শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

শাহরাস্তিতে উচ্চ ভোল্টেজের বিদ্যুতের খুঁটি অক্ষত রেখেই পার্কিং নির্মাণ!

মোঃ মাসুদ রানা প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১০ জুলাই, ২০২৫, ১০:৪১ পিএম
শাহরাস্তিতে উচ্চ ভোল্টেজের বিদ্যুতের খুঁটি অক্ষত রেখেই পার্কিং নির্মাণ!

শাহরাস্তি পৌরসভার দোয়াভাঙ্গা এলাকায় বিদ্যুতের উচ্চ ভোল্টেজের সঞ্চালিত লাইনের খুঁটি অক্ষত রেখেই নির্মাণ করা হয়েছে গণপরিবহনের জন্য পার্কিং স্পেস। এতে চাঁদপুর-কুমিল্লা আঞ্চলিক মহাসড়কে যাতায়াতকারী যাত্রীদের মধ্যে চরম উদ্বেগ, উৎকণ্ঠা  ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। ওই  ঘটনায় আমজনতার  আশঙ্কা, যেকোনো সময় ঘটে যেতে পারে মারাত্মক দুর্ঘটনা।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, খুঁটিগুলো দ্রুত অপসারণ করে নিরাপদ পার্কিং নির্মাণ এখন সময়ের দাবিতে পরিণত হয়েছে। গণপরিবহনের যাত্রী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, বর্তমানে এই সড়কে যানবাহনের চাপ ক্রমশ বেড়ে যাওয়ায় প্রতিটি স্ট্যান্ডেই লেগে থাকে সুদীর্ঘ যানজট। সড়ক বিভাগের বহু জায়গা ইতোমধ্যে চলে গেছে প্রভাবশালীদের দখলে। ফলে চরম জনদুর্ভোগে পড়ছেন রাস্তায় বেরহওয়া মানুষজন। ওই হিসেবে দোয়াভাঙ্গা, উয়ারুক, কালিয়াপাড়া, বানিয়াচৌ, কাকৈরতলা বাজারসহ আশপাশের এলাকাগুলোতে যানজট এখন নিত্যদিনের চিত্র।

এ পরিস্থিতি মোকাবেলায় গত বছরের ডিসেম্বর মাসে চাঁদপুর  জেলা প্রশাসকের নির্দেশে শাহরাস্তি উপজেলা প্রশাসন সাড়াঁশি অভিযান পরিচালনা করে। এতে দোয়াভাঙ্গা এলাকায় সড়ক বিভাগের রাস্তা ও দু’পাশে প্রায় ১৮০ ফুট জায়গা দখলের কবল থেকে উদ্ধার করা হয়,যার ধারাবাহিকতায় বর্তমান উপজেলা প্রশাসনও এ অভিযান অব্যাহত রেখেছে।

অতিসম্প্রতি শাহরাস্তি উপজেলা প্রশাসনের ইউএনও নিগার সুলতানা ও এসিল্যান্ড নিরুপম মজুমদার অভিযান চালিয়ে প্রায় তিন শতাধিক অবৈধ দোকানঘর উচ্ছেদ করে।

Model Hospital

এরপর  চাঁদপুর সড়ক ও জনপথ( সওজ) বিভাগ সম্প্রতি উদ্যোগ নেয় দোয়াভাঙ্গা এলাকার দুই পাশে পার্কিং স্পেস  স্থাপনের। ওই হিসেবে ব্রিক সলিং দিয়ে রাস্তার দক্ষিণ পাশের টার্মিনাল স্পেস তৈরি কাজ শেষ হলেও উত্তর পাশের  কাজ এখনও চলমান রয়েছে। এটি স্থাপনের উদ্দেশ্য ছিল, দ্রুতগামী গাড়িকে চলাচলের সুযোগ দিয়ে, পরিবহনের গাড়ি পার্কিংয়ে দাঁড়িয়ে নিরাপদে যাত্রী নামানোর জন্য। কিন্তু বিপত্তি ঠেকেছে, ওই সড়কের মাথার উপর দিয়ে চলে যাওয়া বিদ্যুৎ সঞ্চালনের হাইভোল্টেজের কেবল লাইনের খুঁটি। যেটি অক্ষত রেখেই দুই পাশের পার্কিংয়ের কাজ নির্মান করা হয়।

এ বিষয়ে স্থানীয় এক দোকানদার বলেন, “আমরা এই এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসা করছি। এইভাবে বিদ্যুৎ লাইনের নিচে পার্কিং নির্মাণ করা খুবই বিপজ্জনক। এদিকটি বিবেচনায় প্রশাসনের নজর দেওয়া আবশ্যক। গণপরিবহন শ্রমিক ইব্রাহিম খলিল বলেন, এই এলাকায় প্রতিদিন শত শত মানুষ যাতায়াত করে, উপরন্তু বাস ও অটোরিকশা পার্কিংএ দাঁড়িয়ে থাকে। নির্মাণাধীন পার্কিং এলাকায় বড় কোন গাড়ির ধাক্কায় যদি কোনোভাবে তার ছিঁড়ে পড়ে, তাহলে ব্যাপক প্রাণহানি বা বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটতে পারে।

এ ব্যাপারে চাঁদপুর সড়ক ও জনপথ ( সওজ) বিভাগের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী (চঃদাঃ), হাজীগঞ্জ ওয়াছিউদ্দিন আহমেদ জানান, বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। সংশ্লিষ্টদের মৌখিকভাবে অবহিত করেছি। সহসাই পত্র দিয়ে জানানো হবে।

এ বিষয়ে শাহরাস্তি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি – ১ এর জোনাল অফিসের ডিজিএম নিজাম উদ্দিন সামস্ বলেন, আমি এ কর্মস্থলে নতুন, আসার পর এ সংক্রান্ত কোন নথি আমার দৃষ্টিগোচর হয়নি। তবে সংশ্লিষ্টরা চাইলে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নজরে এনে উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে।

গণমাধ্যমকর্মী মাহবুব হাছান বাবলু জানান, ” বিষয়টি ঝুঁকিপূর্ণ ও জনগুরুত্বপূর্ণ । টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা প্রনয়ন করা উচিত।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’