শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

শাহজালাল শাহপরানের বাংলায় ওলী বিদ্বেষীদের ঠাঁই হবে না : মোমবাতির প্রার্থী আহসান উল্লাহ

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারি, ২০২৬, ৮:৫২ পিএম
শাহজালাল শাহপরানের বাংলায় ওলী বিদ্বেষীদের ঠাঁই হবে না : মোমবাতির প্রার্থী আহসান উল্লাহ

গাছতলা দরবার শরীফের পীর সাহেব আল্লামা খাজা আরিফুর রহমান তাহেরী চাঁদপুর-৩ আসনে মোমবাতি প্রতীকের প্রার্থী সাংবাদিক মাওলানা এএইচএম আহসান উল্লাহর নির্বাচনী গণসংযোগ আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেন।

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চাঁদপুর-৩ (সদর ও হাইমচর) আসনে বৃহত্তর সুন্নী জোট সমর্থিত ও বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট মনোনীত প্রার্থী  সাংবাদিক মাওলানা এএইচএম আহসান উল্লাহ গাছতলা দরবার শরীফে মাজার জিয়ারতের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনী প্রচারণা ও গণসংযোগ শুরু করেন।

তিনি বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি ২০২৬) সকালে সদর উপজেলার বাগাদী ইউনিয়নস্থ গাছতলা দরবার শরীফের খাজা আহমদ শাহ (র.)সহ অন্যান্য ওলীগণের মাজার জিয়ারত করেন। দোয়া ও মুনাজাত করেন দরবার শরীফের বর্তমান গদ্দীনশীন পীর আল্লামা খাজা আরিফুর রহমান তাহেরী। মিলাদ কিয়াম পরিচালনা করেন পীরজাদা মাওলানা খাজা জোবায়ের। এরপর তিনি নেতৃবৃন্দকে সাথে নিয়ে সে এলাকায় গণসংযোগ করেন।

গণসংযোগকালে তিনি জনগণের উদ্দেশ্যে বলেন, এই বাংলায় ইসলাম কায়েম হয়েছে আল্লাহর ওলীদের মাধ্যমে। হযরত শাহজালাল (র.),  শাহপরান (র.)সহ ৩৬০জন আল্লাহর ওলী এই উপমহাদেশে ইসলামের দাওয়াত নিয়ে এসেছেন। তাঁদের দাওয়াতী কার্যক্রমে আজকে আমরা মুসলমান এবং এই ভূখণ্ডে ইসলাম প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

অথচ মুসলমান নানধারী কিছু ভণ্ড, প্রতারক, মুনাফেক আল্লাহর ওলীদের অবদানকে অস্বীকার করে তাঁদের সমাধিস্থল পবিত্র মাজারকে ভাংচুর করে অবমাননা করে আসছে। তারা মানুষকে কবর থেকে তুলে পুড়িয়ে ফেলছে, জীবন্ত মানুষকে পিটিয়ে গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন জ্বালিয়ে হত্যা করছে। দুঃখজনক হচ্ছে এসব জঘন্য মানবতা বিরোধী কর্মকাণ্ড তারা ইসলামের দোহাই দিয়ে করে পবিত্র ধর্ম, শান্তির ধর্ম ইসলামকে কলঙ্কিত করছে। অথচ ইসলাম হচ্ছে মানবতার ধর্ম, শান্তি, সম্প্রীতি ও সহমর্মিতার ধর্ম। তাই ওইসব মোনাফেক জঙ্গি গোষ্ঠীকে আসন্ন নির্বাচনে ভোটের মাধ্যমে জবাব দিয়ে দিতে হবে, তাদেরকে প্রত্যাখ্যান করতে হবে।

Model Hospital

তাদেরকে বুঝিয়ে দিতে হবে হযরত শাহজালাল শাহপরানের বাংলায় স্বাধীনতা বিরোধী, জঙ্গি গোষ্ঠী ওলী বিদ্বেষীদের ঠাঁই হবে না। তিনি আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের মার্কা, সুফিবাদের মার্কা মোমবাতি মার্কায় ভোট দিয়ে কোরআন সুন্নাহর শাসন ব্যবস্থা কায়েম এবং সুফিবাদী সমাজ প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখতে সকল নবী প্রেমিক ওলী প্রেমিক সুন্নী মুসলমানকে আহ্বান জানান।

গণসংযোগকালে মোমবাতি প্রতীকের প্রার্থী এএইচএম আহসান উল্লাহ ভোটারদের সাথে কুশল বিনিময় করেন এবং এলাকার উন্নয়নে তার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন।

লিফলেট বিতরণের সময় সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ দেখা যায়। বিশেষ করে তরুণ ভোটার ও ব্যবসায়ীদের সাথে তিনি দীর্ঘ সময় কথা বলেন। সাধারণ ভোটাররা জানান, সৎ ও যোগ্য প্রার্থীর পক্ষে তাদের সমর্থন সবসময় থাকবে।

গণসংযোগকালে প্রার্থী আরও বলেন, মোমবাতি হচ্ছে আলো ও শান্তির প্রতীক। আমরা প্রতিহিংসার রাজনীতিতে বিশ্বাস করি না। শান্তি ও সম্প্রীতির বার্তা   আমরা প্রতিটি ঘরে পৌঁছাতে চাই।
এ সময় দলের নেতৃবৃন্দের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট চাঁদপুর পৌর শাখার সভাপতি মাওলানা আবদুর রউফ খান, ইসলামী যুবসেনা চাঁদপুর সদর উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক কাজী মানিক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নিশাত, ফয়েজ আহমেদ প্রমুখ নেতৃবৃন্দ।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’