শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

ঢাকায় মহাসমাবেশ সফলের লক্ষ্যে ইসলামী আন্দোলনের লিফলেট বিতরণ

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৬ জুন, ২০২৫, ৮:২৯ পিএম
ঢাকায় মহাসমাবেশ সফলের লক্ষ্যে ইসলামী আন্দোলনের লিফলেট বিতরণ
আগামী ২৮জুন শনিবার ঢাকার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ইসলামী আন্দোলনের মহাসমাবেশ সফল করতে চাঁদপুরে লিফলেট বিতরণ করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার বিকেলে শহরের হাসান আলী হাই স্কুল মাঠ থেকে সমাবেশের দাওয়াত ও লিফলেট বিতরণ শুরু হয়।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর আমীর পীর সাহেব চরমোনাই’র আহবানে প্রয়োজনীয় রাষ্ট্রসংস্কার, গণহত্যার বিচার ও সংখ্যানুপাতিক (পিআর) পদ্ধতিতে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের দাবিত এবং দেশ ও ইসলামবিরোধী সকল ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে ঢাকার ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে এই সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। সমাবেশ সফলের লক্ষ্যে বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্যে আজ লিফলেট বিতরণ কর্মসূচি পালিত হয়।
লিফলেট বিতরণ কার্যক্রমে নেতৃত্ব দেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর কুমিল্লা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও চাঁদপুর-৩ (সদর-হাইমচর) আসনের সম্ভাব্য সংসদ সদস্য প্রার্থী জননেতা শেখ মোহাম্মদ জয়নাল আবেদীন।
তিনি বলেন এই মহাসমাবেশ রাজনৈতিক এক ট্রানিং পয়েন্টে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। তাই এ মহাসমাবেশের গুরুত্ব অনেক বেশি বিগত ৫৪ বছরের রাজনৈতিক দুর্বিতায়ন থেকে জাতিকে রক্ষা করার জন্য এই মহাসমাবেশে দেশবাসী উপস্থিত হয়ে এক কন্ঠে আওয়াজ তুলবে যে আমরা আর বিগত দিনের রাজনীতিতে ফিরে যেতে চাই না আগামী দিনে কাঙ্ক্ষিত মানুষের স্বপ্ন পূরণে একটি সুষ্ঠু রাজনৈতিক পরিবেশ চাই,একটি নিরাপদ মানবিক বাংলাদেশ গঠন করতে চাই। একটি সুষ্ঠু নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে সকল নাগরিকদের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠা করতে চাই।যেখানে সকল মতের মানুষের তার অধিকার নিয়ে কথা বলতে পারবে।
তিনি আরো বলেন, রাজনীতিতে সব সময় সুযোগ আসে না ইসলাম এবং দেশপ্রেমিক সকল শক্তি যদি ঐক্যবদ্ধ হয়ে এ মূহুর্তে আমরা সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে না পারি তাহলে এ জাতিকে আরো বহু যুগ ধরে খেসারত দিতে হতে পারে। তাই নির্বাচনের সকল অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার মূল উৎপাটন করে সংখ্যানুপাতিক (পিআর) পদ্ধতিতে নির্বাচনের দাবিকে জোরালো করতে হবে।
ঢাকায় ইসলামী আন্দোলনের মহাসমাবেশ সফলের লক্ষ্যে লিফলেট বিতরণ করেন ইসলামী আন্দোলনের কুমিল্লা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ মুহাম্মাদ জয়নাল আবেদীন।
তাই আগামী ২৮ জুন শনিবারের এই মহাসমাবেশে দল-মত নির্বিশেষে আপামর দেশবাসীকে উপস্থিত হওয়ার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো।
চাঁদপুর থেকে বড় বাস,মাইক্রো,হায়েস ও লঞ্চযোগে হাজার হাজার নেতাকর্মী মহাসমাবেশে উপস্থিত হবেন। যারা লঞ্চযোগে যেতে চান সকাল ৭:৩০ মিনিটে চাঁদপুর লঞ্চঘাট উপস্থিত থাকার জন্য বিশেষ ভাবে অনুরোধ করা হলো।
উক্ত লিফলেট বিতরণ অনুষ্ঠানে চাঁদপুর জেলা,সদর উপজেলা ও চাঁদপুর শহর শাখার নেতৃবৃন্দ ও সর্বস্তরের জনগণ উপস্থিত ছিলেন।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’