শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

শাহরাস্তিতে মিড পয়েন্ট হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের উদ্বোধন

মোঃ মাসুদ রানা প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২৫, ১১:৩৮ পিএম
শাহরাস্তিতে মিড পয়েন্ট হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের উদ্বোধন
শাহরাস্তিতে আধুনিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার প্রত্যয়ে “শাহরাস্তি মিড পয়েন্ট ডায়াগনস্টিক সেন্টার অ্যান্ড হাসপাতাল (প্রাঃ)” এর শুভ উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৬ অক্টোবর ২০২৫) সকালে শাহরাস্তি উপজেলার কালিবাড়ি মাজার রোডে অবস্থিত হাসপাতাল প্রাঙ্গণে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।“Quality Care Always” — এই মূলমন্ত্রকে ধারণ করে গড়ে তোলা হাসপাতালটি উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে সেবা কার্যক্রম শুরু করে।
উক্ত অনুষ্ঠানে সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহকারী অধ্যাপক (মেডিসিন)  ডা. মুহাম্মদ রায়হান চৌধুরী। তিনি উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বলেন,“ মানসম্মত চিকিৎসা ও সময়োপযোগী ডায়াগনস্টিক সেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়াই এই প্রতিষ্ঠানের মূল লক্ষ্য। রোগীর সেবাই আমাদের অঙ্গীকার।”
চিতোষী শাহ শরীফ হাসপাতালে কর্ণধার কাজী কামাল হোসেনের  সঞ্চালনায় এতে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ জামায়েত ইসলামী চাঁদপুর শাখার যুগ্ম সম্পাদক মোঃ মাওঃ আবুল হোসাইন,ডা. আফতাব উদ্দিন  ভূঁইয়া, শাহরাস্তি পৌর বিএনপি’র সহ-সভাপতি মোঃ আবুল কালাম, সাবেক চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক  মোঃ হাবিবুর রহমান পাটোয়ারী,উপজেলা জামায়েত ইসলামের আমির মোঃ মোস্তাফা  কামাল, পৌর বিএনপি সাবেক আহবায়ক বেলায়েত হোসেন সেলিম, সাবেক চেয়ারম্যান মোঃ আনোয়ার হোসেন, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক মোঃ আলী আজগর মিয়াজী, উদ্যোক্তাদের মধ্যে আলী আজগর মোল্লা, হারুন অর রশিদ, মোহাম্মদ মানিক, ফিরোজ, নজরুল ইসলামসহ এলাকার স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, চিকিৎসক, সুধীজন ও গণমাধ্যম কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
প্রতিষ্ঠানটির পরিচালকবৃন্দ জানান, শাহরাস্তি ও আশপাশের এলাকাবাসীর স্বাস্থ্যসেবা সহজলভ্য করতে এখানে থাকবে অভিজ্ঞ চিকিৎসক, আধুনিক যন্ত্রপাতি ও উন্নতমানের পরীক্ষা-নিরীক্ষার ব্যবস্থা। ঠিকানা: ৪৪১, মাজার রোড, কালিবাড়ি, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দক্ষিণ-পূর্ব কোণ সংলগ্ন, শাহরাস্তি, চাঁদপুর।যোগাযোগ: ০১৩৩৯-৫৬৯৪১২, ০১৮১০-১৯৭১৩৫

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’