শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩
শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩

পরিবারটি পায়নি সরকারি কোন সহায়তা

চাঁদপুরের শাহমাহমুদপুরে জরাজীর্ণ ঘরে অসহায় পরিবারের ঝুকিপূর্ণ বসবাস

মাসুদ হোসেন প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৮ নভেম্বর, ২০২৫, ১২:৪৭ এম
চাঁদপুরের শাহমাহমুদপুরে জরাজীর্ণ ঘরে অসহায় পরিবারের ঝুকিপূর্ণ বসবাস
ঘরের টিনের চাল মরিচা ধরে জরাজীর্ণ হয়ে বৃষ্টির পানি পড়ে ভিতরে, চারপাশের বেড়া ও দরজা-জানালাগুলো ভাঙাচোরা। বৃষ্টির পানি ঠেকাতে দেওয়া হয়েছে পলিথিন ও কম্বলের ছাউনি। একই অবস্থা শৌচাগারের। এমনই জরাজীর্ণ ও বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে চাঁদপুর সদর উপজেলার ৪নং শাহমাহমুদপুর ইউনিয়নের একটি পরিবারে।
বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, শাহমাহমুদপুর ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ড কৃষ্ণপুর গ্রামের বাসিন্দা লোকমান খলিফার ছেলে বাবু খলিফার ভাঙ্গাচোরা একই বসতঘরে খুব কষ্টে বসবাস করছেন পুরো পরিবারের সদস্যরা। মাথা গোঁজার ঠিকানা পৈত্রিক ভিটার চৌচালা এই ঘরটি। জরাজীর্ণ, ভাঙা ও ঝুঁকিপূর্ণ ঘরটিতে মানবেতর জীবনযাপন করছে পরিবারটি। রোদে শুকিয়ে আর বৃষ্টিতে ভিজে আতঙ্ক নিয়ে তারা বসবাস করেন ওই ভাঙা ঘরে।
বৃষ্টি পড়লে বসবাসের অনুপযোগী হয়ে যায়। বাসিন্দাদের অনুরোধ, এবারের বর্ষার আগেই ঘরগুলো মেরামত করে দিলে তারা নিশ্চিন্তে বসবাস করতে পারবেন। তার ঘরটি দীর্ঘ অনেক বছর যাবত জরাজীর্ণ অবস্থায় পড়ে রয়েছে।
অসহায় পরিবারটির পাশে কেউই নেই। একটি ঘরে এলোমেলো পুরনো কাপড়-চোপড়। ঘরের এককোণে লাকড়ি, আর চারপাশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা পাতিল সহ ঘুমানোর জন্য দুইটি চৌকি। পুরো ঘরটি বাঁশ দিয়ে ঠাই দিয়েও দুঃচিন্তায় আছে পরিবারটি। এসব নিয়েই তাদের সংসার। সামান্য অর্থ দিয়ে কখনো খেয়ে আবার কখনো না খেয়েই কোন মতে চলছে চার সদস্যের সংসার।
বাবু খলিফার স্ত্রী শান্তা বেগম বলেন, সন্তানদের নিয়ে খুব কষ্ট করে জীবন চলছে। আয়-উপার্জন কম তাই ২২ বছর ধরে এই ঘরেই কোন মতে বসবাস করছি। আমার দাদী শাশুড়ীও এই ঘরে থেকে গেছেন। বিগত বছরগুলোতে অনেকেই বিভিন্ন আশ্বাস দিয়েছিলেন কিন্তু কোন সমাধান পাইনি। এমনকি সরকারি কোন সহযোগিতাও আমাদেরকে দেয়া হয়নি।
তিনি আরো বলেন, ঘরে থাকার মতো কোনো পরিবেশ নেই। সামান্য বৃষ্টি হলেই ঘরের ওপরের ছাউনি থেকে পানি পড়ে, ঘরের ভেতরের সব কিছু ভিজে যায়। স্বামীর উপার্জন কম, তাই ভালো একটা ঘর বাঁধতে পারছি না। কত মানুষ কত সুযোগ-সুবিধা পায় আমরা কি কিছুই পাবনা? যদি সরকারিভাবে অথবা বর্ণাঢ্য ব্যক্তিদের সহায়তায় একটা ঘর করে দিত তাহলে একটু শান্তিতে থাকতে পারতাম।
শান্তা বেগমের শশুর বলেন, অভাবের সংসারে এখন দিশেহারা আমার ছেলের পরিবারটি। সামান্য কিছু জায়গা থাকলেও নতুন ঘর তুলবেন সেই সামর্থ্য নেই তার। একসময় ব্যবসা বাণিজ্য ও ২টি সিএনজি ছিল। চুরি হয়ে সবকিছু হারিয়ে সে এখন নিঃস্ব হয়ে ঢাকার একটি কারখানায় শ্রমিক হিসেবে কাজ করছেন। স্বল্প এ আয়ে কোন কিছুই যেন কুলিয়ে উঠতে পারছেন না। আমি আমার ছেলের পরিবারটির জন্য সকলের কাছে সর্বাত্মক সহযোগিতা কামনা করছি।
ঘটনাস্থলে গিয়ে অত্র এলাকার বাসিন্দা ও শাহমাহমুদপুরের বিএনপি নেতা শাহজালাল দেওয়ান ও কামাল হাওলাদার বলেন, আমি অসহায় পরিবারটির বুকফাটা আর্তনাদ দেখেছি। তারপরও হাসিমুখে যেন সবকিছু মেনে নিচ্ছেন তারা। আমরা আমাদের নেতা চাঁদপুর-৩ আসনের মাটি ও মানুষের নেতা শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক ভাইকে বিষয়টি অবগত করে সর্বাত্মক সহযোগিতা করার চেষ্টা করবো।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’