শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

মতলবে শুক্কুর পাটোয়ারির উদ্যোগে খালেদা জিয়ার রোগমুক্তি কামনায় দোয়া

মোজাম্মেল প্রধান হাসিব প্রকাশিত: শুক্রবার, ৫ ডিসেম্বর, ২০২৫, ৮:৫৮ পিএম
মতলবে শুক্কুর পাটোয়ারির উদ্যোগে খালেদা জিয়ার রোগমুক্তি কামনায় দোয়া

মতলব দক্ষিণে বেগম খালেদা জিয়ার সুস্থতা ও রোগমুক্তি কামনায় দোয়া মাহফিলে বক্তব্য রাখছেন চাঁদপুর-২ নির্বাচনী আসনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী ও চাঁদপুর জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি এম.এ শুক্কুর পাটোয়ারী।

বিএনপির চেয়ারপার্সন ও সাবেক তিন বারের প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সুস্থতা ও আশু রোগমুক্তি কামনায় চাঁদপুর-২ (মতলব উত্তর-দক্ষিণ) সংসদীয় আসনের মনোনয়ন প্রত্যাশী, জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি এম.এ শুক্কুর পাটোয়ারীর উদ্যোগে খতমে কুরআন, খতমে শেফা,  খতমে খাঁজেকানসহ দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শুক্রবার (৫ ডিসেম্বর-২০২৫) বাদ আছর মতলব দক্ষিণ উপজেলার নায়েরগাঁও উত্তর ইউনিয়নের তুষপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে এ দোয়ার আয়োজন করা হয়।
দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন চাঁদপুর-২ নির্বাচনী আসনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী, চাঁদপুর জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ও মতলব দক্ষিণ উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান এম.এ শুক্কুর পাটোয়ারী।
দোয়া ও মুনাজাত পরিচালনা করেন জৈনপুরী পীর আব্দুল হাই আতিকী।
নায়েরগাঁও উত্তর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মান্নান সরকারের সভাপতিত্বে এবং ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক জহির রায়হানের উপস্থাপনায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, মতলব দক্ষিণ উপজেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি ফজলুর রহমান প্রধান, মতলব পৌর বিএনপির উপদেষ্টা আলমগীর হোসেন রতন, বিএনপি নেতা জসিম উদ্দিন প্রধান, উপজেলা বিএনপির প্রবাসী কল্যাণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন, নায়েরগাঁও দক্ষিণ ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক লোকমান হোসেন প্রধান, জেলা যুবদলের সহ-সম্পাদক এম.এ আজিজ ঢালী, মতলব পৌর যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক শরীফ উল্লাহ টিটু।
এসময় আরও বক্তব্য রাখেন, নায়েরগাঁও উত্তর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি ছিদ্দিকুর রহমান প্রধান, নারায়ণপুর ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক সহ-সভাপতি এসএম কামাল, যুবদল নেতা সফিউল্লাহ মিয়া, ইলিয়াস হোসেন, জয়নাল হাজারী, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য মোফাজ্জল হোসেন হাক্কানী, উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বাবু নবীর, নারায়ণপুর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি জয়নুল আবেদীন শিশির, মতলব পৌর ছাত্রদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মো. রাফাল হাসান, নায়েরগাঁও উত্তর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক সহ-সভাপতি তানভীর হোসেন, নারায়ণপুর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক এমরান হোসেন প্রমুখ।
এসময় মতলব উত্তর ও দক্ষিণ উপজেলার বিভিন্ন ইউনিটের বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদলসহ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’