শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

চাঁদপুর ড্যাফোডিল স্কুল এন্ড কলেজের এইচএসসি নির্বাচনী পুনঃ পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশে পরামর্শ সভা

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: সোমবার, ১৩ এপ্রিল, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
চাঁদপুর ড্যাফোডিল স্কুল এন্ড কলেজের এইচএসসি নির্বাচনী পুনঃ পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশে পরামর্শ সভা

চাঁদপুর ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল স্কুল এন্ড কলেজের এইচ.এস.সি পুনঃ পরীক্ষার (নির্বাচনী) এর ফলাফল প্রকাশের জন্য করণীয় বিষয়ে পরামর্শমূলক সভায় বক্তব্য রাখেন চাঁদপুর প্রেস ক্লাবের সভাপতি সোহেল রুশদী।

চাঁদপুর ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল স্কুল এন্ড কলেজের এইচএসসি পুনঃ পরীক্ষার (নির্বাচনী) এর ফলাফল প্রকাশের জন্য করণীয় বিষয়ে স্কুল এন্ড কলেজ কর্তৃপক্ষের অনুরোধে চাঁদপুর প্রেস ক্লাবের সভাপতি সোহেল রুশদীর সাথে পরামর্শমূলক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

রোববার (১২এপ্রিল) দুপুরে ২টায় অধ্যক্ষের কার্যালয়ে পরামর্শমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়।

এ সময় কলেজ অধ্যক্ষ মো: নূর খানসহ শিক্ষক-শিক্ষিকা, অভিভাবক এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

সভায় জানানো হয়, আন্দোলনরত অকৃতকার্য শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের দাবির প্রেক্ষিতে গঠিত ৬ সদস্যের স্বতন্ত্র রি-এক্সাম কমিটি সম্পূর্ণ নিরপেক্ষভাবে পুনঃপরীক্ষা গ্রহণ করে।

Model Hospital

পরীক্ষা চলাকালে সিসিটিভি তদারকি এবং প্রশাসন ও সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হয়।

উল্লেখ্য, এ প্রক্রিয়ায় কলেজ কর্তৃপক্ষ বা কোনো শিক্ষক সরাসরি হস্তক্ষেপ করেন নি। পরবর্তীতে কমিটির সদস্য, প্রশাসনের প্রতিনিধি ও সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে সর্বসম্মতিক্রমে ফলাফল চূড়ান্ত করা হয় এবং দ্রুত অনলাইন (সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম) ও স্থানীয় পত্রিকায় প্রকাশের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় অংশগ্রহণকারীরা পরীক্ষার স্বচ্ছতা ও কমিটির নিরপেক্ষতায় সন্তোষ প্রকাশ করেন।

এদিকে চাঁদপুর প্রেস ক্লাব বরাবর পুনঃনির্বাচনী পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ প্রসঙ্গে চিঠি প্রদান করেন ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল কলেজ কর্তৃপক্ষ। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, যে যথাযথ সম্মানপূর্বক আপনার সদয় অবগতির জন্য জানাচ্ছি যে, ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল কলেজ, চাঁদপুর-এর ২০২৬ সালে অনুষ্ঠিতব্য এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের নির্বাচনী পরীক্ষায় অকৃতকার্য শিক্ষার্থী ও তাঁদের অভিভাবকদের আবেদনের প্রেক্ষিতে কলেজ কর্তৃপক্ষ পুরনো প্রশ্নে ৩০০ নম্বরের পুনঃনির্বাচনী পরীক্ষা গ্রহণের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।

উক্ত পরীক্ষায় মোট ১২৫ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে, যার মধ্যে ৬২ জন কৃতকার্য হয়েছে, ৫৮ জন অকৃতকার্য হয়েছে এবং নকলের দায়ে ৫ জন শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

পরীক্ষাটি ৬ সদস্যবিশিষ্ট একটি কমিটির তত্ত্বাবধানে সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়েছে। আগামীকাল কলেজের নিজস্ব ফেসবুক পেইজে ও স্থানীয় পত্রিকার মাধ্যমে ফলাফল প্রকাশের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। বিষয়টি আপনার সদয় অবগতির জন্য উপস্থাপন করা হলো।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’