শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

টিম কমরেডের ‘অপরাজিতা’ কর্মসূচিতে স্যানিটারি ন্যাপকিন ভেন্ডিং মেশিন উন্মোচন

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: রবিবার, ৩০ নভেম্বর, ২০২৫, ৭:০১ পিএম
টিম কমরেডের ‘অপরাজিতা’ কর্মসূচিতে স্যানিটারি ন্যাপকিন ভেন্ডিং মেশিন উন্মোচন

টিম কমরেডের ‘অপরাজিতা’ কর্মসূচিতে স্যানিটারি ন্যাপকিন ভেন্ডিং মেশিন উন্মোচন করছেন অতিথিবৃন্দ।

“হবে নাকো ভয়, প্রতিরোধেই জয়” এই স্লোগানকে ধারণ করে টিম কমরেডের যুব সদস্যদের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হলো নারী স্বাস্থ্য সচেতনতা কর্মসূচি ‘অপরাজিতা’।
গত ২৯ নভেম্বর শনিবার বিকেলে চাঁদপুর প্রেসক্লাব ভবনের ৩য় তলায় আয়োজিত কর্মসূচিতে উন্মোচন করা হয় স্যানিটারি ন্যাপকিন স্মার্টওয়ে ‘মমতা ৩.০’-এর ভেন্ডিং মেশিন, যা চাঁদপুরে প্রথমবারের মতো এমন উদ্যোগ হিসেবে স্বীকৃতি পেল।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) ইকরামুল সিদ্দিক। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, জেলা জামায়াতের আমির অ্যাড. শাহজাহান মিয়া, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী হাজী মোশারফ হোসেন, জেলা যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক ফয়সাল গাজী বাহার, “সবাই মিলে নারী উন্নয়ন সংস্থা” এবং সবাই মিলে নারী উদ্যোগক্তা প্রতিষ্ঠান এর প্রতিষ্ঠাতা তানিয়া ইসলাম, টিম কমরেড
উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট জাবির আল মাহমুদ,।
এ ছাড়া ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে যুক্ত ছিলেন, টিম কমরেড প্রতিষ্ঠাতা তাহমিদুন কাইফ।
টিম কমরেডের সভাপতি আদনান আসিফ,সহ-সভাপতি মুসফিকা আক্তার ঝুমুর, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মেহেদি, নারী সাধারণ সম্পাদক তাসনুবা তাবাসসুম ঝুমুসহ আরো অনেকে।
অনুষ্ঠানে টিম কমরেডের তৈরি ভেন্ডিং মেশিন সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করে। বক্তারা জানান, যখন দেশের একটি অংশের তরুণ সমাজ মাদকাসক্তি ও অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে, তখন টিম কমরেডের সদস্যরা মানবিক, উদ্ভাবনী ও সমাজকল্যাণমূলক কাজে নিজেদের নিয়োজিত রেখেছে। যা সত্যিই অনুকরণীয়।
অতিথিরা বলেন, ৩৭ বছরের অভিজ্ঞতার মধ্যে টিম কমরেডের মতো সৃজনশীল চিন্তাধারায় পরিচালিত প্রকল্প তারা খুব কম দেখেছেন। চাঁদপুরে ভেন্ডিং মেশিন উদ্যোগের পথিকৃৎ টিম কমরেড এর আগেও সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে ‘মমতা ১.০’ (২০২২) এবং ‘মমতা ২.০’ (২০২৩)।
তাদের বক্তব্য ও প্রতিশ্রুতি তরুণদের আরও দৃঢ়ভাবে সামনে এগিয়ে যেতে উৎসাহিত করে। টিম কমরেডের সদস্যরা জানান, চাঁদপুরকে একটি উন্নয়নশীল জেলায় রূপান্তরিত করতে তারা ভবিষ্যতেও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করে যাবে।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’