শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

শাহরাস্তিতে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে সহায়তা দিলেন ফারুক মিয়াজি

রাফিউ হাসান হামজা প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৩১ জুলাই, ২০২৫, ৬:৫৫ পিএম
শাহরাস্তিতে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে সহায়তা দিলেন ফারুক মিয়াজি

চাঁদপুরের শাহরাস্তি পৌরসভার ৪নং ওয়ার্ডের নাওড়া গ্রামে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে সর্বস্ব হারানো এক অসহায় বিধবা মায়ের পাশে দাঁড়িয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) শাহরাস্তি পৌর শাখার সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব ফারুক হোসেন মিয়াজি।

৩১ জুলাই বিকেলে তিনি দলীয় নেতৃবৃন্দসহ সরেজমিনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারটির খোঁজখবর নেন। তিনি বিধবা চম্পা বেগমকে মানসিক সান্ত্বনা দেওয়ার পাশাপাশি তাৎক্ষণিকভাবে নগদ আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন। এ সময় তিনি পরিবারটির পাশে ভবিষ্যতেও দাঁড়ানোর আশ্বাস দেন।

ঘটনাস্থলে ফারুক হোসেন মিয়াজি বলেন, “আমরা রাজনীতি করি দেশের মানুষের জন্য। চম্পা বেগমের পরিবারের এই দুর্বিষহ অবস্থায় তাদের পাশে দাঁড়ানো আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। আমি ব্যক্তিগতভাবে এবং দলীয়ভাবে পাশে থাকার চেষ্টা করব। শুধু সমবেদনা নয়, বাস্তব সহায়তার মাধ্যমে তাদের পুনর্গঠনে আমরা কাজ করব।”

এ সময় তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন পৌর বিএনপির সহ-সভাপতি মোঃ মনিরুজ্জামান মনির, সদস্য এসএম লিটন, যুবদলের পৌর সদস্য সচিব মোঃ আব্দুল কাইয়ুম রিপন, ৪নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম, সহ-সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম ও ওয়ার্ড যুবদলের সভাপতি সাইফুল ইসলাম প্রমুখ।

Model Hospital

উল্লেখ্য, গত ২৬ জুলাই সন্ধ্যায় নাওড়া গ্রামের পাঠানবাড়িতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে বিধবা চম্পা বেগমের বসতঘর সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়ে যায়। ঘরে থাকা আসবাবপত্র, পোশাক, প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ আনুমানিক ছয় লক্ষ টাকার সম্পদ পুড়ে যায়।

অগ্নিকাণ্ডের পর থেকে চম্পা বেগম খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। তাঁর একমাত্র মেয়ে মাইমুনা নরিন ঋতু ঢাকায় একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে অনার্স প্রথম বর্ষে পড়াশোনা করছেন, অন্যের সহায়তায়।

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, ফারুক হোসেন মিয়াজির এই মানবিক পদক্ষেপ সমাজের অন্যান্য বিত্তবানদেরও অনুপ্রাণিত করবে এবং আরও সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেবে।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’