শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

চাঁদপুর পৌর ১০ নং ওয়ার্ড জামায়াতের আলোচনা সভা ও ইফতার মাহফিল

আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের নির্দেশনার পরিপন্থী কোন কথা অনুসরণ করা যাবে না : জামায়াত সহকারী সেক্রেটারী জাহাঙ্গীর

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: শনিবার, ৭ মার্চ, ২০২৬, ৯:২২ পিএম
আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের নির্দেশনার পরিপন্থী কোন কথা অনুসরণ করা যাবে না : জামায়াত সহকারী সেক্রেটারী জাহাঙ্গীর

১৭ই রমজান ঐতিহাসিক বদর দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী চাঁদপুর পৌর ১০নং ওয়ার্ডের উদ্যোগে আলোচনা সভা ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

০৭মার্চ শনিবার বিকেলে শহরের নতুন বাজার ডিএন উচ্চ বিদ্যালয় হল রুমে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন জামায়াতে ইসলামীর চাঁদপুর জেলা শাখার সহকারী সেক্রেটারী জাহাঙ্গীর আলম প্রধান। তিনি বলেন, “পবিত্র রমজান আমাদের এমন শিক্ষা দেয়, যেখানে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের নির্দেশনার পরিপন্থী কোনো কথা—যেই বলুক না কেন—তা অনুসরণ করা যাবে না। একজন প্রকৃত মুমিন আল্লাহর বিধানকেই সর্বোচ্চ মানদণ্ড হিসেবে গ্রহণ করে।”

বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন শ্রমিক কল্যান ফেডারেশন জেলা সভাপতি অধ্যাপক রুহুল আমিন, জেলা জামায়াতের নেতা সাবেক জিপি এডভোকেট শেখ আবুল খায়ের মোহাম্মদ সালেহ, শহর জামায়াতের সেক্রেটারী বেলায়েত হোসেন।

Model Hospital

তিনি আরও বলেন, “রমজান কেবল না খেয়ে থাকার নাম নয়; এটি আত্মশুদ্ধি, তাকওয়া অর্জন এবং সমাজকে অন্যায়-অসত্য থেকে মুক্ত করার এক অনন্য প্রশিক্ষণ। ব্যক্তি, পরিবার ও রাষ্ট্রীয় জীবনে আল্লাহভীতি প্রতিষ্ঠিত হলে ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠন সম্ভব।” তিনি তরুণ সমাজকে ইসলামের আদর্শে গড়ে ওঠার আহ্বান জানান এবং নৈতিক অবক্ষয় রোধে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার গুরুত্ব তুলে ধরেন।

১০ নং ওয়ার্ড জামাতের আমির গোলাম মাওলার সভাপ্রধানে বদর দিবসের তাৎপর্য উল্লেখ করে প্রধান আলোচকের বক্তব্য রাখেন জেলা ওলামা মাশায়াখের সভাপতি ছোহাইল আহমেদ চিশতী। ১০ নং ওয়ার্ড জামায়াতের সেক্রেটারি আবুল হাসানের সঞ্চালনায় আরো বক্তব্য রাখেন  জামায়াত নেতা আবু ইউসুফ মোহাম্মদ দুলাল ঢালী। আলোচনা সভা ও ইফতার মাহফিলে দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন কোম্পানি ঘাট জামে মসজিদের খতিব মাওলানা আব্দুল হামিদ।

অনুষ্ঠানে সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন ওয়ার্ড জামায়াতের অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি জামায়াত নেতা ফরহাদ আলম, আলাউদ্দিন ঢালী, আবু সাঈদ শামীম, হাফেজ ইব্রাহিম,মোঃ মারুফ পাটোয়ারী, মাওলানা আবুল কালাম, মাওলানা শাহাদাত বিন আলী, মাসুদ রানা, হাবিব গাজী, জহির খান, মোঃ শাহাদাত (শ্রমিক কল্যাণ), আমিন বেপারী, ফরহাদ গাজী, হাফেজ ইমরান হোসাইন,ফজলে রাব্বি, ডাঃ মহিউদ্দিন,মোঃ ফারুক পাটোয়ারী, রুম্মান পাটোয়ারী, জাকারিয়া সাইমুম, মোঃ মাইনু প্রমুখ।

তিনি আরো বলেন, বদরের শিক্ষা হচ্ছে অন্যায়ের বিরুদ্ধে জীবন উৎস্বর্গ করতে দ্বিধাবোধ না করা। বদরের যুদ্ধে অংশগ্রহনকারী সেই ৩১৩ সাহাবী যেভাবে ইসলাম ও দেশপ্রেমে উজ্জীবিত হয়ে লড়াই করে ইসলামের বিজয় অর্জন করেছে একইভাবে আমাদেরকে নব্য জালেমদের হাত থেকে জাতিকে রক্ষা করে ইসলামী কল্যাণ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করতে হবে।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’