শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩
শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩

শাহরাস্তি মেহের কলেজে অনলাইন ফি আদায় কার্যক্রমের চুক্তিপত্র স্বাক্ষর

মোঃ মাসুদ রানা প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৪ ডিসেম্বর, ২০২৫, ১০:০১ পিএম
শাহরাস্তি মেহের কলেজে অনলাইন ফি আদায় কার্যক্রমের চুক্তিপত্র স্বাক্ষর
চাঁদপুরের শাহরাস্তিতে শিক্ষার্থীদের আর্থিক লেনদেন আরও সহজ, স্বচ্ছ ও ডিজিটালাইজড করতে সোনালী ব্যাংক পিএলসি উদ্ভাবিত ‘সোনালী পেমেন্ট গেটওয়ে (iSPG)’ ব্যবহারের মাধ্যমে অনলাইনে ফি আদায় কার্যক্রম শুরু করেছে।
এ উপলক্ষে মেহের ডিগ্রি কলেজের শিক্ষার্থীদের বেতন, ভর্তি ফি ও অন্যান্য চার্জ অনলাইনে গ্রহণের বিষয়ে সোনালী ব্যাংক পিএলসি ও কলেজ কর্তৃপক্ষের মধ্যে চুক্তিপত্র স্বাক্ষর অনুষ্ঠিত হয়।
বৃহস্পতিবার (০৪ ডিসেম্বর ২০২৫) সকালে কলেজ মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সোনালী ব্যাংক পিএলসি’র পক্ষে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার সঞ্জয় কুমার রায় এবং কলেজের পক্ষে স্বাক্ষর করেন কলেজের অধ্যক্ষ মোঃ মিজানুর রহমান।
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি শাহরাস্তি উপজেলা বিএনপির সভাপতি আলহাজ্ব আয়েত আলী ভূঁইয়া বলেন,
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ডিজিটাল পেমেন্ট চালুর মাধ্যমে স্মার্ট বাংলাদেশের লক্ষ্য আরও এগিয়ে যাবে।
বিশেষ অতিথি কলেজ পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি মোহাম্মদ আবু ইউসুফ (রুপন) বলেন,অনলাইন ফি আদায় ব্যবস্থা চালুর ফলে কলেজের আর্থিক কার্যক্রমে স্বচ্ছতা, গতিশীলতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত হবে। শিক্ষার্থীরা ঘরে বসেই সহজে ফি পরিশোধ করতে পারবে—যা সময়, ভোগান্তি ও খরচ কমাবে।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন শাহরাস্তি থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ আবুল বাশার, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোঃ ইকবাল হোসেন, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক আলী আজগর মিয়াজী, সদস্যসচিব এতেশামুল হক গণি, ছাত্রদলের সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার এবিএম পলাশ, পৌর ছাত্রদলের আহ্বায়ক মাজহারুল ইসলাম জুয়েল, শিক্ষক ফোরামের সাধারণ সম্পাদক ইউনুস মিজি, কলেজের উপাধ্যক্ষ জিয়া উদ্দিন চৌধুরীসহ শিক্ষক, কর্মচারী ও শিক্ষার্থীরা।
উল্লেখ্য, ওই সময় বই উৎসবের অন্য একটি অনুষ্ঠানে  কলেজ পরিচালনা পর্ষদের নেতৃবৃন্দ গরিব ও মেধাবী একাদশ শ্রেণির ৩০ জন শিক্ষার্থীকে বই উপহার দেন।
এছাড়া বক্তাগণ আরও জানান, সাবেক সচিব, নারী শিক্ষার অগ্রদূত মরহুম ড. এম এ সাত্তার—মেহের ডিগ্রি কলেজের ১৯৮৬ সালের এমপিওভুক্তিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। কলেজ অধ্যক্ষ মিজানুর রহমান  বলেন, নতুন এই ডিজিটাল পেমেন্ট উদ্যোগ কলেজটির সেবা আরও আধুনিক, স্বচ্ছ ও প্রযুক্তিনির্ভর করবে।
এ সময় কলেজ পরিচালনা পর্ষদের অন্যান্য সদস্য, কলেজের শিক্ষক শিক্ষার্থী, গণমাধ্যম কর্মী এলাকার বিশিষ্ট জন উপস্থিত ছিলেন।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’