শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

রিয়াদে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে প্রবাস বাংলা প্রিমিয়ার লীগ ক্রিকেট টুর্নামেন্ট

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, ৩:৪১ পিএম
রিয়াদে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে প্রবাস বাংলা প্রিমিয়ার লীগ ক্রিকেট টুর্নামেন্ট

সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের মরুর বুকে এ প্রথম (পিবিপিএল) শুরু হচ্ছে এবারের ক্রিকেট আসরে বাংলাদেশের ১৬ টি জেলার ১৬টি ক্রিকেট দল অংশ নিচ্ছে। প্রবাস বাংলা প্রিমিয়ার লিগের প্রধান উদ্যোক্তা হলেন চাঁদপুর ফরিদগঞ্জ উপজেলার কৃতি সন্তান প্রবাসী ইনভেস্টর মকবুল হোসেন ।

তার সাথে রয়েছে কার্যকরী সদস্য এক ঝাঁক তরুণ উদ্যোক্তা স্বপন আহমেদ হৃদয়, সালাউদ্দিন আহমেদ সহ আরো অনেকেই।

এবারের ক্রিকেট আসরে ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর হিসেবে বাংলাদেশের জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবাল, মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ এবং পাকিস্তানের ক্রিকেটার শহীদ আফ্রিদি সহ ৫০ জন আইকনিক ক্রিকেটার খেলার মাঠে উপস্থিত থাকবেন বলে আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানা গেছে।

চাঁদপুর সুলতানস ক্রিকেট দলের মিডিয়া সাপোর্টার হিসেবে প্রধান দায়িত্বে রয়েছেন চাঁদপুর শাহরাস্তি উপজেলার পৌরসভা ১১ নং ওয়ার্ড আলোকিত কৃষ্ণপুর পাটোয়ারী বাড়ি গ্রামের কৃতি সন্তান বিশিষ্ট সাংবাদিক, সাংস্কৃতিক সংগঠক, টেলিভিশন অভিনেতা, উপস্থাপক, কবি ও লেখক রোটারিয়ান মোঃ জাহাঙ্গীর আলম হৃদয়।

Model Hospital

হৃদয় এর সাথে এই বিষয়ে কথা বললে তিনি জানান আমার চাঁদপুর আমাদের অহংকার।

আমি যদিও ক্রীড়াঙ্গনের সাথেই সম্পৃক্ত থেকেই এক সময় কাজ করেছি ,প্রবাসের মাটিতে কর্মময় জীবনের ফাঁকে সাংস্কৃতিক চর্চা, গণমাধ্যম চর্চার পাশাপাশি প্রবাস বাংলা প্রিমিয়ার লীগ আয়োজিত ক্রিকেট টুর্নামেন্টে চাঁদপুর সুলতানস ক্রিকেট ম্যানেজমেন্ট মিডিয়া ব্যক্তিত্ব হিসেবে আমাকে যে দায়িত্ব দিয়েছেন আমি তাদের সবাইকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি।

একই সঙ্গে বলবো প্রবাসের মাটিতে চাঁদপুর সুলতানস যে ক্রিকেট দল রয়েছে সেটি ভালোভাবে খেলবে এবং জয় পরাজয় থাকবে তবুও জয়ের আশায় সবাই খেলায় অংশগ্রহণ করেন ,আমরা আশা করি চাঁদপুর সুলতানস দর্শকদের ভালো খেলা উপহার দিবে, সুশৃঙ্খলভাবে সেটাই আমাদের প্রত্যাশা সকলের কাছে।

চাঁদপুর সুলতানস ক্রিকেট খেলা যখনই হবে চাঁদপুরে ৮টি উপজেলা সকল প্রবাসী ভাইদের বলবো খেলার মাঠে উপস্থিত থেকে নিজের জেলার ক্রিকেট দলকে উৎসাহ প্রদান করার জন্য।

আগামী ২১ সেপ্টেম্বর চাঁদপুর সুলতানস বনাম বরিশাল বাদশা টিমের সঙ্গে প্রথম ম্যাচ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। আশা করি চাঁদপুর টিম ভালো করবে খেলায়।

চাঁদপুর সুলতানস ক্রিকেট টিমের মিডিয়া পার্টনার হিসেবে রয়েছে বেসরকারি স্যাটেলাইট চ্যানেল মোহনা টেলিভিশন, দৈনিক চাঁদপুর কন্ঠ এবং চাঁদপুর ট্রিবিউন।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’