শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩
শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩

লেডি দেহলভী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে মাদক বিরোধী সচেতনতামূলক সভা

মাদক সমাজ ও জাতিকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেয় : ইউএনও সাখাওয়াত জামিল

সাইদ হোসেন অপু চৌধুরী প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৭ জুলাই, ২০২৫, ৬:৩৯ পিএম
মাদক সমাজ ও জাতিকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেয় : ইউএনও সাখাওয়াত জামিল

চাঁদপুর জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের আয়োজনে ও জাতীয় সাংবাদিক সংস্থার চাঁদপুর জেলা শাখার সহযোগিতায় লেডি দেহলভী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে মাদক বিরোধী সচেতনতামূলক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন চাঁদপুর সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) সাখাওয়াত জামিল সৈকত।

নেশা ছেড়ে কলম ধরি মাদক মুক্ত দেশ গড়ি” এই প্রতিপাদকে সামনে রেখে মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর চাঁদপুর জেলা কার্যালয়ের আয়োজনে ও জাতীয় সাংবাদিক সংস্থার চাঁদপুর জেলা শাখার সহযোগিতায় মাদকের ভয়াল থাবা থেকে শিক্ষার্থীদের দূরে রাখতে শিক্ষার্থীদের মাঝে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে মাদকবিরোধী আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৭ জুলাই) সকালে শহরের লেডি দেহলভী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর জেলা কার্যালয়ের আয়োজনে মাদক বিরোধী আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন চাঁদপুর সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) সাখাওয়াত জামিল সৈকত।
প্রধান অতিথির বক্তব্য তিনি বলেন, মাদক একটি সমাজ, জাতি তথা দেশকে ধ্বংস করে দিতে পারে। তাই মাদকের ছোবল থেকে মুক্তি পেতে হলে পিতা–মাতাকে সন্তানের প্রতি আরও সচেতন হতে হবে। জুয়া ও মাদক আমাদের দেশ সমাজ ধ্বংসের মূল কারণ। আমাদের যুব সমাজকে এই ভয়াবহতার হাত থেকে সচেতনার মাধ্যমে রক্ষা করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, মাদক সমাজ ও জাতিকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেয়। মাদকমুক্ত সমাজ না গড়তে পারলে কোন জাতি উন্নত হয় না। তাই শিক্ষার্থীদেরকে এখনই মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।মাদকের ভয়াল গ্রাস থেকে যুবসমাজসহ সকলকে রক্ষায় এর বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। মাদকের বিরুদ্ধে নিজে সচেতন হতে হবে, অন্যকে সচেতন করতে হবে।
সাখাওয়াত জামিল সৈকত বলেন, মাদক জীবনকে কেড়ে নেয়, জীবনের স্বাভাবিক গতি ব্যাহত করে, মাদক এমন মরণব্যাধি, আত্মঘাতিমূলক জীবন প্রবাহ, আত্মহননের অসৎ এবং কুৎসিত পথ, যা দুর্বিষহ করে জীবন, অন্ধকার আনে পরিবারে, ধ্বংস করে পারিবারিক সম্প্রীতি। তাই মাদক থেকে নিজে বাচুঁন অন্যকে বাচঁতে উৎসাহী করুন।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ ইলিয়াছ মিয়ার সভাপতিত্বে ও জাতীয় সাংবাদিক সংস্থা চাঁদপুর জেলা শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক দীন মোহাম্মদ এর পরিচালনায় সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর জেলা কার্যালয়ের সহকারি পরিচালক মুহাঃ মিজানুর রহমান, জাতীয় সাংবাদিক সংস্থা চাঁদপুর জেলা শাখার সভাপতি শ্যামল সরকার।
এসময় বক্তব্য রাখেন, বিদ্যালয়ের সহকারি প্রধান শিক্ষক সমর কান্তি দাস, সিনিয়র শিক্ষক মজিবুর রহমান, আইসিটি শিক্ষক জাকির হোসেন, জাতীয় সাংবাদিক সংস্থা চাঁদপুর জেলা শাখার সহ সাধারণ সম্পাদক
সাইফুল ইসলাম সহ সাংবাদিক সংস্থার অন্যান্য কর্মকর্তাবৃন্দ।
সভায় শিক্ষার্থীরা মাদক থেকে নিজেদের দূরে থাকতে অতিথিদের সামনে অঙ্গীকার করেন এবং অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছাত্রছাত্রীদের মাঝে মাদকের বিভিন্ন কুফল বিষয়ে সচেতনতামুলক লিপলেট ও বিভিন্ন শিক্ষা উপকরণ বিতরন করা হয়। সভায় বিদ্যালয়ের প্রায় দুই শতাধিক শিক্ষার্থী অংশ নেন।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’