শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

৭নং ওয়ার্ডে ধানের শীষের উঠোন বৈঠক

শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক এমপি হলে চাঁদপুরকে সমৃদ্ধ জেলা হিসেবে গড়ে তুলবেন : মোশারফ হোসাইন

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১১:২১ পিএম
শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক এমপি হলে চাঁদপুরকে সমৃদ্ধ জেলা হিসেবে গড়ে তুলবেন : মোশারফ হোসাইন
চাঁদপুর জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আলহাজ্ব মোঃ মোশারফ হোসাইন বলেছেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণার মধ্যদিয়ে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে। আর জনাব তারেক রহমানের নেতৃত্বে আমরা স্বৈরাচার মুক্ত একটি নতুন বাংলাদেশ পেয়েছি। তাই উন্নয়নশীল নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে তারেক রহমানের নেতৃত্বে নির্বাচিত সরকারের প্রয়োজন। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনে সেই সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। ঐদিন আপনারা দলমত নির্বিশেষে ধানের শীষে ভোট দিয়ে বিএনপিকে সরকার গঠন করার সুযোগ করে দিবেন।

২ ফেব্রুয়ারি সোমবার বিকেলে চাঁদপুর পৌরসভার ৮নং ওয়ার্ডে নির্বাচনী উঠোন বৈঠক তিনি এসব কথা বলেন।

আলহাজ্ব মোঃ মোশারফ হোসাইন আরো বলেন, চাঁদপুর-৩ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক শুধু জেলা বিএনপির অভিভাবকই নন, তিনি গোটা চাঁদপুরবাসীর অভিভাবক হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। চাঁদপুরকে শিল্প বান্ধব এবং উন্নয়নশীল একটি জেলা হিসেবে গড়ে তুলতে ১২ই ফেব্রুয়ারি ধানের শীষকে ভোট দিয়ে আপনারা তাকে নির্বাচিত করবেন। শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক আপনাদের ভোটে এমপি নির্বাচিত হলে তিনি চাঁদপুরকে একটি সমৃদ্ধ জেলা হিসেবে গড়ে তুলবেন। তার সেই স্বপ্ন পূরণে আমার সম্মানের দিকে তাকিয়ে হলেও আপনারা এই ওয়ার্ড থেকে সর্বোচ্চ ভোট দিয়ে ধানের শীষকে বিজয়ী করবেন।

৮নং ওয়ার্ড বিএনপি সভাপতি সভাপতি খোকন মিজির সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক শাহাদাত হালদারের পরিচালনায় বিশেষ বক্তব্য রাখেন, জেলা মহিলা দলের সহ-সভাপতি নাইমা মোশারফ, সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট শীরিন সুলতানা মুক্ত, পৌর মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক সুলতান আক্তার সেতু, ৮নং ওয়ার্ড বিএনপির সমন্বয়ক দীন মোহাম্মদ জিল্লু, ৮ নং ওয়ার্ড যুবদলের সমন্বয়ক বদিজ্জামান মুন্না।

Model Hospital

এসময় জেলা এবং ওয়ার্ড বিএনপি, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, ছাত্রদল ও মহিলা দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’