শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩
শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩

শাহরাস্তিতে উপজেলা প্রশাসনের আইন-শৃঙ্খলা ও মাসিক সাধারণ সভা সম্পন্ন

প্রশাসন-জনপ্রতিনিধি-সাধারণ জনগণের ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টা জরুরি : ইউএনও নাজিয়া

মোঃ মাসুদ রানা প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৫ নভেম্বর, ২০২৫, ৯:১৯ পিএম
প্রশাসন-জনপ্রতিনিধি-সাধারণ জনগণের ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টা জরুরি : ইউএনও নাজিয়া

শাহরাস্তি উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে আইন-শৃঙ্খলা কমিটি ও মাসিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৫ নভেম্বর) সকাল ১১টায় উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন শাহরাস্তি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও বিজ্ঞ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নাজিয়া হোসেন।

সভাপতির বক্তব্যে ইউএনও নাজিয়া হোসেন বলেন—শাহরাস্তি উপজেলার সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি সন্তোষজনক। বর্তমান স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে প্রশাসনের পাশাপাশি জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, সাংবাদিক এবং স্থানীয় গণমানুষের সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মাদক, ইভটিজিং ও বাল্যবিবাহ দমনে উপজেলা প্রশাসন কঠোর অবস্থানে রয়েছে। সমাজে শান্তি ও নিরাপত্তা বজায় রাখতে সবাইকে সচেতন এবং দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, “আইন-শৃঙ্খলার উন্নয়ন তখনই টেকসই হবে, যখন প্রশাসনের সঙ্গে জনগণের সরাসরি সম্পৃক্ততা নিশ্চিত হবে।

Model Hospital

সভায় বক্তারা উপজেলার মাদক নিরসন, ইভটিজিং প্রতিরোধ, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ, খাদ্য নিরাপত্তা, সড়ক নিরাপত্তা, জোরদার নজরদারি এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তারা শাহরাস্তি উপজেলার আইন-শৃঙ্খলাকে “ভালো ও নিয়ন্ত্রিত” উল্লেখ করে ভবিষ্যতেও এ ধারা অব্যাহত রাখতে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান। সভায় উপস্থিত ছিলেন— উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিল্লোল চাকমা, শাহরাস্তি মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ আবুল বাসার পিপিএম (বার),মেহের ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ মোঃ মিজানুর রহমান,প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ মোঃ মাকসুদ আলম, উপজেলা প্রকৌশলী মোঃ মাইনুল ইসলাম,উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রতিনিধি ডা. মোঃ সরোয়ার আলম,পল্লী বিদ্যুতের ডিজিএম মোঃ নিজাম উদ্দিন সাম্স, উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল সাদাফ,খাদ্য নিয়ন্ত্রক মোঃ মেজবাহ উদ্দিন,উপজেলা সহকারী প্রোগ্রামার মোঃ শাহজাহান,ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন মাস্টার মোহাম্মদ আবু হাসান,শাহরাস্তি প্রেসক্লাব সভাপতি মোঃ হাবিবুর রহমান ভূঁইয়াসহ বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানবৃন্দ, জনপ্রতিনিধি ও গণমাধ্যমকর্মী ও প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তা কর্মচারী উপস্থিত ছিলেন।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’