শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় সাংবাদিক হামজা মামলা থেকে পেলেন অব্যহতি

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: শনিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৫, ৫:৫৮ পিএম
অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় সাংবাদিক হামজা মামলা থেকে পেলেন অব্যহতি

চাঁদপুর জেলার শাহরাস্তি উপজেলার তরুণ সাংবাদিক রাফিউ হাসান হামজা রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়ে দায়ের হওয়া পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনের একটি মামলায় অবশেষে আদালতের মাধ্যমে সম্পূর্ণ অব্যাহতি পেয়েছেন।

আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, “মামলার অভিযোগপত্রে উপস্থাপিত তথ্য প্রমাণে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কোনো দায় প্রমাণিত হয়নি।”

২০২৪ সালের শুরুর দিকে হামজার বিরুদ্ধে শাহরাস্তি থানায় পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনের ৮(১)(ক)/৮(২) ধারা অনুযায়ী একটি মামলা দায়ের করা হয়। অভিযোগ ছিল— “তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় আপত্তিকর কনটেন্ট ছড়িয়েছেন,” যা ‘পর্নোগ্রাফি’ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করার চেষ্টা করা হয়।

তবে তদন্তে উঠে আসে, অভিযুক্ত কোনোভাবেই এ ধরনের কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ছিলেন না। মামলাটি ছিল উদ্দেশ্যমূলক, ভিত্তিহীন ও হয়রানিমূলক।

Model Hospital

তদন্তকারী কর্মকর্তার চূড়ান্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়—“অভিযোগে যে ঘটনার উল্লেখ রয়েছে, তার কোনো প্রযুক্তিগত প্রমাণ মেলেনি। অভিযুক্ত ব্যক্তি রাফিউ হাসান হামজা কোনো পর্নোগ্রাফিক কনটেন্ট তৈরি, প্রচার বা সংরক্ষণ করেননি। মামলার উদ্দেশ্য ছিল মূলত ব্যক্তি ও পেশাগত সম্মান ক্ষুণ্ন করা।”

চাঁদপুর চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত তদন্ত প্রতিবেদন গ্রহণ করে মামলাটি খারিজ করেন এবং পর্যবেক্ষণে বলেন—“এ ধরনের মামলা সাংবাদিকতার স্বাধীনতা ও ব্যক্তিগত নিরাপত্তার ওপর সরাসরি আঘাত। এটি যে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ছিল, তা তদন্তেই প্রমাণিত।”

মামলা থেকে ১ বছর ৫ মাস পর পুরোপুরি দায়মুক্তি পাওয়ার পর সাংবাদিক রাফিউ হাসান হামজা বলেন,

“আমি একজন সাংবাদিক, কোনোদিন ভাবিনি আমার বিরুদ্ধে এমন জঘন্য অভিযোগ আনা হবে। এটা ছিল পরিকল্পিত চরিত্রহননের চেষ্টা। তবে আমি শুরু থেকেই ন্যায়বিচারে আস্থা রেখেছি, আর শেষ পর্যন্ত সত্যই জিতেছে।”

তিনি আরও বলেন, “আমি মহান আল্লাহর কাছে হাজার শুকরিয়া আদায় করছি। আমার পরিবার, সহকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের প্রতি কৃতজ্ঞ যারা পুরো সময় আমার পাশে থেকেছেন। এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে আমি চুপ থাকিনি, ভবিষ্যতেও থাকব না। সাংবাদিকতা আমার পেশা নয়, এটা আমার দায়িত্ব।”

তার পক্ষে মামলা পরিচালনা করা আইনজীবী অ্যাডভোকেট সুমন মিয়া বলেন, “এই মামলা শুরু থেকেই রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে দায়ের করা হয়েছিল। তদন্তে কোনো ধরনের প্রমাণ না থাকায় আমরা আদালতে স্পষ্টভাবে তা তুলে ধরি। আদালতও সেটি গ্রহণ করে ন্যায়বিচার দিয়েছেন। একজন সাংবাদিক হিসেবে হামজা আজ তার মর্যাদা পুনরুদ্ধার করেছেন।”

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’