শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩
শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩

৫ দফা দাবিতে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস চাঁদপুর জেলা শাখার স্মারকলিপি প্রদান

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: রবিবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৫, ৯:৫৭ পিএম
৫ দফা দাবিতে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস চাঁদপুর জেলা শাখার স্মারকলিপি প্রদান
জুলাই সনদ বাস্তবায়নসহ পাঁচ দফা দাবিতে অন্তবর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টার বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস চাঁদপুর জেলা শাখা। দলের কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে রোববার (১২ অক্টোবর) সকালে চাঁদপুর জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে এই স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। জেলা প্রশাসকের পক্ষে স্মারকলিপিক গ্রহণ করেন স্থানীয় সরকার উপ-পরিচাল (ডিডিএলজি) মোঃ গোলাম জাকারিয়া।
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস চাঁদপুর জেলা সভাপতি মাওলানা লিয়াকত হোসাইন বলেন, জনগণের আস্থা ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে এই ৫ দফা বাস্তবায়ন অপরিহার্য। এই দাবিসমূহ বাস্তবায়িত হলে জনগণের আস্থা পুনরুদ্ধার হবে, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে। আগামী ফেব্রুয়ারিতে অবাধ ও গ্রহণযোগ্য জাতীয় আয়োজন করা নির্বাচন সম্ভব হবে। যা বাংলাদেশকে একটি অনন্য উচ্চতায় আসীন করবে।

স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, জুলাই-গণঅভ্যুত্থানের পর জাতীয় ঐকমত্যের ভিত্তিতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠিত হলেও জনগণের প্রত্যাশা পূরণে জুলাই জাতীয় সনদ এখনো আইনগত ভিত্তি পায়নি। বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস মনে করে, এই সনদের আইনগত বৈধতা না দিলে অভ্যুত্থানের অর্জন ব্যর্থতায় পর্যবসিত হতে পারে। তাই জুলাই জাতীয় সনদের জন্য সংবিধান আদেশ জারি করা এবং নির্বাচনের পূর্বে গণভোটের মাধ্যমে সনদ বাস্তবায়ন করতে হবে। পতিত স্বৈরাচার  সরকার সময় গুম-খুন, দমন-পীড়ন এবং প্রহসনের নির্বাচনের মাধ্যমে গণতন্ত্রকে ধ্বংস করেছে। এজন্য  আওয়ামী লীগের দোসর জাতীয় পার্টিসহ ১৪ দলের রাজনীতি নিষিদ্ধ করতে হবে ।

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ঘোষিত ৫ দফা দাবিগুলো হলো: ১. জুলাই সনদের অবিলম্বে পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন। ২. জাতীয় পার্টি ও ১৪ দলের রাজনীতি নিষিদ্ধকরণ। ৩. আগামী নির্বাচনে প্রকৃত লেভেল-পে-ইং ফিল্ড নিশ্চিত করা। ৪. জুলাই গণহত্যার বিচার দৃশ্যমান করা। ৫. জাতীয় সংসদের উচ্চকক্ষে চার্জ (পিআর) পদ্ধতি বাস্তবায়ন।

স্মারকলিপি প্রদানকালে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস চাঁদপুর জেলা শাখার সহ-সভাপতি মাওলানা আব্দুল বাকী, মাওলানা আবুল বাশার, সাংগঠনিক সম্পাদক মুফতি নূরে আলম, অর্থ সম্পাদক হাফেজ ক্বারী রশিদ আহমদ, সহ-সমাজকল্যাণ সম্পাদক মাওলানা মাহমুদুল হাসান চাঁদপুরী, শহর শাখার সহ-সভাপতি মাওলানা আব্দুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক মাওলানা নুরুল ইসলাম, অর্থ সম্পাদক আব্দুস সুবহান, চাঁদপুর সদর উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক হাফেজ আব্দুল কাদের, বাংলাদেশ খেলাফত যুব মজলিস চাঁদপুর জেলা শাখার সভাপতি মাওলানা তারেক হাসান, সাংগঠনিক সম্পাদক হাফেজ মোজাম্মেল হোসাইন, প্রচার সম্পাদক মাওলানা হামিম, আমেলার সদস্য হাফেজ শরিফুল ইসলাম প্রমুখ।

Model Hospital

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’