শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

দুই আনসার সদস্য গ্রেপ্তার

হাসপাতালে স্বামীর কাছ থেকে স্ত্রীকে আলাদা করে ধর্ষণের অভিযোগ

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: সোমবার, ১২ জানুয়ারি, ২০২৬, ৪:২২ পিএম
হাসপাতালে স্বামীর কাছ থেকে স্ত্রীকে আলাদা করে ধর্ষণের অভিযোগ

মানিকগঞ্জ ২৫০ শয্যার জেনারেল সদর হাসপাতালে নাইট ডিউটি চলাকালে স্বামীর কাছ থেকে স্ত্রীকে আলাদা করে নিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে দুই আনসার সদস্যের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত দুই আনসার সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে সদর থানা-পুলিশ।

রোববার দিবাগত রাতের এ ঘটনার পর আজ সোমবার দুপুরে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সারওয়ার আলম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ভুক্তভোগী নারীর সঙ্গে কথা বলেন এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন।

পুলিশ ও ভুক্তভোগীর স্বামী জানান, রোববার দিবাগত রাত আনুমানিক দুইটার দিকে তিনি তার স্ত্রীকে নিয়ে নারায়ণগঞ্জ থেকে নিজস্ব চার্জিং ভ্যানে করে মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার বেতিলা এলাকায় শ্বশুরবাড়ির উদ্দেশে রওনা হন। পথে বাসস্ট্যান্ড এলাকায় পৌঁছালে ভ্যানের চার্জ শেষ হয়ে যায়। নিরাপত্তার কথা বিবেচনায় তারা সদর হাসপাতালের সামনে অবস্থান নেন।

এ সময় হাসপাতালের গেটে দায়িত্বরত আনসার সদস্য শাহাদাৎ হোসেন ও আবু সাঈদ সহযোগিতার আশ্বাস দিয়ে দম্পতিকে হাসপাতালের ভেতরে নিয়ে যান। পরে হাসপাতালের নতুন ভবনের নিচতলায় স্বামীকে বসিয়ে রেখে দ্বিতীয় তলায় ভুক্তভোগী নারীকে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে ভয়ভীতি দেখিয়ে অভিযুক্ত দুই আনসার সদস্য পালাক্রমে তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

Model Hospital

পরবর্তীতে ভুক্তভোগী নারী নিচতলায় নেমে স্বামীকে পুরো ঘটনা জানালে স্থানীয়দের সহায়তায় তারা সদর থানায় গিয়ে অভিযোগ দায়ের করেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে হাসপাতালে দায়িত্বে থাকা সব আনসার সদস্যকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডেকে আনলে ভুক্তভোগী নারী অভিযুক্ত দুই সদস্যকে শনাক্ত করেন। এরপর পুলিশ তাদের আটক করে থানায় নিয়ে যায়।

জেলা কমান্ড্যান্টের কার্যালয়ের সহকারী কমান্ডার অভিযোগের বিষয়টি স্বীকার করে জানান, মধ্যরাতে ঘটে যাওয়া এ অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার কথা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অবহিত করা হয়েছে। অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে অভিযুক্তরা যেই হোক না কেন, তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সারওয়ার আলম জানান, ভুক্তভোগীর অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযুক্ত দুই আনসার সদস্যকে রাতেই আটক করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। ভুক্তভোগী নারী যেন যথাযথ চিকিৎসা পান, সে বিষয়টি তদারক করতেই তিনি হাসপাতালে এসেছেন।

সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মোহাম্মদ বাহাউদ্দিন জানান, হাসপাতালের ভেতরে সংঘটিত ধর্ষণের ঘটনায় ভুক্তভোগী নারী সদর থানায় অভিযোগ করেছেন। পুলিশের নির্দেশে তার মেডিকেল পরীক্ষা অব্যাহত রয়েছে।

তিনি আরও জানান, বিষয়টি অত্যন্ত লজ্জাজনক ও অনাকাঙ্ক্ষিত। এ বিষয়ে জেলা কমান্ড্যান্টের কার্যালয়ের দায়িত্বরত কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করা হবে এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হাসপাতাল প্রশাসন সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’