শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

মুন্সিগঞ্জ ইতিহাস পরিষদ-২০২৫ সম্মাননা পাচ্ছেন কাদের পলাশ

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: বুধবার, ৮ অক্টোবর, ২০২৫, ১০:৩৪ পিএম
মুন্সিগঞ্জ ইতিহাস পরিষদ-২০২৫ সম্মাননা পাচ্ছেন কাদের পলাশ

ইতিহাস চর্চায় অবদান রাখায় মুন্সিগঞ্জ ইতিহাস পরিষদ-২০২৫ সম্মাননা পাচ্ছেন লেখক ও লোকগবেষক সাংবাদিক কাদের পলাশ। সম্প্রতি এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন মুন্সিগঞ্জ ইতিহাস পরিষদ এর সভাপতি গোলাম আশরাফ খান উজ্জ্বল। এছাড়াও ইতিহাস চর্চায় অবদান রাখায় এ সম্মাননা পাচ্ছেন আরো দুজন। এঁরা হলেন নওগাঁর অধ্যাপক শরিফুল ইসলাম খান ও মুন্সিগঞ্জের রমজান মাহমুদ।

গোলাম আশরাফ খান উজ্জ্বল বলেন, কাদের পলাশ সহ অন্য যে দুজন সম্মাননা পাচ্ছেন তাঁরা দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইতিহাস তথা তথ্য সংগ্রহের কাজে নিবেদিত প্রাণ মানুষ। আমরা তাদের সম্মাননা জানাতে পেরে আনন্দিত। আগামি ১৬ অক্টোবর বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টায় মুন্সিগঞ্জ শিল্পকলা একাডেমিতে আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের এ সম্মাননা জানানো হবে।

তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় লেখক ও সাংবাদিক কাদের পলাশ বলেন, প্রকৃত অর্থে একটি দেশের ইতিহাস-ঐহিত্য নিয়ে কাজ করার বিশেষ আনন্দ আছে। কাজ করছি। সম্মাননা পাওয়া মূখ্য বিষয় নয়, তবে কাজের সাথে স্বীকৃতি পেলে চর্চা বেগবান হয়। আমাকে মুন্সিগঞ্জ ইতিহাস পরিষদ-২০২৫ সম্মাননা প্রদানে মনোনীত করায় কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ প্রকাশ করছি।

কাদের পলাশ গেল বছর অনূপ্রাণন তরুণ পাণ্ডুলিপি পুরস্কার-২০২৪ সহ সাহিত্যচর্চা ও সাংবাদিকতায় অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ একাধিক পুরস্কার ও সম্মাননা লাভ করেন।

Model Hospital

তিনি একাধারে কবি, গীতিকার, গল্পকার, লোকগবেষক, সাংবাদিক ও সংগঠক। সাহিত্য একাডেমি, চাঁদপুর এর মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। কাদের পলাশের কিশোর বয়সে লেখালেখির হাতেখড়ি হলেও তার সাহিত্য কর্ম পত্রিকায় প্রথম প্রকাশ ২০০৭ সালে। একই বছর সাংবাদিকতায় পথ চলা শুরু হলেও ২০০৯ সাল থেকে মাঠপর্যায়ে সাংবাদিকতা শুরু করেন। তিনি ২০১২ সাল থেকে টেলিভিশনে সাংবাদিকতা শুরু করেন। বর্তমানে যমুনা টিভির স্টাফ রিপোর্টার হিসেবে কাজ করছেন।

২০১৯-২০২৪ পর্যন্ত দৈনিক শপথ পত্রিকার প্রকাশক ও সম্পাদক বর্তমানে পত্রিকাটির সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ২০১৪ সাল থেকে চাঁদপুর প্রেসক্লাব ও টেলিভিশন সাংবাদিক ফোরাম এর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে আসীন হয়েছেন। ২০২২ সাল থেকে চাঁদপুর টেলিভিশন সাংবাদিক ফোরাম এবং ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে চাঁদপুর প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন। (২০১৫-২০১৭) চাঁদপুর পৌরসভা কর্তৃক পরিচালিত একটি উচ্চ বিদ্যালয়ে ৩বছর শিক্ষকতা করেন। তিনি অর্থনীতিতে স্নাতকোত্তর এবং এলএলবি ডিগ্রি অর্জন করেন। কাদের পলাশ চাঁদপুর শহরে স্থায়ী বসবাস করলেও তার পৈত্রিক বাড়ি কচুয়ার বাসাবাড়িয়া গ্রামে। তার লেখা গল্প, কবিতা, উপন্যাস ও গবেষণাধর্মী বই প্রকাশ হয়েছে ১০টি।

কাদের পলাশের প্রকাশিত গ্রন্থ সমূহ হচ্ছে, গল্পগ্রন্থ : দীর্ঘশ্বাসের শব্দ (২০১৭), ইচ্ছেরা উড়ে গেছে (২০১৯), মেঘ উড়ে যাওয়ার পর (২০২৪)। কাব্যগ্রন্থ : স্মৃতির স্লোগান (২০২১)। উপন্যাস : রোদে পোড়া পালিশ (২০২২)। গবেষণা/সম্পাদনা : যাপনে উদ্যাপনে ইলিশ (২০১৯), বিরুদ্ধ স্রোতের মোহাম্মদ নাসিরউদ্দীন (২০২০), বিস্মৃতির চাঁদপুর (২০২০), দেড়শ বছরের সাংবাদিকতা ও চাঁদপুর (২০২৩), চাঁদপুরের সংস্কৃতি লোককথা ও অন্যান্য (২০২৪)।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’