শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩
শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩

অক্সিজেন শেষ, নবজাতক বিপদে-নদীর বুক চিরে ছুটে এলো কোস্ট গার্ড !

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: রবিবার, ১৭ আগস্ট, ২০২৫, ১২:১৬ এম
অক্সিজেন শেষ, নবজাতক বিপদে-নদীর বুক চিরে ছুটে এলো কোস্ট গার্ড !

শনিবার ভোরে ভোলা থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দেয় এম ভি দোয়েল পাখি-১০ লঞ্চ। যাত্রীদের ভিড়ে ছিলো মাত্র এক দিনের এক নবজাতক—নিঃশ্বাস নিতে হিমশিম খাচ্ছে, সাথে ছিলো অক্সিজেন সিলিন্ডার। লক্ষ্য ছিলো উন্নত চিকিৎসার জন্য দ্রুত ঢাকায় পৌঁছানো।

কিন্তু ভাগ্য যেন হঠাৎই থেমে গেল। লঞ্চ যখন মুন্সীগঞ্জ ছাড়িয়ে এগোচ্ছে, তখন অক্সিজেন শেষ হয়ে যায়। সময়টা ছিলো প্রতিটি সেকেন্ডের লড়াই। পরিবারের কেউ দেরি না করে কল দেয় ৯৯৯ এ।

এরপর যা ঘটলো—এটা শুধু একটা ঘটনা নয়, এটা এই দেশের মানবিক মুখের প্রতিচ্ছবি।
৯৯৯ সঙ্গে সঙ্গে খবর পৌঁছে দেয় বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডকে। কয়েক মিনিটের মধ্যে নদীর বুক চিরে ছুটে আসে একটি স্পিডবোট—সাথে নতুন অক্সিজেন সিলিন্ডার, প্রাথমিক চিকিৎসার সরঞ্জাম, আর দুইজন প্রশিক্ষিত সদস্য। তারা লঞ্চে উঠে নবজাতকের পাশে দাঁড়ায়, শ্বাসের প্রতিটি ওঠানামা মনিটর করে, যেন শিশুটি এক মুহূর্তও একা না থাকে।

লঞ্চ পৌঁছায় সদরঘাটে। ঘাটেই অপেক্ষা করছিলো কোস্ট গার্ডের অ্যাম্বুলেন্স—এক মুহূর্ত দেরি না করে নবজাতককে নিয়ে ছুটে যায় হাসপাতালে।

Model Hospital

অন্ধকারের ভেতরেও কিছু আলো থাকে। চারপাশে যখন নেতিবাচক খবরে আমরা ক্লান্ত, তখন এমন একটি ঘটনার খবর হৃদয়ে নতুন বিশ্বাস জাগায়—এই দেশ এখনো মানুষের, এই দেশ এখনো বাঁচিয়ে রাখে স্বপ্ন।

অসংখ্য কৃতজ্ঞতা বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড ও ন্যাশনাল ইমারজেন্সি হেল্পলাইন ৯৯৯-কে। আপনারা শুধু দায়িত্ব পালন করেননি, আপনারা এক নবজাতকের জীবন বাঁচিয়েছেন, আর আমাদের সবাইকে মনে করিয়ে দিয়েছেন, মানবিকতা এখনো বেঁচে আছে।

খেয়াঘাটে ‘রান ফর লাইফ’, সুস্থতার বার্তা নিয়ে ৩ কিলোমিটার দৌড়

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:৫৭ পিএম
খেয়াঘাটে ‘রান ফর লাইফ’, সুস্থতার বার্তা নিয়ে ৩ কিলোমিটার দৌড়

মানুষের মধ্যে স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি, নিয়মিত শরীরচর্চায় উৎসাহিত করা এবং সুস্থ জীবনযাপনের বার্তা ছড়িয়ে দিতে চাঁদপুরের শাহরাস্তিতে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘রান ফর লাইফ’ শীর্ষক ৩ কিলোমিটার ফান রান। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সকাল ৬টায় উপজেলার পরিচিত পর্যটনকেন্দ্র খেয়াঘাট এলাকায় এ আয়োজন করা হয়।

ভোরের নির্মল পরিবেশে আয়োজিত এ দৌড়ে অংশগ্রহণকারীদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতিতে প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে শাহরাস্তি ওয়াকওয়ে। শরীরচর্চার পাশাপাশি আনন্দ ও সুস্থতার বার্তা ছড়িয়ে দেওয়াই ছিল এ আয়োজনের মূল লক্ষ্য।

‘Vital Mahadi Run’ পেজের অ্যাডমিন মো. মেহেদী হাসান এবং ‘মানুষের কথা’ পেজের অ্যাডমিন মো. সোহেল আহমেদের যৌথ উদ্যোগে এ ফান রানের আয়োজন করা হয়। অংশগ্রহণকারীদের রিপোর্টিং সময় ছিল ভোর সাড়ে ৫টা।

আয়োজকেরা জানান, শাহরাস্তি ওয়াকওয়ের সূচীপাড়া ব্রিজ-সংলগ্ন স্থান থেকে দৌড় শুরু হয়। সেখান থেকে রানাররা গন্দপুর ব্রিজ পর্যন্ত প্রায় দেড় কিলোমিটার এগিয়ে যান। পরে ইউ-টার্ন নিয়ে একই পথে ফিরে এসে মোট ৩ কিলোমিটার দৌড় সম্পন্ন করেন।

Model Hospital

আয়োজনটিতে ফুড স্পন্সর হিসেবে সহযোগিতা করে ‘ইলশে বাড়ি’। প্রতিষ্ঠানটি চাঁদপুরের ঐতিহ্যবাহী ইলিশ সারা দেশে সরবরাহ করে থাকে।

অন্যদিকে, মেডেল স্পন্সর হিসেবে সহযোগিতা করেন শাহরাস্তির মেহের উত্তর ইউনিয়নের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মো. লোকমান হোসেন মুন্সী। তাঁর পক্ষ থেকে অংশগ্রহণকারীদের জন্য কাস্টমাইজড মেডেলের ব্যবস্থা করা হয়। মেডেল পেয়ে রানারদের মধ্যে বাড়তি উৎসাহ ও আনন্দ দেখা যায়।

আয়োজকেরা আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের আয়োজন তরুণসহ বিভিন্ন বয়সী মানুষকে নিয়মিত শরীরচর্চায় আগ্রহী করে তুলবে। পাশাপাশি স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি ও সুস্থ সমাজ গঠনে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

আয়োজকদের প্রত্যাশা, ‘রান ফর লাইফ’-এর এই উদ্যোগ ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে এবং আরও বেশি মানুষকে সুস্থ জীবনযাপনে উদ্বুদ্ধ করবে।

‘রান ফর লাইফ’-এর প্রত্যয়—সুস্থ শরীর, সুন্দর সমাজ।