শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩
শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩

কোরআনের পাখিদের দোয়ায় চাঁদপুরে কাচ্চি ডাইন উদ্বোধন

সাইদ হোসেন অপু চৌধুরী প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২০ নভেম্বর, ২০২৫, ৬:৩২ পিএম
কোরআনের পাখিদের দোয়ায় চাঁদপুরে কাচ্চি ডাইন উদ্বোধন
চাঁদপুরে উদ্বোধন হলো প্রথমবারের মতো কাচ্চি ডাইন এর শাখা।
বৃহস্পতিবার (২০ নভেম্বর)’ কালিবাড়ি মোড়, পৌর নিউ মার্কেট (এবি ব্যাংক ৩য় তলায়)” একঝাঁক কোরআনের পাখিদের দোয়ার মাধ্যমে রেস্টুরেন্টটির শুভ উদ্বোধন করা হয়।
উদ্বোধন অনুষ্ঠানে দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন বাইতুল আমিন জামে মসজিদের খতিব হাফেজ মাওলানা বোরহান উদ্দিন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন চাঁদপুর পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ নূর আজম বীন আখতার, প্রেসক্লাবের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সোহেল রুশদী, সাধারণ সম্পাদক কাদের পলাশ, সাবেক সাধারণ সম্পাদক আল ইমরান শোভন, টেলিভিশন সাংবাদিক ফোরামের সভাপতি রিয়াদ ফেরদৌস, প্রথম আলোর জেলা প্রতিনিধি আলম পলাশ, সময় টিভির স্টাফ রিপোর্টার ফারুক হোসেন, চাঁদপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ বাহার মিয়া, জেলা যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক ফয়সাল গাজী বাহার, দৈনিক চাঁদপুর দর্পণের প্রধান সম্পাদক শরিফ চৌধুরী, দৈনিক চাঁদপুর সময়ের প্রধান সম্পাদক ফরিদুল ইসলাম উকিল, চাঁদপুর সেন্ট্রাল রোটারি ক্লাবের সভাপতি রোটারিয়ান আব্দুল্লাহ আল মামুন, পৌর কমিউনিটি পুলিশিং সভাপতি শেখ মনির হোসেন বাবুল, সাধারণ সম্পাদক জামাল হোসেন, কাচ্চি ডাইনের জি এম সোহেল হোসেন, ব্রাঞ্চ ম্যানেজার মোহাম্মদ ইমন, চাঁদপুরের পরিচালক মোহাম্মদ ইয়ামিন, আবু সুফিয়ান, হাসানুজ্জামান, নজরুল ইসলাম, নারী উন্নয়ন সংস্থা বিজয়ীর ফাউন্ডার তানিয়া ইসতিয়াক খান, অনলাইন প্রেসক্লাবের সভাপতি ডাক্তার শেখ মহসিন, সাধারণ সম্পাদক আশিক খানসহ সাংবাদিক রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ ও সুশীল সমাজের নেতৃবৃন্দ।
প্রথম দিনেই বাজিমাত কাচ্চি ডাইনের। লোকে লোকারণ্য হয়ে উঠে পৌর টাউন হল নিউ মার্কেট এলাকা। শহরের বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ দুপুরের খাবার খেতে ভীড় করেন কাচ্চি ডাইনে। খাবার খেয়ে সবাইকে তৃপ্তির ঢেকুর তুলতে দেখা যায়। চাঁদপুরবাসী এখন ঢাকার কাচ্চি ডাইনের স্বাদ পাবে বলে জানান সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
স্পেশাল র‌্যাফেল ড্র অফার, ২৪ নভেম্বর ২০২৫ থেকে ৩০ ডিসেম্বর পর্যন্ত। ৫”শ টাকা বা তার বেশি টাকার খাবার নিলেই পাবেন একটি টোকেন এবং ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ অনুষ্ঠিত হবে জমকালো র‌্যাফেল ড্র। লটারির পুরস্কার হিসেবে থাকছে ১ম বিজয়ী: মোটরসাইকেল, ২য় বিজয়ী ফ্রিজ, ৩য় বিজয়ী টিভি, ৪র্থ বিজয়ী স্মার্ট ফোন, ৫ম বিজয়ী চার্জার ফ্যান।
চাঁদপুর কাচ্চি ডাইন ব্রাঞ্চ এর পরিচালক মোহাম্মদ ইয়ামিন বলেন, ‘চাদপুরবাসীকে অথেনটিক বাসমতী কাচ্চি স্বাদ দিতেই ঢাকা কাচ্চি ডাইনের যাত্রা শুরু। ঐতিহ্য ও ব্যক্তিত্ব ধরে রাখতে কাচ্চি ডাইন সর্বাত্মক চেষ্টা করবে। কখনোই আমরা কোয়ালিটির সঙ্গে কম্প্রোমাইজ করবো না।’
তিনি আরও বলেন, আমাদের রেস্তোরাঁয় বাসমতি কাচ্চি, কাচ্চি খাদক, প্লেইন পোলাও, মুরগির রোস্ট, খাসি-গরুর রেজালা, কাবাব, মাটন চুইঝাল, বাদাম শরবত, বোরহানি, ফিরনি, চাটনি, জর্দা ও কোমল পানীয় পাওয়া যাবে।
চাঁদপুরে কাচ্চি ডাইনের শুভ উদ্বোধন উপলক্ষে ডাইনিং এ কাচ্চিতে ৩০% ডিসকাউন্ট সুবিধা রাখা হয়েছে। পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে চলে আসুন এবং উপভোগ করুন অথেনটিক কাচ্চির অনন্য স্বাদ।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’