শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

শাহরাস্তিতে গার্ড ওয়াল ছাড়াই প্রকল্পের পুরো বিল উত্তোলন করলেন দুই ইউপি সদস্য?

মোহাম্মদ মোশারফ হোসেন প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, ৮:২৪ পিএম
শাহরাস্তিতে গার্ড ওয়াল ছাড়াই প্রকল্পের পুরো বিল উত্তোলন করলেন দুই ইউপি সদস্য?
চাঁদপুরের শাহারাস্তি উপজেলার টামটা উত্তর ইউনিয়নে গার্ড ওয়াল নির্মাণে ভয়াবহ অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। মাত্র কয়েকটি পিলার বসিয়েই পুরো প্রকল্পের অর্থ তুলে নিয়েছেন স্থানীয় দুই ইউপি সদস্য। এ ঘটনায় সরাসরি সহযোগিতা করেছে তৎকালীন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) সবুজ তালুকদার। ফলে সরকারের বরাদ্দকৃত উন্নয়ন প্রকল্প কার্যত কাগজে-কলমেই শেষ হয়ে গেছে।

জানা যায়, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে কাবিটা প্রকল্পের আওতায় ৩ লাখ ৪০ হাজার টাকা ব্যয়ে ১৫০ ফুট দৈর্ঘ্যের গার্ড ওয়াল নির্মাণের অনুমোদন দেওয়া হয়। প্রকল্পের সভাপতি করা হয় স্থানীয় মহিলা ইউপি সদস্য সাহিদা বেগমকে এবং সহ-সদস্য ছিলেন ইউপি সদস্য কামাল হোসেন। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, কাজ শেষ না করেই তারা পুরো বিল তুলে নেন।

সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, খালের পাশে মাত্র কয়েকটি পিলার বসানো হলেও প্রকৃত কোনো গার্ড ওয়াল নির্মিত হয়নি। আশপাশে কোনো ইট, বালু, সিমেন্ট বা নির্মাণসামগ্রীর চিহ্ন নেই। স্থানীয়দের দাবি, সর্বোচ্চ ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে, অথচ প্রকল্পের সম্পূর্ণ অর্থ তুলে নেওয়া হয়েছে।

জানা যায়, এই অনিয়মে সহযোগিতা করেছেন তৎকালীন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা সবুজ তালুকদার । স্থানীয়দের অভিযোগ, বদলির আগেই নিজের কমিশন বাগিয়ে নিতে নিয়মনীতি তোয়াক্কা না করে।  তিনি অসম্পূর্ণ কাজের পূর্ণ বিল অনুমোদন করেন। ফলে সরকারি অর্থ লুট হলেও স্থানীয় জনগণ কোনো সুফল পাননি।

Model Hospital

একজন প্রবীণ স্থানীয় বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমরা তো ভেবেছিলাম গার্ড ওয়াল হলে বর্ষায় রাস্তা ভাঙবে না। কিন্তু এখন শুধু পিলার দাঁড় করিয়ে টাকা তুলে নিলো। রাস্তা ভাঙতে শুরু করেছে, বাচ্চা-কাচ্চা স্কুলে যাওয়া কষ্টকর হয়ে গেছে।

এ বিষয়ে মহিলা ইউপি সদস্য সাহিদা বেগম বলেন, “কাজ তো আমরা করব। সেই জন্য টাকা তুলে এনেছি। পিআইও চলে যাবে, তাই অনুরোধ করেছি। পরে তিনি পুরো ৩ লাখ ৪০ হাজার টাকা দিয়েছেন।”

ইউপি সদস্য কামাল হোসেন মোবাইলে জানান, “ভাই, পানির কারণে কাজ করতে পারি নাই। একটু সময় দিন, আমি কাজ শেষ করে দেব।

বর্তমান উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) আশেকুর রহমান বলেন,আমি বিষয়টি খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাজিয়া হোসেন বলেন, প্রথমে বরাদ্দকৃত কাজ সম্পন্ন করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। এরপরও যদি অনিয়ম প্রমাণিত হয়, সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

বর্ষা মৌসুমে অসম্পূর্ণ গার্ড ওয়াল এবং ভাঙা রাস্তা স্থানীয়দের জীবনকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলেছে। প্রতিদিন শিশু, নারী, বৃদ্ধ সবাইকে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। স্থানীয়দের একটাই দাবি দ্রুত গার্ড ওয়াল নির্মাণের কাজ শেষ করা হোক এবং অনিয়মে জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হোক, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্নীতি আর কেউ করার সাহস না পায়।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’