লক্ষ্মীপুরে ছেলেসহ তিনজনকে কুপিয়ে আহত, ছাদ থেকে লাফিয়ে কনস্টেবলের মৃত্যু
লক্ষ্মীপুর পৌর শহরে ঘুমন্ত ছেলেসহ তিনজনকে কুপিয়ে আহত করার পর ভবনের ছাদ থেকে লাফিয়ে পড়ে নাছির আহমেদ (৫৫) নামের এক অবসরপ্রাপ্ত ট্রাফিক পুলিশ কনস্টেবলের মৃত্যু হয়েছে। আজ সোমবার সকালে শহরের বাঞ্চানগর এলাকার পেশকার বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত নাছির আহমেদ চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার পূর্ব এখলাছপুর গ্রামের আরশাদ আলীর ছেলে। তিনি গত বছরের আগস্টে ট্রাফিক কনস্টেবল পদ থেকে অবসরে যান। পরিবার নিয়ে গত সাত বছর ধরে তিনি ওই এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করছিলেন।

আহত ব্যক্তিরা হলেন—নাছিরের ছোট ছেলে ইমরান আহমেদ, প্রতিবেশী মিজানুর রহমান স্বপন এবং একই বাড়ির আরেক ভাড়াটিয়া নাছির। ইমরান লক্ষ্মীপুর সরকারি কলেজের এইচএসসি দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী।

আহতদের স্বজন ও স্থানীয় লোকজনের ভাষ্য, নাছিরের স্ত্রী বড় ছেলেকে নিয়ে বেড়াতে যাওয়ায় বাসায় তিনি ও তাঁর ছোট ছেলে ইমরান ছিলেন। গত রাত থেকেই নাছির কিছুটা অসুস্থ ছিলেন বলে জানান তাঁরা। সকালে হঠাৎ তিনি ধারালো দা দিয়ে ঘুমন্ত ছেলেকে এলোপাতাড়ি কোপাতে শুরু করেন। রক্তাক্ত অবস্থায় ইমরান ঘর থেকে বের হয়ে পালানোর চেষ্টা করলে নাছির তাঁর পেছনে ধাওয়া করেন।

এ সময় প্রতিবেশী মিজানুর রহমান স্বপন এগিয়ে এসে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করলে তাকেও কুপিয়ে আহত করা হয়। পরে তাঁদের বাঁচাতে এগিয়ে আসা একই বাড়ির আরেক ভাড়াটিয়া নাছিরও হামলার শিকার হন। এরপর অভিযুক্ত নাছির দৌড়ে ভবনের তৃতীয় তলার ছাদে উঠে সেখান থেকে নিচে লাফিয়ে পড়েন।
গুরুতর আহত অবস্থায় চারজনকে উদ্ধার করে লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঘটনার প্রায় তিন ঘণ্টা পর নাছির আহমেদের মৃত্যু হয়। গুরুতর আহত ইমরান ও স্বপনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। অন্য আহত ব্যক্তি সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
লক্ষ্মীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) হোসাইন মোহাম্মদ রায়হান কাজেমী বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, অভিযুক্ত ব্যক্তি মানসিক ভারসাম্যহীন ছিলেন। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।








