শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩
শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩

শতবছর ধরে অনলাইনে রাজত্ব করবে চাঁদপুর টাইমস : এসিল্যান্ড আবু নাসির

মোঃ রাছেল, কচুয়া প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৪ ডিসেম্বর, ২০২৫, ৮:১৯ পিএম
শতবছর ধরে অনলাইনে রাজত্ব করবে চাঁদপুর টাইমস : এসিল্যান্ড আবু নাসির

কচুয়ায় চাঁদপুর টাইমসের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকিতে কেক কাটছেন অতিথিবৃন্দ।

জেলার প্রথম জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল চাঁদপুর টাইমস ১১ বছর পেরিয়ে ১২ তম বর্ষে পদার্পণ উপলক্ষে কচুয়ায় আলোচনা সভা, দোয়া ও কেক কাটার মধ্য দিয়ে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত হয়েছে।

৪ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় কচুয়া ডাকবাংলো সভাকক্ষে চাঁদপুর টাইমসের স্টাফ রিপোর্টার জিসান আহমেদ নান্নুর পরিচালনায় উক্ত অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

কচুয়া প্রেসক্লাবের সভাপতি আতাউল করিমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, কচুয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো: আবু নাছির।

এসময় তিনি বলেন, সংবাদপত্র হচ্ছে সমাজের দর্পণ, রাষ্ট্রের দর্পণ। সমাজের সকল অসংগতিগুলো তুলে ধরাই সংবাদপত্র ও সাংবাদিকদের কাজ। মানুষ এখন অনলাইন নিউজ পোর্টালের দিকেই অগ্রসর হচ্ছেন। কেননা আমি নিজেও অফিসে পত্রিকার রাখি। কিন্তু কাজের ব্যবস্তার কারণে পত্রিকা দেখা হয় না।

Model Hospital

অনলাইনের কল্যাণে মুঠোফোনের মাধ্যমেই সকল সংবাদ দেখি। অনলাইন নিউজ পোর্টাল চাঁদপুর টাইমস ১১ পেড়িয়ে ১২ বছরে পা রেখেছে এটা কম বিষয় ন। আপনারা বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশ করবেন।

খবরের ভিতরের সংবাদ তুলে ধরবেন। তিনি আরো বলেন, সকল পেশার প্রতিটি মানুষের দায়বদ্ধতা রয়েছে। দায়বদ্ধতা থেকে বস্তুনিষ্ঠনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন করলে মানুষ স্মরণে রাখবে তাই সবার আগে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন করতে হবে। আমি চাঁদপুর টাইমস পরিবারের সাফল্য কামনা করছি। হয়তো সেদিন আমরা থাকবো না, আমি বিশ^াস করি চাঁদপুর টাইমস এক যুগে নয় শতবছর ধরে অনলাইনে রাজত্ব করবে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, কচুয়া থানার ওসি তদন্ত মো: রাশেদুল হক, এসআই রাশেদ, কচুয়া প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মো: এমদাদ উল্যাহ, সাংগঠনিক সম্পাদক এম. সাইফুল মিজান ও কচুয়া উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি মোতাহের হোসেন।

বক্তব্য দেন এনটিভির হাজীগঞ্জ ও কচুয়া প্রতিনিধি মো: জাবেদ হোসাইন, দৈনিক নতুন আশার স্টাফ রিপোর্টার শাহ এমরান খান, দৈনিক আমাদের সময়ের প্রতিনিধি মোঃ রাছেল, দৈনিক নিরপেক্ষ এর কচুয়া প্রতিনিধি ওমর ফারুক সাইম, শিকড় সংবাদ পত্রিকার রহিমাগর প্রতিনিধি মো: শাহাদাত হোসাইন।

এসময় পত্রিকার সম্পাদক কাজী ইব্রাহিম জুয়েল ও সংশ্লিষ্ট সাংবাদিকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে পত্রিকার চলমান কার্যক্রম এগিয়ে যাবে এমনটাই প্রত্যাশা ব্যাক্ত করেন।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’