শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩
শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩

চাঁদপুর-১ কচুয়া আসনে ভোটযুদ্ধে ৬ প্রার্থী, লড়াই হবে বিএনপি-জামায়াতে

মোঃ রাছেল, কচুয়া প্রকাশিত: শনিবার, ২৪ জানুয়ারি, ২০২৬, ১০:৩৬ পিএম
চাঁদপুর-১ কচুয়া আসনে ভোটযুদ্ধে ৬ প্রার্থী, লড়াই হবে বিএনপি-জামায়াতে

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চাঁদপুর-১ (কচুয়া) আসনে প্রতীক বরাদ্দের পরপর নির্বাচনী মাঠের ভোট যুদ্ধে নেমে পড়েছেন ৬জন প্রার্থী। কচুয়ার এ আসনটি ১২টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভা নিয়ে গঠিত। এখানে মোট ভোটার রয়েছেন ৩ লাখ ৫২ হাজার ৫ শ’৮০ জন। এ আসনে মোট ভোট কেন্দ্র রয়েছে ১১০ টি, তন্মোধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে ১১ টি।

ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোর বিষয়ে কচুয়া থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ বোরহান উদ্দিন জানান, ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে বাড়তি নিরাপত্তা থাকবে। ভোটগ্রহণ শুরু থেকে ফলাফল গণনা শেষ হওয়া পর্যন্ত প্রতিটি কেন্দ্রে পুলিশের বিশেষ টিম দায়িত্ব পালন করবে। এছাড়াও নির্বাচনে নাশকতা সৃষ্টি করতে পারে এমন ব্যক্তি কিংবা গোষ্ঠীর বিষয়ে নিয়মিত আমাদের অভিযান অব্যহত রয়েছে।

এ আসনটিতে ৬জন প্রার্থী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্ধীতা করবেন। আসনটিতে জয়লাভ করতে মরিয়া বিএনপির প্রার্থী ড. আ. ন. ম এহছানুল হক মিলন, ১০ দলীয় জোটের মনোনীত প্রার্থী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মুহাদ্দিস আবু নছর আশরাফীসহ অন্যান্য দলের প্রার্থীরা। যদিও এ আসনে বিগত ১৯৯৬ সাল এবং ২০০১ সালের নির্বাচনে দুই বার বিজয়ী হয়েছেন সাবেক শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

সাধারণ ভোটারদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, এবার এ আসনে হেভিওয়েট প্রার্থী হিসেবে দু’জন রয়েছেন। একজন হলেন বিএনপির প্রার্থী সাবেক শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন
অপরজন হলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মুহাদ্দিস আবু নছর আশরাফী।

Model Hospital

প্রার্থীরা বিভিন্ন পথসভা ও মিছিলের মাধ্যমে গণসংযোগ করছেন। বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, বিএনপি রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আসলে পূর্বের ন্যায় কচুয়ার উন্নয়নে নিজেকে নিয়োজিত রাখবো। আমি নির্বাচিত হলে কচুয়া থাকবে মাদক মুক্ত, সন্ত্রাস মুক্ত ও চাঁদাবাজ মুক্ত।

অন্যদিকে জামায়াত ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী মুহাদ্দিস আবু নছর আশরাফী বলেন, জনগণের অধিকার ও ইসলামী মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠাই আমাদের লক্ষ্য। যদি জনগণ আমাদের ওপরে আস্থা রাখে, আমরা পরিবর্তনের রাজনীতি দেখাব।

এছাড়াও জাতীয় পার্টির লাঙ্গল প্রতীকের প্রার্থী হাবিব খান, গণ-অধিকার পরিষদের ট্রাক প্রতীকের প্রার্থী এনায়েত হোসেন, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট মোমবাতী প্রতীক নিয়ে মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন, গণফোরামের উদীয়মান সূর্য প্রতীকের প্রার্থী মো. আজাদ নির্বাচনী মাঠে প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছেন।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’