শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩
শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩

সমাজে আলো ছড়াচ্ছে কচুয়া আইনগিরি বাতাবাড়িয়া সমাজ কল্যাণ ফাউন্ডেশন

ইসমাইল হোসেন বিপ্লব, কচুয়া প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৭ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:৫৪ পিএম
সমাজে আলো ছড়াচ্ছে কচুয়া আইনগিরি বাতাবাড়িয়া সমাজ কল্যাণ ফাউন্ডেশন

আত্মা মানবতা সেবায় সব সময় এলাকায় সামাজিক ও মানবিক কাজ করে যাচ্ছেন কচুয়া উপজেলার গোহট উত্তর ইউনিয়নের আইনগিরি বাতাবাড়িয়া সমাজ কল্যাণ ফাউন্ডেশন।

আইনগিরি গ্রামের কৃতি সন্তান ও বিশিষ্ট সমাজসেবক মোঃ কাউছার হোসেন বলেন,সমাজের কল্যানে নিজেদের নিবেদিত করার প্রত্যয় থেকে এই ফাউন্ডেশন সৃষ্টি। এই সংগঠনটি গড়ে উঠার পেছনে যুবকদের পাশাপাশি রয়েছে সমাজের বিভিন্ন স্তরের অসংখ্য গুণী মানুষের দিক নির্দেশনা।

যারা নিজেদের অর্থ, শ্রম ও বুদ্ধি-পরামর্শ দিয়ে এই ফাউন্ডেশনকে এগিয়ে নিতে সহযোগিতা করে আসছেন। ফাউন্ডেশনের প্রতিটি কাজে সদস্য ও সেচ্ছাসেবকদের পাশাপাশি রয়েছে সমাজের প্রতিটি মানুষের অংশগ্রহণ। যাদের অর্থ ও শ্রমের কল্যানেই আজ ফাউন্ডেশন এই প্লাটফর্মে দাঁড়িয়ে আছে।

ফাউন্ডেশনের সূত্র জানা যায়, এই ফাউন্ডেশন আত্মমানবতার সেবায় অঙ্গীকারবদ্ধ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করায় কচুয়া উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের থেকে কচুয়া উপজেলার শ্রেষ্ঠ ফাউন্ডেশন হিসেবে সম্মাননা ক্রেস্ট ও স্বীকৃতি লাভ অর্জন করেছেন। এছাড়াও বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি দপ্তর থেকে মানবিক কাজকরায় ফাউন্ডেশনটি পুরস্কার পেয়েছেন।

Model Hospital

ফাউন্ডেশন’ একটি সম্পূর্ণ অসাম্প্রদায়িক, অরাজনৈতিক, অলাভজনক, স্বেচ্ছাসেবী, সামাজিক, গণতান্ত্রিক এবং জনকল্যাণমুখী সংগঠন। ‘আইনগিরি বাতাবাড়িয়া সমাজ কল্যাণ ফাউন্ডেশন’ এর মূখ্য উদ্দেশ্য হচ্ছে সমাজের সামগ্রিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখা।

সামাজিক বিধিবিধান মেনে চলা, সমাজের অর্থনৈতিক উন্নয়ন, সামাজিক বন্ধন, ভ্রাতৃত্ববোধ গঠন, অসহায় ও অধিকার বঞ্চিত মানুষদের পাশে থাকতে ফাউন্ডেশন’ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সামাজিক সংগঠন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পর্যাপ্ত সামাজিক সংগঠন ও স্বেচ্ছাসেবক টিম থাকলে বিভিন্ন দূর্যোগে মানুষের দূর্ভোগ লাঘবে বিশেষ ভূমিকা রাখতে সহজতর হয়। তাছাড়া বিভিন্ন প্রতিকূল পরিবেশে মানুষের সাহায্যে সামাজিক সংগঠন ব্যাপক ভূমিকা রাখতে পারে। জনকল্যাণমূলক বা আর্তমানবতার সেবায় কাজ করার লক্ষ্যে ২০১৯ খ্রিস্টাব্দে প্রতিষ্টিত হয়।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’