শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

মান সম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে একসাথে কাজ করতে হবে : ইউএনও মাহমুদা মনি

মনিরুল ইসলাম মনির প্রকাশিত: শনিবার, ২৩ আগস্ট, ২০২৫, ৯:৩৬ পিএম
মান সম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে একসাথে কাজ করতে হবে : ইউএনও মাহমুদা মনি

মতলব উত্তরের মোহনপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার মানোন্নয়ন বিষয়ক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহমুদা কুলসু মনি।

মতলব উত্তর উপজেলার দশানী-মোহনপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের ৯ম-১০ম শ্রেনীর শিক্ষার্থী, স্কুলের শিক্ষক, অভিভাবক ও স্কুলের প্রাক্তন শিক্ষার্থী প্রতিনিধিদের নিয়ে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।

শনিবার (২৩ আগষ্ট) সকালে উপজেলার দশানী-মোহনপুর উচ্চ বিদ্যালয় অডিটরিয়ামে সাবেক ব্যাংকার শফিকুল ইসলাম ঢালী’র সভাপতিত্বে এবং অগ্রনী ব্যাংক মতলব বাজার শাখার ম্যানেজার মাহফুজ মিয়ার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন, উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহমুদা কুলসুম মনি।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশ ইঞ্জিনিয়ারিং এসোসিয়েশনের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও দশানী-মোহনপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী ইঞ্জিনিয়ার মিয়া মোহাম্মদ কাইয়ুম, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাবেক উপ-মহাব্যবস্থাপক পরেশ চন্দ্র সরকার, রাজউজ কর্মকর্তা-কর্মচারী অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি আওরাঙ্গজেব নান্নু, উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক শামসুজ্জামান ডলার, স্কুল পরিচালনা কমিটির সাবেক সদস্য রুহুল আমিন, ফারুকুল ইসলাম মৃধা, সাবেক শিক্ষার্থী ও অভিভাবক রমজান আল মামুন, খোরশেদ আলম, লাকি আক্তার, দেলোয়ার হোসেন, কবির তপাদার, খোরশেদ আলম, সোলাইমান, শিক্ষার্থী মারিয়া আক্তার, একরামুল হক শাওন।

প্রধান অতিথি তাঁর বক্তব্যে বলেন, প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে টিকে থাকতে এখন আর গতানুগতিক শিক্ষা কোন কাজেই আসবে না। আমাদের প্রয়োজন মানসম্মত শিক্ষা বা যুগোপযোগী শিক্ষা। এই যুগোপযোগী শিক্ষা নিশ্চিত করতে শুধু শিক্ষকরা একা কাজ করলে হবে না। এটা একটি সম্মেলিত কার্যক্রম। শিক্ষক, শিক্ষার্থী আর অভিভাবক সকলের সম্মেলিত প্রয়াসের মাধ্যমেই মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। অর্থাৎ, মান সম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে সকলকে একসাথে কাজ করতে হবে।

Model Hospital

বাংলাদেশ ইঞ্জিনিয়ারিং এসোসিয়েশনের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও দশানী-মোহনপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী ইঞ্জিনিয়ার মিয়া মোহাম্মদ কাইয়ুম বলেন, এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি আমাদের ঐতিহ্য এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি আমাদের অস্তিত্ব। আমাদের এই ঐতিহ্য আজ বিলীন হওয়ার পথে। কাজেই, আদের প্রিয় স্কুলটির হারানো ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে আমাদেরকেই ঐক্যবদ্ধ ভাবে কাজ করতে হবে। তাই আসুন, আমরা সকলে ঐক্যবদ্ধভাবে স্কুলের হারানো ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে কাজ করি।

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাবেক উপ-মহাব্যবস্থাপক পরেশ চন্দ্র সরকার তাঁর বক্তব্যে বলেন, যে কোন কাজে ছোটখাটো প্রতিবন্ধকতা থাকতেই পারে। সকল বাধা বিগ্ন পেরিয়ে আমাদের স্কুলে শিক্ষার মান নিশ্চিত করতে হবে।
স্কুলের শিক্ষার মান নিশ্চিত করতে এখানে শিক্ষা উপযোগী পরিবেশ নিশ্চিত করা, অভিভাবকদের সচেতন করা, প্রয়োজনে সাবেক শিক্ষার্থীদের অর্থায়নে অতিরিক্ত শিক্ষক নিয়োগ দিয়ে বার্তি সহযোগীতাকরা সহ শিক্ষকদের সকল ধরনের সহযোগিতা করা হবে। স্কুলের ভালো ফলাফলের জন্য আমরা যেকোনো ধরনের সহযোগীতা করতে প্রস্তুত।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’