বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩

লক্ষ্মীপুরে ছেলেসহ তিনজনকে কুপিয়ে আহত, ছাদ থেকে লাফিয়ে কনস্টেবলের মৃত্যু

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: সোমবার, ১৩ এপ্রিল, ২০২৬, ৬:৩০ পিএম
লক্ষ্মীপুরে ছেলেসহ তিনজনকে কুপিয়ে আহত, ছাদ থেকে লাফিয়ে কনস্টেবলের মৃত্যু

লক্ষ্মীপুর পৌর শহরে ঘুমন্ত ছেলেসহ তিনজনকে কুপিয়ে আহত করার পর ভবনের ছাদ থেকে লাফিয়ে পড়ে নাছির আহমেদ (৫৫) নামের এক অবসরপ্রাপ্ত ট্রাফিক পুলিশ কনস্টেবলের মৃত্যু হয়েছে। আজ সোমবার সকালে শহরের বাঞ্চানগর এলাকার পেশকার বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত নাছির আহমেদ চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার পূর্ব এখলাছপুর গ্রামের আরশাদ আলীর ছেলে। তিনি গত বছরের আগস্টে ট্রাফিক কনস্টেবল পদ থেকে অবসরে যান। পরিবার নিয়ে গত সাত বছর ধরে তিনি ওই এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করছিলেন।

আহত ব্যক্তিরা হলেন—নাছিরের ছোট ছেলে ইমরান আহমেদ, প্রতিবেশী মিজানুর রহমান স্বপন এবং একই বাড়ির আরেক ভাড়াটিয়া নাছির। ইমরান লক্ষ্মীপুর সরকারি কলেজের এইচএসসি দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী।

আহতদের স্বজন ও স্থানীয় লোকজনের ভাষ্য, নাছিরের স্ত্রী বড় ছেলেকে নিয়ে বেড়াতে যাওয়ায় বাসায় তিনি ও তাঁর ছোট ছেলে ইমরান ছিলেন। গত রাত থেকেই নাছির কিছুটা অসুস্থ ছিলেন বলে জানান তাঁরা। সকালে হঠাৎ তিনি ধারালো দা দিয়ে ঘুমন্ত ছেলেকে এলোপাতাড়ি কোপাতে শুরু করেন। রক্তাক্ত অবস্থায় ইমরান ঘর থেকে বের হয়ে পালানোর চেষ্টা করলে নাছির তাঁর পেছনে ধাওয়া করেন।

Model Hospital

এ সময় প্রতিবেশী মিজানুর রহমান স্বপন এগিয়ে এসে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করলে তাকেও কুপিয়ে আহত করা হয়। পরে তাঁদের বাঁচাতে এগিয়ে আসা একই বাড়ির আরেক ভাড়াটিয়া নাছিরও হামলার শিকার হন। এরপর অভিযুক্ত নাছির দৌড়ে ভবনের তৃতীয় তলার ছাদে উঠে সেখান থেকে নিচে লাফিয়ে পড়েন।

গুরুতর আহত অবস্থায় চারজনকে উদ্ধার করে লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঘটনার প্রায় তিন ঘণ্টা পর নাছির আহমেদের মৃত্যু হয়। গুরুতর আহত ইমরান ও স্বপনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। অন্য আহত ব্যক্তি সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

লক্ষ্মীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) হোসাইন মোহাম্মদ রায়হান কাজেমী বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, অভিযুক্ত ব্যক্তি মানসিক ভারসাম্যহীন ছিলেন। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

মতলবে ডেঙ্গুর উপসর্গে হাসপাতালে ভর্তির দুই ঘণ্টার মধ্যেই তরুণের মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:১৩ পিএম
মতলবে ডেঙ্গুর উপসর্গে হাসপাতালে ভর্তির দুই ঘণ্টার মধ্যেই তরুণের মৃত্যু

চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডেঙ্গুর উপসর্গ নিয়ে ভর্তির মাত্র দুই ঘণ্টার মধ্যে মো. সিয়াম (২০) নামের এক তরুণের মৃত্যু হয়েছে।

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) রাত নয়টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। সিয়াম উপজেলার খাগুরিয়া গ্রামের কৃষক আবদুস সোবাহানের ছেলে।

স্বজনেরা জানান, প্রায় এক সপ্তাহ ধরে প্রচণ্ড জ্বরে ভুগছিলেন সিয়াম। তবে কোনো চিকিৎসকের কাছে না গিয়ে বাড়িতেই অবস্থান করছিলেন তিনি। গতকাল সন্ধ্যা সাতটার দিকে শারীরিক অবস্থার চরম অবনতি হলে বাবা আবদুস সোবাহান তাকে মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসেন।

হাসপাতালে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তার শরীরে ডেঙ্গুর উপসর্গ শনাক্ত হয়। এ সময় তার নাক ও মুখ দিয়ে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হতে থাকে। রোগীর অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটায় কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরের (রেফার) পরামর্শ দেন। ঢাকায় নেওয়ার জন্য অ্যাম্বুলেন্সও প্রস্তুত করা হয়েছিল। তবে রওনা দেওয়ার আগেই রাত নয়টার দিকে হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।

Model Hospital

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসা কর্মকর্তা মো. মোবারক হোসেন মামুন জানান, হাসপাতালে নিয়ে আসার পর দেখা যায় তরুণের নাক ও মুখ দিয়ে রক্তক্ষরণ হচ্ছে এবং রক্তচাপ আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে। জরুরি ভিত্তিতে ঢাকায় পাঠানোর সব প্রস্তুতি নেওয়া হলেও তার আগেই তার মৃত্যু হয়।

ছেলের মৃত্যুতে ভেঙে পড়ে বাবা আবদুস সোবাহান বলেন, আমার পোলাডার এক সপ্তাহ ধইরা জ্বর আছিল। ওরে কইছিলাম ডাক্তারের কাছে যাইতে, কিন্তু হুনল না। অবস্থা বেশি খারাপ হইলে সন্ধ্যায় হাসপাতালে আনলাম। হাসপাতালে আনার পরই নাক-মুখ দিয়া রক্ত পড়া শুরু হয়। ঢাকা নেওয়ার জন্য অ্যাম্বুলেন্সও ঠিক করছিলাম, কিন্তু তার আগেই আমার সব শ্যাষ অইয়া গেল।