শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

বৃত্তি পরীক্ষায় বৈষম্যের প্রতিবাদে শাহরাস্তিতে কিন্ডারগার্টেনের মানববন্ধন

মোঃ মাসুদ রানা প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ জুলাই, ২০২৫, ৮:৩০ পিএম
বৃত্তি পরীক্ষায় বৈষম্যের প্রতিবাদে শাহরাস্তিতে কিন্ডারগার্টেনের মানববন্ধন
শাহরাস্তিতে প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় কিন্ডারগার্টেন শিক্ষার্থীদের অন্তর্ভুক্তির দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলা পরিষদ চত্বরে বাংলাদেশ কিন্ডারগার্টেন অ্যাসোসিয়েশন, শাহরাস্তি উপজেলা শাখার উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন।
“জুলাই বিপ্লবের বাংলায় বৈষম্যের ঠাঁই নাই” এই প্রতিবাদী শ্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে মানববন্ধনস্থল। বক্তারা অভিযোগ করেন, প্রাথমিক শিক্ষা সবার জন্য বাধ্যতামূলক হলেও সরকারিভাবে আয়োজিত বৃত্তি পরীক্ষায় শুধুমাত্র সরকারি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। এতে কিন্ডারগার্টেনের লাখো শিক্ষার্থী বঞ্চিত হচ্ছে তাদের ন্যায্য অধিকার থেকে।
মানববন্ধনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ কিন্ডারগার্টেন অ্যাসোসিয়েশন, শাহরাস্তি উপজেলা শাখার সভাপতি মো. আলী আজগর মিয়াজী।
তিনি বলেন, “সরকারি-বেসরকারি বলে কোনো ভেদাভেদ থাকতে পারে না। শিক্ষাক্ষেত্রে এমন বৈষম্য মেনে নেওয়া যায় না। এটা চরম অবিচার ও সংবিধান পরিপন্থী।”
তিনি আরও বলেন, “শিক্ষা সবার অধিকার। অথচ দীর্ঘদিন ধরেই কিন্ডারগার্টেন শিক্ষার্থীরা প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার বাইরে রয়েছে, যা খুবই হতাশাজনক। এটি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মধ্যে বৈষম্যের বীজ বপন করছে।”
মানববন্ধনে শাহরাস্তি ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের অধ্যক্ষ ও সমিতির সহ-সভাপতি মো. হাসান আহমেদ এর সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন,  আল হেরা একাডেমীর অধ্যক্ষ ও সহ-সভাপতি মিজানুর রহমান, আল-আমিন একাডেমির মো. ইসলাম, বিয়াম ল্যাবরেটরি স্কুলের অধ্যক্ষ মো. ওসমান গনি, বিদ্যানিকেতনের উপদেষ্টা মো. আবদুর রব, মাতৃছায়া কিন্ডারগার্টেনের সাধারণ সম্পাদক ছোটন চক্রবর্তী, ইমামে আজম কিন্ডারগার্টেনের সাংগঠনিক সম্পাদক আবু তাহের সুমন ও আইডিয়াল কিন্ডারগার্টেনের মো. জামাল হোসেন।
মানববন্ধন শেষে সম্প্রতি ঘটে যাওয়া মাইলস্টোন ট্র্যাজেডিতে আহত ও নিহতদের স্মরণে এক আলোচনা সভা ও দোয়া অনুষ্ঠিত হয়।
বক্তারা শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন এবং তাঁদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন।
সভায় বক্তারা বলেন, “ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে মানবিক ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে হলে শিশুদের মধ্যে ছোটবেলা থেকেই মূল্যবোধ ও নৈতিকতা গড়ে তোলা অত্যন্ত জরুরি। এ ক্ষেত্রে শিক্ষা ব্যবস্থায় বৈষম্য হিতে বিপরীত হবে।”

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’