শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩
শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩

চাঁদপুর এসপি’র সাথে ট্রাফিক পুলিশ বিভাগের মতবিনিময়

কঠোর হতে হলে হবো, তবুও চাঁদপুরে যানজট নিরসন করতে চাই : এসপি রবিউল হাসান

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: সোমবার, ২৯ ডিসেম্বর, ২০২৫, ১:৩৬ পিএম
কঠোর হতে হলে হবো, তবুও চাঁদপুরে যানজট নিরসন করতে চাই : এসপি রবিউল হাসান

চাঁদপুর পুলিশ সুপার মো: রবিউল হাসান আহবানে চাঁদপুর ট্রাফিক পুলিশ বিভাগের সাথে তাৎক্ষনিক এক মতবিনিময় সভা গতকাল সন্ধ্যায় পুলিশ সুপার কক্ষে অনুষ্ঠিত হয় । পুলিশ সুপারের আমন্ত্রনে উক্ত মতবিনিময় সভায় অংশ নেন চাঁদপুর প্রেসক্লাব নেতৃবৃন্দ ।

চাঁদপুর পুলিশ সুপার মো: রবিউল হাসান আহবানে চাঁদপুর ট্রাফিক পুলিশ বিভাগের সাথে তাৎক্ষনিক এক মতবিনিময় সভা গতকাল ২৮ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় পুলিশ সুপার কক্ষে অনুষ্ঠিত হয়।

পুলিশ সুপারের আমন্ত্রনে উক্ত মতবিনিময় সভায় অংশ নেন চাঁদপুর প্রেসক্লাব নেতৃবৃন্দ ।

সভায় অংশ নেন চাঁদপুর জেলা পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও জেলা ট্রাফিক পুলিশ বিভাগের সকল পর্যায়ের কর্মকর্তা ও সদস্যবৃন্দ।

সভায় বক্তব্য রাখেন চাঁদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) নাদিরা নূর, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইমএন্ড অ্যাপস) মো: লুৎফর রহমান, সদর সার্কেল মো: খায়রুল কবির, চাঁদপুর প্রেসক্লাবের বর্তমান সভাপতি রহিম বাদশা, নবাগত সভাপতি সোহেল রুশদী, বর্তমান সাধারণ সম্পাদক কাদের পলাশ, নবাগত সাধারণ সম্পাদক এম এ লতিফ ও সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সম্পাদক আবদুল আউয়াল রুবেল প্রমুখ।

Model Hospital

মতবিনিময় সভায় চাঁদপুরের পুলিশ সুপার মো: রবিউল হাসান বলেন, আমি চাঁদপুর শহরে যানজট নিরসন করতে চাই। নাগরিকদের দুর্ভোগ কমাতে চাই। পুলিশের কাজ জনস্বার্থে । এক্ষেত্রে চাঁদপুর প্রেসক্লাব, সাংবাদিক ও শহরের নাগরিকদের সহযোগিতা চাই।

আজকে ট্রাফিক পুলিশ বিভাগের সাথে বসছি এবং প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিবো। যাতে ট্রাফিক আইন মেনে যানবাহন চলাচল করে। পুলিশের আইনের মধ্যে থেকে কাজ করতে চাই। এ ব্যাপারে শহরের কোন কোন সড়কে যানজট বেশী হয় এবং মানুষের দুর্ভোগ হয় তা নিরসন করবো এবং তা পর্যায়ক্রমে সমাধান করবো। সাংবাদিকদের সাথে নিয়ে শহরের যানজট নিরসনে পুলিশের যেটুকু করনীয় আছে তা সবটুকু প্রয়োগ করবো। কঠোর হতে হলে হবো। পুলিশ আইন প্রয়োগ করবে ।

এ সময় চাঁদপুর প্রেসক্লাব নেতৃবৃন্দ বলেন, চাঁদপুর শহরের কালীবাড়ী (বায়তুল আমিন রেলওয়ে জামে মসজিদ সম্মুখ স্থান),পালবাজার সম্মুখ স্থান, স্টেডিয়াম রোড, বাবুরহাট গোল চত্তর সর্বদা যানজট থাকে। এক্ষেত্রে দ্রুত বায়তুল আমিন রেলওয়ে জামে মসজিদ সম্মুখ স্থান এলাকা থেকে সিএনজি সরিয়ে পুরনো স্ট্যান্ডে স্থানান্তর, জেলার বাহিরের সিএনজি শহরের ঢুকতে না দেওয়া, লাইসেন্সবিহীন সিএনজি জব্দ ও জরিমানা করা, ভারী যানবাহন, বড় ট্রাক, তেলের ভাউচার দিনের বেলা শহরে ঢুকতে না দেওয়ার অনুরোধ করেন।

এছাড়াও শহরের ভাসমান বেন গাড়ী, ভ্রাম্যমান তরকারি ও ফল বিক্রেতাকে অন্যত্র সরিয়ে দেওয়ার প্রস্তাব করেন।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’