শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩
শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩

ফরিদগঞ্জ বাজার ও বাসস্ট্যান্ড ইজারায় সর্বোচ্চ দরদাতা মজিবুর

এস. এম ইকবাল প্রকাশিত: বুধবার, ৪ মার্চ, ২০২৬, ১২:১৯ এম
ফরিদগঞ্জ বাজার ও বাসস্ট্যান্ড ইজারায় সর্বোচ্চ দরদাতা মজিবুর
চাঁদপুরের ঐতিহ্যবাহী ফরিদগঞ্জ বাজার ও বাসস্ট্যান্ডের ইজারা কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে। সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে উভয় ইজারা পেয়েছেন মজিবুর রহমান।
মঙ্গলবার (৩ মার্চ) বিকেলে ফরিদগঞ্জ পৌরসভার প্রশাসকের কার্যালয়ে পূর্বঘোষিত সময় অনুযায়ী টেন্ডার বাক্স খোলা হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ফরিদগঞ্জ পৌরসভার প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সেটু কুমার বড়ুয়া, ফরিদগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মো. হেলাল উদ্দিন, উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মেজবা উদ্দিন, পৌরসভার সচিব শাহ সুফিয়ান ও নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুল কাদিরসহ সংশ্লিষ্টরা।
টেন্ডার বাক্স খোলার পর দেখা যায়, বাজার ও বাসস্ট্যান্ড মিলিয়ে মোট ছয়টি দরপত্র জমা পড়েছে।
ফরিদগঞ্জ বাজারের ইজারার জন্য তিনটি দরপত্র জমা পড়ে। নাছির উদ্দিন পাটওয়ারী ৩ লাখ টাকা, মজিবুর রহমান ২০ লাখ ৬৪ হাজার টাকা এবং মো. ইসমাইল হোসেন ২ লাখ ৮০ হাজার টাকা উল্লেখ করেন। তবে যাচাই-বাছাইয়ে দেখা যায়, মো. ইসমাইল হোসেন বিডি (পে-অর্ডার) জমা দেননি। সরকারি নির্ধারিত দর ছিল ২০ লাখ ৬৩ হাজার ৮০০ টাকা।
সর্বোচ্চ বৈধ দরদাতা হিসেবে মজিবুর রহমানকে বাজারের ইজারাদার ঘোষণা করা হয়।
অন্যদিকে বাসস্ট্যান্ডের ইজারার জন্যও তিনটি দরপত্র জমা পড়ে। এতে মজিবুর রহমান ৩৩ লাখ ৩৬ হাজার টাকা, নাছির উদ্দিন পাটওয়ারী ৪ লাখ টাকা এবং মো. জাহিদুল ইসলাম ৩ লাখ টাকা উল্লেখ করেন। তবে মো. জাহিদুল ইসলাম বিডিবিহীন দরপত্র জমা দেন। সর্বোচ্চ দরদাতা হওয়ায় বাসস্ট্যান্ডের ইজারাও মজিবুর রহমানের নামে ঘোষণা করা হয়।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সেটু কুমার বড়ুয়া বলেন, “বাজার ও বাসস্ট্যান্ডের জন্য মোট ছয়টি দরপত্র জমা পড়েছে। যাচাই-বাছাই শেষে সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে মজিবুর রহমানকে প্রাথমিকভাবে ইজারা প্রদান করা হয়েছে। তার দাখিলকৃত সব কাগজপত্র সঠিক পাওয়া গেলে তাঁকে চূড়ান্তভাবে বৈধ ইজারাদার ঘোষণা করা হবে।”
ইজারা প্রক্রিয়া ঘিরে পৌর এলাকায় সাধারণ ব্যবসায়ী ও নাগরিকদের মধ্যে আগ্রহ লক্ষ্য করা যায়। সংশ্লিষ্টরা জানান, স্বচ্ছ প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই ইজারা কার্যক্রম সম্পন্ন

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’