শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩
শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩

শাহরাস্তিতে পৌরসভা বিএনপির ধানের শীষের সমর্থনে গণজমায়েত

ধানের শীষের বিজয় নিশ্চিতে ঐক্যের ডাক দিলেন ব্যারিস্টার কামাল উদ্দিন

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: শনিবার, ৮ নভেম্বর, ২০২৫, ৯:০৮ পিএম
ধানের শীষের বিজয় নিশ্চিতে ঐক্যের ডাক দিলেন ব্যারিস্টার কামাল উদ্দিন
শাহরাস্তিতে ধানের শীষের প্রতীকের প্রার্থীকে বিজয়ী করার লক্ষ্যে এক গণজমায়েত অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (৮ নভেম্বর) বিকেলে শাহরাস্তি পৌরসভা বিএনপির আয়োজনে পৌর শহরের বিয়াম ল্যাবরেটরি স্কুল মাঠে এটি অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় সভাপতিত্ব করেন শাহরাস্তি পৌরসভা ১২নং ওয়ার্ড বিএনপি সভাপতি আবু তাহের।
প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চাঁদপুর জেলা বিএনপির সদস্য ব্যারিস্টার মোহাম্মদ কামাল উদ্দিন।তিনি বলেন, “আমি আপনাদের নিকট কৃতজ্ঞ। দীর্ঘদিন আপনারা আমার নেতৃত্বে বিএনপির জন্য আন্দোলন-সংগ্রাম করেছেন, ত্যাগ তিতিক্ষা দিয়েছেন। এখন দল যাকে মনোনয়ন দিয়েছে, আমরা সবাই তার তথা ধানের শীষের বিজয় নিশ্চিত করতে হবে।
এতে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও দেশনায়ক তারেক রহমানের হাত শক্তিশালী হবে। তিনি আরও বলেন, এখন আর পেছনে তাকিয়ে নয়—সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থেকে কাঙ্ক্ষিত ফলাফল অর্জনে কাজ করতে হবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন শাহরাস্তি পৌরসভা বিএনপির সভাপতি মো. আবুল খায়ের সিএ তার বক্তব্য অনুরূপ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন।
পৌর সাধারণ সম্পাদক  আলহাজ্ব মো. ফারুক হোসেন মিয়াজি তার বক্তব্যে বলেন, আজ থেকে আমরা আর কোনো বিভেদ চাই না। আমি ইতোমধ্যে চারটি সভা করেছি—সবাইকে এক প্ল্যাটফর্মে আসার আহ্বান জানিয়েছি। আমাদের লক্ষ্য ধানের শীষের বিজয় নিশ্চিত করা। তিনি যোগ করেন, প্রার্থী নির্ধারণের দায়িত্ব কেন্দ্রীয় বিএনপির হলেও বিজয় নিশ্চিতের দায়িত্ব তৃণমূলের। তাই সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
গণজমায়েতে আরও বক্তব্য দেন পৌরসভা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. মনিরুজ্জামান,সাবেক কাউন্সিলর বিএনপি নেতা ছফিউল্লাহ মিয়াজি,  চাঁদপুর রেল শ্রমিক ইউনিয়ন নেতা মো. রফিকুল ইসলাম মাস্টার, উপজেলা বিএনপির সাবেক  সাংগঠনিক সম্পাদক তোফায়েল আহমেদ ইরান, বিএনপি নেতা আ. মালেক, পৌর বিএনপি নেতা এস.এম. লিটন, পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব আবুল হায়দার, পৌর ছাত্রদলের আহ্বায়ক মাজহারুল ইসলাম জুয়েল, ছাত্রদল নেতা মো. সাহাদাত ও উপজেলা শ্রমিক দলের যুগ্ম সম্পাদক মো. মনির হোসেন।
সমগ্র অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন পৌর যুবদলের সদস্য সচিব  আব্দুল কাইয়ুম রিপন।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’