শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

চাঁদপুরে জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ ও শীতকালীন ক্রীড়া প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: রবিবার, ১২ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:১৩ পিএম
চাঁদপুরে জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ ও শীতকালীন ক্রীড়া প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ

চাঁদপুরে জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ ও শীতকালীন ক্রীড়া প্রতিযোগিতা পুরস্কার বিতরণ করেন চাঁদপুর সদর উপজেলার ভূমি কর্মকর্তা বাপ্পী দত্ত রনি।

চাঁদপুরে জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ -২০২৬ ও ৫৪ তম শীতকালীন জাতীয় ক্রীড়া প্রতিযোগিতা পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

রবিবার (১২ এপ্রিল) দুপুর ১১ টায় চাঁদপুর সদর উপজেলা মিলনায়তনে উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চাঁদপুর সদর উপজেলার ভূমি কর্মকর্তা বাপ্পী দত্ত রনি।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন বর্তমান বিশ্ব দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে এবং প্রযুক্তিনির্ভর হয়ে উঠছে। শুধুমাত্র পাঠ্যপুস্তকের জ্ঞান দিয়ে এই প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে টিকে থাকা সম্ভব নয়। পাঠ্যপুস্তকের জ্ঞান ও বাস্তবমুখী শিক্ষার সমন্বয় ঘটাতে না পারলে আমরা বিশ্বের তুলনায় ১০ থেকে ১৫ বছর পিছিয়ে থাকবো। আমাদের বর্তমান পাঠ্যক্রম এখনো যুগোপযোগী নয়, তবে সরকার এটিকে আধুনিকায়নের উদ্যোগ নিচ্ছে—এটা আশাব্যঞ্জক।

Model Hospital

তিনি আরও বলেন, বিশেষ করে বিজ্ঞান শিক্ষার ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের বেসিক ধারণা অনেক সময় পরিষ্কার থাকে না। ফলে তারা উচ্চ প্রযুক্তি বা উদ্ভাবনী কাজে দক্ষতা অর্জন করতে পারে না। এ ক্ষেত্রে শিক্ষক ও অভিভাবকদের আরও দায়িত্বশীল হতে হবে। বিষয়ভিত্তিক শিক্ষকরা—বিশেষ করে ফিজিক্স ও কেমিস্ট্রির শিক্ষকরা—শিক্ষার্থীদের কতটা দক্ষতার সাথে বুঝাতে পারছেন, সেটি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা প্রয়োজন।

তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, পড়াশোনার পাশাপাশি নিজেদের সময়ের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। অযথা আড্ডা দেওয়া, অতিরিক্ত মোবাইল ব্যবহার এবং সময় নষ্ট করার প্রবণতা থেকে দূরে থাকতে হবে। এসব কারণে আমাদের দেশের অনেক শিক্ষার্থী ধীরে ধীরে শিক্ষায় পিছিয়ে যাচ্ছে। শিক্ষার্থীদের উচিত নিজের লক্ষ্য নির্ধারণ করে নিয়মিত অধ্যবসায়ের মাধ্যমে এগিয়ে যাওয়া।

তিনি আরও বলেন, একটি জাতির উন্নয়নের মূল চালিকাশক্তি হলো শিক্ষিত যুবসমাজ। তাই শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের সমন্বিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে একটি জ্ঞানভিত্তিক ও দক্ষ প্রজন্ম গড়ে তুলতে হবে। তাহলেই আমরা উন্নত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে সক্ষম হবো।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার (চাঁদপুর সদর)- মোহাম্মদ জাকির হোসেন। ওসমানিয়া কামিল মাদ্রাসার বাংলা বিভাগের শিক্ষক এম আর ইসলাম বাবু এর সঞ্চালনায়, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, জিএম হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক রুহুল আমিনসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক ও প্রতিনিধি শিক্ষক, ক্রীড়া শিক্ষকসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা ও সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’