অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় সাংবাদিক হামজা মামলা থেকে পেলেন অব্যহতি
চাঁদপুর জেলার শাহরাস্তি উপজেলার তরুণ সাংবাদিক রাফিউ হাসান হামজা রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়ে দায়ের হওয়া পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনের একটি মামলায় অবশেষে আদালতের মাধ্যমে সম্পূর্ণ অব্যাহতি পেয়েছেন।

আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, “মামলার অভিযোগপত্রে উপস্থাপিত তথ্য প্রমাণে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কোনো দায় প্রমাণিত হয়নি।”

২০২৪ সালের শুরুর দিকে হামজার বিরুদ্ধে শাহরাস্তি থানায় পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনের ৮(১)(ক)/৮(২) ধারা অনুযায়ী একটি মামলা দায়ের করা হয়। অভিযোগ ছিল— “তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় আপত্তিকর কনটেন্ট ছড়িয়েছেন,” যা ‘পর্নোগ্রাফি’ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করার চেষ্টা করা হয়।

তবে তদন্তে উঠে আসে, অভিযুক্ত কোনোভাবেই এ ধরনের কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ছিলেন না। মামলাটি ছিল উদ্দেশ্যমূলক, ভিত্তিহীন ও হয়রানিমূলক।

তদন্তকারী কর্মকর্তার চূড়ান্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়—“অভিযোগে যে ঘটনার উল্লেখ রয়েছে, তার কোনো প্রযুক্তিগত প্রমাণ মেলেনি। অভিযুক্ত ব্যক্তি রাফিউ হাসান হামজা কোনো পর্নোগ্রাফিক কনটেন্ট তৈরি, প্রচার বা সংরক্ষণ করেননি। মামলার উদ্দেশ্য ছিল মূলত ব্যক্তি ও পেশাগত সম্মান ক্ষুণ্ন করা।”
চাঁদপুর চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত তদন্ত প্রতিবেদন গ্রহণ করে মামলাটি খারিজ করেন এবং পর্যবেক্ষণে বলেন—“এ ধরনের মামলা সাংবাদিকতার স্বাধীনতা ও ব্যক্তিগত নিরাপত্তার ওপর সরাসরি আঘাত। এটি যে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ছিল, তা তদন্তেই প্রমাণিত।”
মামলা থেকে ১ বছর ৫ মাস পর পুরোপুরি দায়মুক্তি পাওয়ার পর সাংবাদিক রাফিউ হাসান হামজা বলেন,
“আমি একজন সাংবাদিক, কোনোদিন ভাবিনি আমার বিরুদ্ধে এমন জঘন্য অভিযোগ আনা হবে। এটা ছিল পরিকল্পিত চরিত্রহননের চেষ্টা। তবে আমি শুরু থেকেই ন্যায়বিচারে আস্থা রেখেছি, আর শেষ পর্যন্ত সত্যই জিতেছে।”
তিনি আরও বলেন, “আমি মহান আল্লাহর কাছে হাজার শুকরিয়া আদায় করছি। আমার পরিবার, সহকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের প্রতি কৃতজ্ঞ যারা পুরো সময় আমার পাশে থেকেছেন। এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে আমি চুপ থাকিনি, ভবিষ্যতেও থাকব না। সাংবাদিকতা আমার পেশা নয়, এটা আমার দায়িত্ব।”
তার পক্ষে মামলা পরিচালনা করা আইনজীবী অ্যাডভোকেট সুমন মিয়া বলেন, “এই মামলা শুরু থেকেই রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে দায়ের করা হয়েছিল। তদন্তে কোনো ধরনের প্রমাণ না থাকায় আমরা আদালতে স্পষ্টভাবে তা তুলে ধরি। আদালতও সেটি গ্রহণ করে ন্যায়বিচার দিয়েছেন। একজন সাংবাদিক হিসেবে হামজা আজ তার মর্যাদা পুনরুদ্ধার করেছেন।”








