শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩
শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩

ছেংগারচরে কৃষি ব্যাংকের নতুন ভবনে আধুনিক কার্যক্রমের উদ্বোধন

মনিরুল ইসলাম মনির প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৭ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:২১ পিএম
ছেংগারচরে কৃষি ব্যাংকের নতুন ভবনে আধুনিক কার্যক্রমের উদ্বোধন
চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার ছেংগারচরে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের নতুন ভবনে আধুনিক ব্যাংকিং কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল ২০২৬) বিকেলে এক জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে নতুন ভবনে আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে নতুন ভবনের আধুনিক কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন কৃষি ব্যাংকের কুমিল্লা বিভাগীয় কার্যালয়ের মহাব্যবস্থাপক মোঃ ফাতেহ খান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিভাগীয় নিরীক্ষা কার্যালয়, কুমিল্লার বিভাগীয় নিরীক্ষা কর্মকর্তা প্রবীর কুমার দাস।
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন কৃষি ব্যাংকের মুখ্য আঞ্চলিক কার্যালয়, চাঁদপুরের মুখ্য আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ মমতাজ উদ্দিন আহমেদ, কুমিল্লা বিভাগীয় কার্যালয়ের উপ-মহাব্যবস্থাপক খন্দকার নাহিদ হোসেন, ছেংগারচর সরকারি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হোসাইন মোঃ ইয়াসিন এবং মতলব উত্তর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ফয়সাল মোহাম্মদ আলী।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক ছেংগারচর শাখার ব্যবস্থাপক মোঃ ছায়েদ হোসেন এবং সার্বিক সঞ্চালনায় ছিলেন একই শাখার সেকেন্ড অফিসার জয়নায়ল আবেদিন রনি।
অনুষ্ঠানে বক্তারা গ্রাহকসেবার মানোন্নয়ন, আধুনিক ব্যাংকিং সুবিধার সম্প্রসারণ এবং কৃষকদের সহজ শর্তে আর্থিক সহায়তা প্রদানের গুরুত্ব তুলে ধরেন।
গ্রাহকদের পক্ষে বক্তব্য রাখেন মতলব উত্তর উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি এইচ এম ফারুক হোসেন, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী কাউসার আলম, বাবু মিয়া, নূর হোসেন বকাউল ও কামাল হোসেন।
বক্তারা বলেন, নতুন ভবনে আধুনিক ব্যাংকিং কার্যক্রম চালুর ফলে গ্রাহকরা দ্রুত ও উন্নত সেবা পাবেন। বিশেষ করে কৃষকরা সহজে ঋণসহ বিভিন্ন আর্থিক সুবিধা গ্রহণ করতে পারবেন, যা এলাকার কৃষি উন্নয়ন ও সামগ্রিক অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
নতুন এই শাখা উদ্বোধনের মাধ্যমে ছেংগারচর এলাকায় ব্যাংকিং সেবার এক নতুন দিগন্তের সূচনা হয়েছে বলে স্থানীয়রা মনে করছেন।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’