শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

ফরিদগঞ্জের চরদুঃখিয়া পূর্ব ইউনিয়নে ধানের শীষের পথসভায়

তারেক রহমানকে আগামীর প্রধানমন্ত্রী করতে হবে : লায়ন হারুনুর রশিদ

এস. এম ইকবাল প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১০:১৬ পিএম
তারেক রহমানকে আগামীর প্রধানমন্ত্রী করতে হবে : লায়ন হারুনুর রশিদ

ফরিদগঞ্জের চরদুঃখিয়া পূর্ব ইউনিয়নে গণসংযোগ ও পথসভায় বক্তব্য রাখেন ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী লায়ন মো. হারুনুর রশিদ।

চাঁদপুর-৪ (ফরিদগঞ্জ) আসনে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী লায়ন মো. হারুনুর রশিদ বলেছেন, দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে দেশের মানুষ ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ থেকে বঞ্চিত ছিল। এই সময়ে জনগণ তাদের ন্যায্য ও সাংবিধানিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছে। তবে ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে আবারও ভোটাধিকার ফিরে পাওয়ার সম্ভাবনার দ্বার উন্মুক্ত হয়েছে। এ সুযোগকে কাজে লাগিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগ করে তারুণ্যে অহংকার তারেক রহমানকে আগামীর প্রধানমন্ত্রী করতে সহযোগিতা করতে হবে।
মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ফরিদগঞ্জ উপজেলার চরদুঃখিয়া পূর্ব ইউনিয়নের ৯টি ওয়ার্ডে ধারাবাহিক গণসংযোগ ও পথসভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় তিনি সাধারণ ভোটারদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন এবং আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট প্রার্থনা করেন।
লায়ন হারুনুর রশিদ বলেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচন জনগণের জন্য একটি ঐতিহাসিক সুযোগ। ভোটের মাধ্যমেই নিজেদের মতামত ও প্রত্যাশা প্রকাশ করা সম্ভব। গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার এবং জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের প্রতীক হচ্ছে বিএনপির নির্বাচনী প্রতীক ‘ধানের শীষ’। এই প্রতীকে ভোট দিয়েই গণতান্ত্রিক আন্দোলনকে আরও বেগবান করতে হবে।
তিনি বিএনপি ঘোষিত ৩১ দফা কর্মসূচির কথা উল্লেখ করে বলেন, এসব কর্মসূচিতে নারীদের কল্যাণ, অধিকার ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার নানা উদ্যোগ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এ কর্মসূচির সুফল পেতে হলে ভোটাধিকার প্রয়োগের কোনো বিকল্প নেই। জনগণকে সচেতনভাবে ভোট দিয়ে নিজেদের অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।
বক্তব্যে তিনি আরও বলেন, বিএনপি একটি সুসংগঠিত ও ঐক্যবদ্ধ রাজনৈতিক দল। দল ও প্রতীকের বাইরে অন্য কোনো প্রতীকে বিভ্রান্ত না হয়ে ধানের শীষের পক্ষেই অবস্থান নেওয়ার জন্য নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
পথসভা ও গণসংযোগকালে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট দুলাল মিয়া পাটওয়ারী, ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি ও ইউপি চেয়ারম্যান বাছির আহাম্মেদ, বিএনপি নেতা সুমন মেম্বার, সুমন হাওলাদার, আজাদ পাটওয়ারী, জেলা যুবদলের সদস্য ফজলুর রহমান, সাবেক সংসদ সদস্যের পুত্র সাদমান সাকিব অপূর্ব, স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা মানিক পাটওয়ারীসহ বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’