শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহে শাহরাস্তির মেহের ডিগ্রি কলেজ ও অধ্যক্ষ মিজানুর রহমানের শ্রেষ্ঠত্ব

মোঃ মাসুদ রানা প্রকাশিত: সোমবার, ১৩ এপ্রিল, ২০২৬, ১০:১৯ পিএম
জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহে শাহরাস্তির মেহের ডিগ্রি কলেজ ও অধ্যক্ষ মিজানুর রহমানের শ্রেষ্ঠত্ব

জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ–২০২৬ উপলক্ষে চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলার ঐতিহ্যবাহী মেহের ডিগ্রি কলেজ উপজেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (কলেজ) হিসেবে নির্বাচিত হয়েছে। একই সঙ্গে কলেজটির অধ্যক্ষ মোঃ মিজানুর রহমান উপজেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ প্রতিষ্ঠান প্রধান (কলেজ) হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন। এ দুই শীর্ষ সম্মাননার পাশাপাশি বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় আরও ১৩টি স্থান অর্জনসহ মেহের ডিগ্রি কলেজ সর্বমোট ১৫টি পুরস্কার লাভ করে বিশেষ গৌরব অর্জন করেছে।

রবিবার (১৩ এপ্রিল) সকালে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে এবং উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের তত্ত্বাবধানে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এ পুরস্কার বিতরণ করা হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শাহরাস্তি উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নাজিয়া হোসেন।

তিনি কলেজের অধ্যক্ষের হাতে শ্রেষ্ঠত্বের পুরস্কার তুলে দেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইউএনও নাজিয়া হোসেন বলেন, শিক্ষার মানোন্নয়নে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সম্মিলিত প্রচেষ্টা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মেহের ডিগ্রি কলেজের এই অর্জন শুধু প্রতিষ্ঠানটির নয়, বরং সমগ্র উপজেলার জন্য গর্বের বিষয়। তিনি শিক্ষার গুণগত মান আরও উন্নত করতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান এবং ভবিষ্যতেও এ ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে বলে আশা প্রকাশ করেন।

Model Hospital

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, কলেজ পরিচালনা পর্ষদের বর্তমান সভাপতি আবু ইউসুফ পাটওয়ারী রুপন দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই কলেজের সার্বিক কার্যক্রমে আমূল পরিবর্তন এসেছে। শিক্ষার মান উন্নয়ন থেকে শুরু করে শিক্ষার্থীদের নানা সমস্যা চিহ্নিত করে তা সমাধানে তিনি সাহসী ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন। যার ফলশ্রুতিতে বিগত বছরের ধারাবাহিকতায় এবারও মেহের ডিগ্রি কলেজ উপজেলা পর্যায়ে মেধার স্বাক্ষর রাখলো।

এই অনন্য অর্জনে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে কলেজের অধ্যক্ষ মোঃ মিজানুর রহমান বলেন, এই গৌরবময় অর্জন আমাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফল। বিশেষ করে পরিচালনা পর্ষদের সম্মানিত সভাপতি আবু ইউসুফ পাটওয়ারী রুপন মহোদয়ের দিকনির্দেশনা ও সার্বক্ষণিক তদারকি আমাদের পথচলাকে মসৃণ করেছে।

আমরা শুধু পাঠ্যপুস্তকভিত্তিক শিক্ষার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকতে চাই না; শিক্ষার্থীদের নৈতিক মূল্যবোধ ও শৃঙ্খলার বিকাশেও সমান গুরুত্ব দিচ্ছি। শিক্ষকদের সমন্বিত প্রচেষ্টা এবং অভিভাবকদের সহযোগিতায় মেহের ডিগ্রি কলেজকে জেলার গণ্ডি ছাড়িয়ে জাতীয় পর্যায়ে একটি মডেল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে পারবো বলে আমার বিশ্বাস।

কলেজ পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি আবু ইউসুফ পাটওয়ারী রুপন বলেন, আমাদের লক্ষ্য ছিল মেহের ডিগ্রি কলেজের হারানো ঐতিহ্য ফিরিয়ে এনে এটিকে একটি আধুনিক ও মানসম্মত বিদ্যাপীঠে রূপান্তর করা। আজকের এই ফলাফল প্রমাণ করে আমরা সঠিক পথেই এগিয়ে যাচ্ছি। দায়িত্ব গ্রহণের পর শিক্ষার পরিবেশ ও অবকাঠামোগত উন্নয়নে যে পরিকল্পনা হাতে নিয়েছি, তা বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট সকলের সহযোগিতা প্রয়োজন। ভবিষ্যতে এই কলেজ আরও সাফল্যের শিখরে পৌঁছাবে বলে আমরা আশাবাদী।

অধ্যক্ষ মিজানুর রহমান এ সফলতার জন্য কলেজ পরিচালনা পর্ষদের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গের গুরুত্বপূর্ণ অবদানের কথা উল্লেখ করেন।

এদের মধ্যে রয়েছেন— উপজেলা বিএনপি সভাপতি ও কলেজ দাতা সদস্য আলহাজ্ব আয়েত আলী ভূঁইয়া, বিদ্যুৎসাহী সদস্য হিসেবে সাবেক সভাপতি ও সাবেক ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ যদু চন্দ্র শীল, চিকিৎসক প্রতিনিধি সহকারি অধ্যাপক কার্ডিলজি বিভাগ কুমিল্লা সরকারি হাসপাতাল ডা.আহসানুল কবির, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক মোঃ ইকবাল হোসেন, উপজেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক অ্যাডভোকেট শাহেদুল হক মজুমদার সোহেল এবং প্রভাষক সুফিয়া বেগম।

এছাড়া অভিভাবক সদস্য হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন গাজী কবির, কাউন্সিলর আবুল কাশেম ও জাকির হোসেন। শিক্ষক প্রতিনিধিদের মধ্যে এই সাফল্যের সারথি হিসেবে সক্রিয় ছিলেন শিক্ষক আহসান উল্লাহ ও ফারজানা আক্তার।

উপজেলা পর্যায়ে এ বিশাল অর্জনে কলেজের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবক মহলে আনন্দের বন্যা বইছে।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’