শাহরাস্তিতে গার্ড ওয়াল ছাড়াই প্রকল্পের পুরো বিল উত্তোলন করলেন দুই ইউপি সদস্য?

জানা যায়, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে কাবিটা প্রকল্পের আওতায় ৩ লাখ ৪০ হাজার টাকা ব্যয়ে ১৫০ ফুট দৈর্ঘ্যের গার্ড ওয়াল নির্মাণের অনুমোদন দেওয়া হয়। প্রকল্পের সভাপতি করা হয় স্থানীয় মহিলা ইউপি সদস্য সাহিদা বেগমকে এবং সহ-সদস্য ছিলেন ইউপি সদস্য কামাল হোসেন। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, কাজ শেষ না করেই তারা পুরো বিল তুলে নেন।

সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, খালের পাশে মাত্র কয়েকটি পিলার বসানো হলেও প্রকৃত কোনো গার্ড ওয়াল নির্মিত হয়নি। আশপাশে কোনো ইট, বালু, সিমেন্ট বা নির্মাণসামগ্রীর চিহ্ন নেই। স্থানীয়দের দাবি, সর্বোচ্চ ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে, অথচ প্রকল্পের সম্পূর্ণ অর্থ তুলে নেওয়া হয়েছে।

জানা যায়, এই অনিয়মে সহযোগিতা করেছেন তৎকালীন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা সবুজ তালুকদার । স্থানীয়দের অভিযোগ, বদলির আগেই নিজের কমিশন বাগিয়ে নিতে নিয়মনীতি তোয়াক্কা না করে। তিনি অসম্পূর্ণ কাজের পূর্ণ বিল অনুমোদন করেন। ফলে সরকারি অর্থ লুট হলেও স্থানীয় জনগণ কোনো সুফল পাননি।

একজন প্রবীণ স্থানীয় বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমরা তো ভেবেছিলাম গার্ড ওয়াল হলে বর্ষায় রাস্তা ভাঙবে না। কিন্তু এখন শুধু পিলার দাঁড় করিয়ে টাকা তুলে নিলো। রাস্তা ভাঙতে শুরু করেছে, বাচ্চা-কাচ্চা স্কুলে যাওয়া কষ্টকর হয়ে গেছে।
এ বিষয়ে মহিলা ইউপি সদস্য সাহিদা বেগম বলেন, “কাজ তো আমরা করব। সেই জন্য টাকা তুলে এনেছি। পিআইও চলে যাবে, তাই অনুরোধ করেছি। পরে তিনি পুরো ৩ লাখ ৪০ হাজার টাকা দিয়েছেন।”
ইউপি সদস্য কামাল হোসেন মোবাইলে জানান, “ভাই, পানির কারণে কাজ করতে পারি নাই। একটু সময় দিন, আমি কাজ শেষ করে দেব।
বর্তমান উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) আশেকুর রহমান বলেন,আমি বিষয়টি খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাজিয়া হোসেন বলেন, প্রথমে বরাদ্দকৃত কাজ সম্পন্ন করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। এরপরও যদি অনিয়ম প্রমাণিত হয়, সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
বর্ষা মৌসুমে অসম্পূর্ণ গার্ড ওয়াল এবং ভাঙা রাস্তা স্থানীয়দের জীবনকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলেছে। প্রতিদিন শিশু, নারী, বৃদ্ধ সবাইকে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। স্থানীয়দের একটাই দাবি দ্রুত গার্ড ওয়াল নির্মাণের কাজ শেষ করা হোক এবং অনিয়মে জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হোক, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্নীতি আর কেউ করার সাহস না পায়।








