শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

চাঁদপুরে ইসলামী ছাত্র আন্দোলনের নতুন জেলা সভাপতি ফয়সাল, সম্পাদক ফরহাদ

প্রেস বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৫ ডিসেম্বর, ২০২৫, ৭:৪৭ পিএম
চাঁদপুরে ইসলামী ছাত্র আন্দোলনের নতুন জেলা সভাপতি ফয়সাল, সম্পাদক ফরহাদ

চাঁদপুরে ইসলামী ছাত্র আন্দোলনের জেলা সম্মেলনে সভাপতি ডিএম ফয়সাল ও সম্পাদক আহমেদ ফরহাদ হোসেনের নাম ঘোষণা করা হয়।

ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশ চাঁদপুর জেলা শাখার জেলা সম্মেলন’২৬ অনুষ্ঠিত।
আজ ২৫ ডিসেম্বর২০২৫ রোজ বৃহস্পতিবার সকাল ৯ টায় জেলা সভাপতি ডি.এম ফয়সালের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক কে.এম মাসুদুর রহমানের সঞ্চালনায় চাঁদপুর আইএবি মিলনায়তনে জেলা সম্মেলন শুরু হয়।
সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশ এর কেন্দ্রীয় জয়েন্ট সেক্রেটারি ফয়জুল ইসলাম।তিনি বলেন আদর্শিক রাজনীতি চর্চা করতে হলে ইসলামী রাজনীতির বিকল্প নাই। ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশ আদর্শের রাজনীতি করে। ইসলাম দেশ ও মানবতার অতন্দ্র প্রহরী হিসেবে কাজ করে। আগামী দিনেও দেশের প্রয়োজনে  দেশপ্রেমিক শক্তি হিসেবে কাজ করে যাবে।
সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এর কুমিল্লা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও ইসলামী আন্দোলন মনোনীত চাঁদপুর-৩( চাঁদপুর -হাইমচর) আসনের এমপি প্রার্থী জননেতা শেখ মুহাম্মদ জয়নাল আবেদিন। তিনি বলেন,দুর্নীতিমুক্ত স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মানে ছাত্র সমাজের বিকল্প নাই।
দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা,ভীনদেশী আগ্রাসন মুক্ত রাখতে ছাত্র সমাজ অতন্ত্র প্রহরী হিসেবে কাজ করে যেতে হবে।অন্যায়ের বিরুদ্ধে আজীবন আপোসহীন সংগ্রাম চালিয়ে যেতে হবে।একই সাথে আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যাতে কেউ অন্যায়ভাবে কেন্দ্র দখল করে ভোট ডাকাতি না করতে পারে সে ব্যাপারে সজাগ ভুমিকা পালন করতে হবে।
জেলা সম্মেলনে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ চাঁদপুর জেলা সভাপতি হাফেজ মাওলানা মাকসুদুর রহমান, সেক্রেটারী কে.এম ইয়াসিন রাশেদসানী,বাংলাদেশ মুজাহিদ কমিটি চাঁদপুর জেলা শাখার ছদর মাওলানা নূরুল আমিন, ইসলামী শ্রমিক আন্দোলন বাংলাদেশ চাঁদপুর জেলা সভাপতি আবুল বাশার তালুকদার।
সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ চাঁদপুর জেলা সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা হেলাল আহমাদ, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ চাঁদপুর জেলা শাখার সাবেক সহ-প্রচার ও দাওয়াহ সম্পাদক এইচ.এম নিজাম।
সম্মেলনে আরও বক্তব্য রাখেন ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশ চাঁদপুর জেলা সহ-সভাপতি আকতার হোসেন আকন,সাংগঠনিক সম্পাদক আহমেদ ফরহাদ, দাওয়াহ সম্পাদক আব্দুল মুত্তালিব,সদর উপজেলা সভাপতি নাছির উল্লাহ বাহাদুর, ফরিদগঞ্জ উপজেলা সভাপতি মিনহাজুল ইসলাম, কচুয়া উপজেলা আহবায়ক আব্দুর রহমান, শাহরাস্তি উপজেলা সভাপতি ইসমাইল হোসেন রাহাত,পৌর সভাপতি আল-আমিন , হাজিগঞ্জ সহ-সভাপতি আব্দুল্লাহ আল মামুন,মতলব দক্ষিণ সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল ইসলাম।
উপস্থিত ছিলেন ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশ চাঁদপুর জেলার উপজেলা,ইউনিয়ন, ওয়ার্ড ,শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সদস্য ও কর্মীবৃন্দ।
প্রধান অতিথি তার বক্তব্য শেষে ২০২৫ সেশনের কমিটি বিলুপ্ত করে ২০২৬ সেশনের কমিটি ঘোষনা করেন।
এতে সভাপতি ডি.এম ফয়সাল, সহ-সভাপতি :কে এম মাসুদুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক আহমেদ ফরহাদ হোসেন।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’