শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

বদর দিবসের শিক্ষা কাজে লাগিয়ে ইসলামের স্বর্ণোজ্জ্বল ইতিহাস ফিরে আনতে হবে : মাও. মাকসুদুর রহমান

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: শনিবার, ৭ মার্চ, ২০২৬, ৭:৩৯ পিএম
বদর দিবসের শিক্ষা কাজে লাগিয়ে ইসলামের স্বর্ণোজ্জ্বল ইতিহাস ফিরে আনতে হবে : মাও. মাকসুদুর রহমান

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ চাঁদপুর জেলা শাখার উদ্যোগে ঐতিহাসিক বদর দিবস উপলক্ষে উপজেলা ও জেলা সহযোগী সংগঠনের সিনিয়র দায়িত্বশীলদের সম্মানে ইফতার মহফিলে সভাপতির বক্তব্য রাখেন জেলা সভাপতি হাফেজ মাওলানা মুহাম্মদ মাকসুদুর রহমান।

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ চাঁদপুর জেলা সভাপতি হাফেজ মাওলানা মুহাম্মদ মাকসুদুর রহমান বলেছেন, ১৭ রমজান ঐতিহাসিক বদর দিবস। পবিত্র মাহে রমজান একটি মহিমান্বিত মাস এবং ১৭ রমজান ইতিহাসের একটি তাৎপর্যময় দিন। প্রতি বছর ঘুরে এ মাসটি অত্যন্ত মর্যাদার সাথে আমাদের সামনে উপস্থিত হয়। এ মাসে মুসলিম এবং কাফেরদের মধ্যে ঘটে যাওয়া একটি ঐতিহাসিক যুদ্ধবিষয়ক ঘটনার তাৎপর্য বিশ্বের মুসলমানদের দ্বীন কায়েমের সংগ্রামে নতুনভাবে উজ্জীবিত করে। এ যুদ্ধ কাফেরদের সাথে মুসলমানদের প্রথম যুদ্ধ। প্রতি বছর এ দিনটি আমাদের মাঝে আসে ঈমানী চেতনা জাগ্রত, ইসলামের সুমহান আদর্শের বিপ্লবী দাওয়াত মানুষের কাছে পৌঁছানো এবং দ্বীন কায়েমের বার্তা নিয়ে।

  শনিবার (৭ মার্চ) বিকাল ৪টায় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ চাঁদপুর জেলা শাখার উদ্যোগে বিপণীবাগ জেলা কার্যালয়ে ঐতিহাসিক বদর দিবস উপলক্ষে অনুষ্ঠিত উপজেলা ও জেলা সহযোগী সংগঠনের সিনিয়র দায়িত্বশীলদের সম্মানে ইফতার পূর্ব আলোচনায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি উপরোক্ত কথা বলেন।

তিনি বলেন, ইসলামের ইতিহাসে ঐতিহাসিক বদর যুদ্ধের তাৎপর্য অত্যধিক। এ যুদ্ধ ছিল আত্মরক্ষার, সত্যের পক্ষে, অন্যায়-যুলম ও অবৈধ আধিপত্যের বিরুদ্ধে। সর্বোপরি মানবকল্যাণের নিমিত্তে। এ যুদ্ধে মুসলমানরা সংখ্যায় অনেক কম হয়েও মক্কার কাফির পরাশক্তিকে পরাজিত করে ইসলামের স্বর্ণোজ্জ্বল ইতিহাসের সূচনা করে। এর মাধ্যমে সত্য মিথ্যার পার্থক্য সূচিত হয়। এজন্য এ যুদ্ধকে সত্য-মিথ্যার পার্থক্যকারী বলা হয়। তিনি বলেন, বদর দিবসের শিক্ষা কাজে লাগিয়ে আমাদেরকে ইসলামের স্বর্ণোজ্জ্বল ইতিহাস আবার ফিরে আনতে হবে।

জেলা সেক্রেটারি কেএম ইয়াসিন রাশেদসানীর পরিচালনায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, জেলা সহ-সভাপতি অধ্যক্ষ মাওলানা গাজী মুহাম্মদ হানিফ, জয়েন সেক্রেটারি মাওলানা নাসির উদ্দীন, সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা হেলাল আহমাদ, মাওলানা আবদুল্লাহ তফাদার, ডা. বেলাল হোসাইন, মাওলানা আবদুল্লাহ আল-মামুন, কেএম মুখতার হোসাইন, মাওলানা রাসেল সাঈদ, মাওলানা আবু হানিফ, আলহাজ মোহাম্মদ আলী, মাওলানা শাহজাহান হাবীবী, মাওলানা ইমরান হোসাইন, ছাত্রনেতা ডিএম ফয়সাল, শেখ মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান প্রমুখ।

Model Hospital

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’