শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

শাহরাস্তিতে দুই দিনব্যাপী দৈকামতা মাদরাসার ১৭তম বার্ষিক ইছালে সাওয়াব মাহফিল সম্পন্ন

মোঃ মাসুদ রানা প্রকাশিত: সোমবার, ২২ ডিসেম্বর, ২০২৫, ৯:০৭ পিএম
শাহরাস্তিতে দুই দিনব্যাপী দৈকামতা মাদরাসার ১৭তম বার্ষিক ইছালে সাওয়াব মাহফিল সম্পন্ন
শাহরাস্তিতে দৈকামতা দারুসসুন্নাত দীনিয়া ও হিফজ মাদরাসার ১৭তম বার্ষিক ইছালে সাওয়াব মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
গত ২০ ও ২১ ডিসেম্বর ২০২৫ ইং, শনিবার ও রবিবার দুই দিনব্যাপী শাহরাস্তি উপজেলার ঐতিহ্যবাহী দৈকামতা দারুসসুন্নাত দীনিয়া ও হিফজ মাদরাসা এবং লিল্লাহ বোর্ডিং কমপ্লেক্সের উদ্যোগে দীনিয়া কমপ্লেক্স ময়দানে মরহুম আলী আশ্রাফ পাটওয়ারী (রহ.)-এর ইছালে সাওয়াব কামনায় এ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।
মাহফিলে দেশবরেণ্য আলেমে দ্বীন, ওলামায়ে কেরাম, রাজনৈতিক, সামাজিক ও ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতিতে ওয়াজ-নসিহত, দিকনির্দেশনামূলক আলোচনা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।
মাহফিলে সভাপতিত্ব করেন প্রতিষ্ঠানের সভাপতি ও সাবেক ইউনিয়ন চেয়ারম্যান মোঃ হাবিবুর রহমান পাটওয়ারী।
সভাপতির বক্তব্যে তিনি বলেন, “দ্বীনি শিক্ষা জাতির নৈতিক চরিত্র গঠনের মূল ভিত্তি। কোরআন-সুন্নাহভিত্তিক শিক্ষার মাধ্যমে নতুন প্রজন্মকে আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে এই প্রতিষ্ঠান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে।
তিনি মাদরাসা ও এতিমখানার সার্বিক উন্নয়নে সকলের সহযোগিতা কামনা করেন।
দ্বিতীয় দিনের মাহফিলে প্রধান ওয়াজ ও নসিহত পেশ করেন আলহাজ্ব মাওলানা মোঃ সাইফুউদ্দিন খন্দকার।
তিনি বলেন, ইছালে সাওয়াবের মাধ্যমে মৃত ব্যক্তির জন্য দোয়া করা ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ আমল। দুনিয়াতে নেক আমলই আখিরাতের পাথেয়।
দ্বিতীয় দিনের মাহফিলে প্রধান ওয়াজ ও দিকনির্দেশনামূলক আরো  বক্তব্য রাখেন আলহাজ্ব হযরত মাওলানা মোঃ জিল্লুর রহমান ফারুকী, অধ্যক্ষ, হাইমচর আলিয়া মাদরাসা। তিনি বলেন, “দ্বীনি প্রতিষ্ঠান টিকিয়ে রাখতে আলেম-ওলামা ও সমাজের বিত্তবানদের সম্মিলিত দায়িত্ব রয়েছে। কোরআনের আলোয় সমাজ গড়তে হলে দ্বীনি শিক্ষার বিকল্প নেই।
এছাড়া ওয়াজ ও নসিহত করেন চাঁদপুর যুব হিজবুল্লাহ সভাপতি আলহাজ্ব হযরত মাওলানা হাবীবুর রহমান। ওই উপলক্ষে ১ম দিন আরও ওয়াজ ও নসিহত পেশ করেন—মাওঃ মোঃ দেলোয়ার হোসেন,মাওঃ মোঃ নেছার আহম্মদ,মাওঃ ওমর ফারুক,মাওঃ আবু জাফর ছালেহ, মাওঃ মোঃ আবু বকর সিদ্দিক,মাওঃ মোঃ শরীফ উদ্দিন, হাফেজ মোঃ আমিন,মাওঃ ফয়েজ আহম্মদ (উপাধ্যক্ষ, ঠাকুরবাজার সিনিয়র মাদরাসা),মাওঃ ইব্রাহীম খলিল ইবনে আশ্রাফ আলী পাটওয়ারী, মাওঃ ইয়াসিন পাটওয়ারী, মাওঃ মাছুম বিল্লাহ পাটওয়ারী,মাওঃ শামসু উদ্দীন খন্দকারও হাফেজ মোঃ মিরাজ হোসেন।
মাহফিল শেষে মরহুম আলী আশ্রাফ পাটওয়ারী (রহ.)-এর রূহের মাগফিরাত, দেশ ও জাতির কল্যাণ এবং মুসলিম উম্মাহর শান্তি কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করা হয়।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’