শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

চাঁদপুর-৩ আসনে বিএনপি নেতাকর্মীদের দুঃসময়ের অভিভাবক শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক : আক্তার মাঝি‌

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৫, ৯:৩১ পিএম
চাঁদপুর-৩ আসনে বিএনপি নেতাকর্মীদের দুঃসময়ের অভিভাবক শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক : আক্তার মাঝি‌
চাঁদপুর-৩ আসনে নির্বাচনী প্রচারণা কার্যক্রম এবং নবগঠিত পৌর ১৪ নং ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক দলের পরিচিতি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ২১ অক্টোবর মঙ্গলবার বিকেলে চাঁদপুর শহরের বাবুরহাট বাজারের একটি কমিউনিটি সেন্টারে এই আয়োজন করা হয়।

সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন চাঁদপুর পৌর বিএনপির সভাপতি আক্তার হোসেন মাঝি‌। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট হারুনুর রশীদ। সভায় প্রধান বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দল চাঁদপুর জেলা শাখার সদস্য সচিব শামসুল আরেফিন।

চাঁদপুর পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক সফিউদ্দিন বাবলুর সভাপতিত্বে এবং সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক কাউসার হামিদের পরিচালনায় বক্তব্য রাখেন, ১৪নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি বাবুল মাল, সাধারণ সম্পাদক মোঃ আলমগীর পাটোয়ারী, সহ-সভাপতি ডাক্তার সফিক, সাংগঠনিক সম্পাদক হান্নান বেপারী, পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক হুমায়ূন আহমেদ কাউসার, নয়ন খান, শাহাদাত হোসেন রুবেল, রাজিব দাস, রফিকুল ইসলাম, জাহিদ জমাদার।

আমন্ত্রিত অতিথিদের শুভেচ্ছা জানিয়ে বক্তব্য রাখেন, পৌর ১৪ নং ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক হাসান মাল, সদস্য সচিব খালেদুন বাবু।

Model Hospital

প্রধান অতিথির বক্তব্যে আক্তার হোসেন মাঝি‌ বলেন, বিএনপি’র নেতাকর্মীরা গত ১৭ বছর ধরে অনেক হামলা-মামলা এবং নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। দলের জন্য অনেক পরিশ্রম করেছেন। এখন সময় এসেছে পরিশ্রমের ফসল ঘরে তোলার। তাই এই মুহূর্ত আপনাদেরকে আরো বেশি পরিশ্রম করতে হবে। বিএনপি নিয়ে একটি রাজনৈতিক দল নানা অপপ্রচার চালাচ্ছে। তারা একসময় আমাদের রাজপথের বন্ধু ছিল। ক্ষমতার লোভে এই দলটি এখন শত্রুতে পরিণত হয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপি’র প্রতিটা নেতাকর্মীকে সতর্ক থাকতে হবে। মানুষের ঘরে ঘরে গিয়ে বেগম খালেদা জিয়া এবং তারেক রহমান সালাম পৌঁছে দিতে হবে।

তিনি আরো বলেন, এদেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণ এখনো বিএনপিকে ভালোবাসে। চাঁদপুর ৩ আসন সবসময় বিএনপির ঘাঁটি ছিল। চাঁদপুর-৩ আসনে আমাদের একমাত্র অভিভাবক জেলা বিএনপির সভাপতি শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক। তিনি বিগত ১৭ বছর রাজপথে আমাদের বিপদে-আপদে পাশে ছিলেন। অভিভাবকের মতো আমাদের আগলে রেখেছেন। এর বাইরে দলের দুঃসময়ে আমরা কোন নেতাকে পাশে পাইনি। তাই আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক ভাইকে আমাদের এমপি নির্বাচিত করে করতে হবে। মানিক ভাইকে এমপি নির্বাচিত করা ছাড়া আমরা কেউ রাজপথ ছেড়ে ঘরে যাব না।

আক্তার হোসেন মাঝি‌ বলেন, গত ১৭ বছরের আন্দোলন সংগ্রামে শুধু মাত্র চাঁদপুরে ২৬ জন বিএনপির নেতাকর্মী নিহত হয়েছে। সারাদেশে নিহত হয়েছেন ৩৯ জন। বিএনপির নেতাকর্মীরা ১৭ বছর তাওয়া গরম করেছে।আর বর্তমান এনসিপি ১মাস সেই তাওয়ায় রুটি ছেঁকে নিজেদেরকে এই অভ্যুত্থানের নেতৃত্ব দেওয়া দল হিসেবে দাবি করছে। বিএনপি নেতাকর্মীরা রাজপথে না থাকলে এই অভ্যুত্থান কখনোই সফল হত না।

তিনি নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, যেখানে শৃঙ্খলা নেই সেখানে উন্নতি নেই। শৃঙ্খলা মেনে চলতে হবে। সবাইকে একত্রিত হয়ে ধানের শীষের পক্ষে জনসমর্থন বাড়াতে কাজ করতে হবে। আমারা বিএনপির নেতাকর্মীরা এক ও অভিন্ন। আমাদের মত ও পথের কোন অমিল নেই।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’