শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

মতলব উত্তরে পূর্ব লালপুর মফিজ খানের বাড়িতে বিএনপির উঠান বৈঠক

আওয়ামী লীগ সরকার দেশের অর্থনীতি ধ্বংস করে দিয়েছে : তানভীর হুদা

মনিরুল ইসলাম মনির প্রকাশিত: শনিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৫, ১০:০৫ পিএম
আওয়ামী লীগ সরকার দেশের অর্থনীতি ধ্বংস করে দিয়েছে : তানভীর হুদা

মতলব উত্তরে ষাটনল ইউনিয়নে অনুষ্ঠিত উঠান বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখছেন বিএনপি নেতা তানভীর হুদা।

চাঁদপুর জেলা বিএনপি’র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও চাঁদপুর-২ (মতলব উত্তর–দক্ষিণ) আসন থেকে বিএনপি’র মনোনয়ন প্রত্যাশী তানভীর হুদা বলেছেন, ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচন, ডিসেম্বরে তফসিল ঘোষণা, দেশ এখন নির্বাচনের পথে ধাবিত হচ্ছে।
বিএনপি নেতাকর্মীরা মানুষের আস্থা ও ভালোবাসা অর্জনের জন্য ঘরে ঘরে ছুটে যাচ্ছে। বিএনপি বিশ্বাস করে মানুষের ভোট ও সমর্থনের ওপর নির্ভর করে। আমরা যদি নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় যেতে পারি, তবে বাংলাদেশকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাব। তিনি বলেন, বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের সময় মানুষ ভোট দিতে পারেনি।
তাদের ভোট অধিকার হরণ করা হয়েছিল, দিনের ভোট রাতে দেওয়া হয়েছে। মানুষের ভোটাধিকার পুনরুদ্ধারের জন্য বিএনপির হাজারো নেতাকর্মী হত্যা ও গুমের শিকার হয়েছে।
বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের দল হচ্ছে বিএনপি।
ইতিমধ্যেই বিএনপি মহিলা দলের নেত্রীরা ধানের শীষের সালাম ও তারেক রহমানের ৩১ দফা দাবি লিফলেট আকারে ঘরে ঘরে পৌঁছে দিচ্ছেন।
তারেক রহমানের ঘোষিত ৩১ দফা ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে আর ৩১ দফা বাস্তবায়ন হলে দেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অধিকার রক্ষা হবে।
আওয়ামী লীগ সরকার দেশের অর্থনীতি ধ্বংস করে দিয়েছে। এ ভঙ্গুর অবস্থা থেকে দেশকে পুনরুদ্ধার করতে হলে তারেক রহমানের ঘোষিত ৩১ দফা বাস্তবায়ন করতেই হবে।
শনিবার (১৮ অক্টোবর) বিকেলে মতলব উত্তর উপজেলার ষাটনল ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের পূর্ব লালপুর মফিজ খানের বাড়িতে আয়োজিত বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ঘোষিত রাষ্ট্র কাঠামো সংস্কারের ৩১ দফা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে উঠান বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তানভীর হুদা বলেন, যারা যারা মাঠে বলে বেড়াচ্ছেন মনোনয়ন কনর্ফাম তাদের উদ্দেশ্য তাদেরকে বলতে চাই, বাকি খাইয়েন না পরে কিন্তু দোকান বাকি আমাদের থেকে নিয়ে দিতে হবে। বিএনপি পরিবার থেকে দিতে হবে সুতরাং সাবধান এখনকার মানুষ সবাই সচেতন ডিজিটাল যুগে আপনারা মানুষকে প্রতারিত করতে পারবেন না।
নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে তানভীর হুদা বলেন, মনোনয়ন দেওয়ার মালিক একমাত্র আল্লাহ। এই মনোনয়ন আমার নেতা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের মাধ্যমে জনপ্রিয় ও জনগনের সাথে সম্পৃক্ত এরকম কাউকেই মনোনয়ন দেওয়া হবে।
তিনি আরো বলেন, আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকেও নির্মম নির্যাতনের মাধ্যমে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু কোটি মানুষের দোয়া ও আল্লাহর রহমতে তারা আজও বেঁচে আছেন। যারা আমার নেতা তারেক রহমানের ওপর অত্যাচার করেছিল, তারা আজ ঘৃণিত ও নিষিদ্ধ দলে পরিণত হয়েছে। আওয়ামী লীগের ওপর মানুষের আস্থা উঠে গেছে, কারণ তারা মানুষের জন্য কাজ না করে লুটপাট, মামলা ও দখলবাজিতে লিপ্ত ছিল। বিএনপি নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তানভীর হুদা বলেন, মানুষের মন জয় করতে হলে মানুষের কাছে যেতে হবে, তাদের সমস্যা শুনতে হবে। দলের কোনো বাহাদুরি, চাঁদাবাজি বা দখলদারিত্ব চলবে না। মানুষের ভালোবাসাই হবে বিএনপির আসল শক্তি।
ষাটনল ইউনিয়ন বিএনপি ও সহযোগী অঙ্গসংগঠনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এই উঠান বৈঠকে বিএনপি নেতা ও সমাজ সেবক ডাঃ আবুল হাসেমের সভাপতিত্বে ও সাবেক ছাত্রনেতা জিয়া উদ্দীন মিয়াজীর সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, জেলা বিএনপি’র সাবেক সদস্য আলাউদ্দিন খান, ঢাকা নিউ মার্কেট থানা বিএনপির আহ্বায়ক লায়ন এস এম মতিউর রহমান, তেজগাঁও থানা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক হাফিজুর রহমান কবির, উপজেলা বিএনপির সাবেক সিনিয়র সহসভাপতি গোলাম সারোয়ার মজুমদার, ষাটনল ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক লিয়াকত আলী খোকন চৌধুরী, সাবেক ছাত্রনেতা কুদ্দুছ বেপারী, সাবেক ইউপি সদস্য ছমির আলী, উপজেলা সেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সদস্য সচিব শাহ আলম ভূইয়া প্রমুখ।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন, ছেংগারচর পৌর বিএনপি’র সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বিল্লাল ফরাজী, ফরাজীকান্দী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ইয়াছিন মোল্লা, উপজেলা যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আমির হোসেন আমু, পৌর যুবদলের সাবেক সভাপতি সিরাজ বেপারী, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মনির হোসেন মোল্লা, উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক মানিক ফরাজী, জেলা ছাত্রদলের সাবেক সদস্য আফসার উদ্দিন খান, উপজেলা যুবদল নেতা সফিক সরকার, গজরা ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক সভাপতি সাইফুল ইসলাম, জেলা যুবদলের সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক আবু তাহের সুমন, উপজেলা মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক ঝরনা আক্তার, সহসভাপতি পারুল আক্তার, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রাহিম বেগম, পৌর মহিলা দলের সভাপতি আনোয়ারা বেগমসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’