এলাকায় প্রকাশ্যে মাদক ব্যবসা ও সেবন করে আসছে। এতে ঐ এলাকার যুবসমাজ মাদকের প্রতি আশক্ত হয়ে এলাকায় বিভিন্ন অপকর্মে লিপ্ত হচ্ছে। তাদের অসামাজিক কাজে পদুয়া সমাজকল্যাণ সংগঠনের সমাজসেবা বিষয়ক সম্পাদক রুহুল, সহকারী ক্যাশিয়ার মিলন হোসেন, সদস্য জুনায়েদ হোসেন তাদের সতর্ক করলে উল্টো তারা প্রাণ নাশের হুমকি প্রদান করে।

অভিযোগে আরও জানা যায়- কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা কাউকে পরোয়া না করে পূর্বের ন্যায় ঘটনারদিন প্রকাশ্যে মাদক বিক্রি ও সেবন করে আসছে। এতে রুহুল আমিন, জুনায়েদ, মিলন বাধা দিলে পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী তারা ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকেন তাদেরকে। এতে গুরুতর আহত হয়ে পড়েন রুহুল আমিন, জুনায়েদ, মিলন। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে চাঁদপুর সদর হাসপাতালে নিয়ে যায়। তাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় ডাক্তার তাদের ভর্তি দেন।

স্থানীয়রা জানান- বেলঘর গ্রামের কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা আমাদের গ্রামে এসে প্রকাশ্যে মাদক বিক্রি ও সেবন করে এলাকার যুব সমাজকে ধ্বংস করে ফেলছে। তাদের ভয়ে কেউ কিছু বলতে পারি না। তারা মেরে ফেলার হুমকি-ধামকি দিয়ে আসছে। এদের দ্রুত গ্রেফতার করে উপযুক্ত শাস্তি প্রদানের জন্য প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন এলাকাবাসী।

এ ঘটনার বিষয়ে অভিযুক্ত রবিউল, কামরুল, রিফাত ও কাউসারের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের কারও সাথেই কথা বলা সম্ভব হয়নি, কারণ তাদের মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া গেছে।

হাজীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মহিউদ্দিন ফারুক বলেন, ‘হামলার ঘটনায় অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত পূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এছাড়া ওই এলাকায় মাদকের বিষয়েও অভিযান পরিচালনা করা হবে।’

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’