শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩
শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩

তারেক রহমানের ৩১ দফা বাস্তবায়ন হলে দেশ এগিয়ে যাবে : চাঁদপুরে আজম খান

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: শুক্রবার, ১ আগস্ট, ২০২৫, ৬:১৫ পিএম
তারেক রহমানের ৩১ দফা বাস্তবায়ন হলে দেশ এগিয়ে যাবে : চাঁদপুরে আজম খান
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির অন্যতম সদস্য ও চাঁদপুর জেলা বিএনপির উপদেষ্টা মোঃ আজম খান বলেছেন, আধুনিক এবং স্বনির্ভর বাংলাদেশ বিনির্মাণে তারেক রহমানের প্রস্তাবিত ৩১ দফা আমাদের জন্য নতুন আলোর দিশা। এই ৩১ দফা বাস্তবায়ন হলে আমাদের দেশ এগিয়ে যাবে। অণ্য-বস্তু, শিক্ষা, স্বাস্থ্য,সংস্কৃতিসহ মানুষের সকল মৌলিক অধিকার বাস্তবায়ন হবে। তাই ৩১ দফা বাস্তবায়ন করতে হলে আমাদের সবাইকে আগামী জাতীয় নির্বাচনে ধানের শীষকে বিজয়ী করতে হবে।
বৃহষ্পতিবার (৩১ জুলাই) বিকেলে চাঁদপুরে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ঘোষিত রাষ্ট্র কাঠামো মেরামতের ৩১ দফা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে চাঁদপুরে লিফলেট বিতরণ এবং পথসভায় তিনি এ কথা বলেন। তিনি বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত সহস্রাধিক নেতাকর্মীদের সাথে নিয়ে চাঁদপুর সদর উপজেলার মৈশাদী ইউনিয়নের বিভিন্ন হাটবাজার মানুষের দ্বারে দ্বারে ছুটে যান। এসময় তিনি প্রতিটি হাটবাজারে মানুষের কাছে গিয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সালাম এবং তার ঘোষিত ৩১ দফার লিফলেট তুলে দেন।
চাঁদপুর-৩ আসন থেকে ধানের শীষ প্রতীকে মনোনয়ন প্রত্যাশী আজম খান আরো বলেন, এই ৩১ দফা শুধু বিএনপির কর্মসূচি নয়, এটি গোটা বাঙালি জাতির গণতান্ত্রিক মুক্তির ইশতেহার। যেখানে ‘‘প্রতিহিংসা ও প্রতিশোধের রাজনীতির বিপরীতের কথা বলা হয়েছে।‌যেখানে একটি বৈষম্যহীন ও সম্প্রীতির রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করার কথা বলা হয়েছে। আমাদের নেতা জনাব তারেক রহমান এই ৩১ দফা ঘোষণার মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ বিনির্মাণের দায়িত্ব কাঁধে নিয়েছেন।”
তিনি বলেন, ” স্বৈরাচার ফ্যাসিস্ট হাসিনা বাহিনীর দমন-পীড়নে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া দীর্ঘদিন কারা যাপন করেছেন। কিন্তু তিনি অন্যায়ের কাছে আপোষ করেননি। ফলে তিনি আজও গণতন্ত্রের প্রতীক হিসেবে বাংলাদেশের আপামর জনতার হৃদয় জায়গা করে নিয়েছেন। ‌বেগম খালেদা জিয়া এবং শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সুযোগ্য সন্তান তারেক রহমানের হাতকে শক্তিশালী করতে হলে আমাদের প্রতিটা নেতা কর্মীকে রাজপথ ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। ‌
আজম খান বলেন, গত ১৫ বছর স্বৈরাচার আওয়ামী লীগের দুঃশাসনের শিকার হয়ে বিএনপির অসংখ্য নেতাকর্মী শহীদ হয়েছেনড় গুম হয়েছেন এবং নির্যাতন নিপীড়নের শিকার হয়েছেন। অনেক নেতাকর্মীকে কারাবন্দি রেখে নির্যাতন করা হয়েছে, তার বাবা-মায়ের জানাজায়ও আসতে দেয়া হয়নি। ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকার আমার বিরুদ্ধেও অনেকগুলো মিথ্যে মামলা দিয়েছে। আমাকে ভিসা পাসপোর্ট দেয়নি‌। আমার পরিবারকে বাংলাদেশ আসতে দেয়নি। যার ফলে দীর্ঘ সময় ধরে আমি আপনাদের কাছ থেকে দূরে ছিলাম।
তিনি আরো বলেন, আমি এই এলাকার সন্তান, এই মাটির সন্তান। আমি আপনাদের কাছে ফিরে এসেছি এবং আমৃত্যু আপনাদের পাশে থাকবো। আমি কোন নেতা নই, আমার নেতা তারেক রহমান। আমি আপোষী নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কর্মী। আমরা সবাই মহান স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আদর্শের উত্তরসূরী। আগামী দিনে আমরা সবাই মিলে ধানের শীষকে বিজয়ী করতে একসাথে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করব।
এসময় চাঁদপুর সদর উপজেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি মোঃ শাহাদাত খান, সাবেক ছাত্রনেতা এমদাদুল হক মিলন, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান অলি পাটোয়ারী, বিএনপি নেতা শাহাদাত খান, রাশেদ জাহান তুষার খানসহ বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদলসহ সকল অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’