শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩
শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩

শাহতলী কামিল মাদরাসার দাখিল পরীক্ষার্থীদের দোয়া ও মিলাদ

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল, ২০২৬, ৯:৩৯ পিএম
শাহতলী কামিল মাদরাসার দাখিল পরীক্ষার্থীদের দোয়া ও মিলাদ
চাঁদপুর সদর উপজেলার শতবছরের ঐতিহ্যবাহী শাহতলী কামিল মাদরাসার ২০২৬ইং সনের দাখিল পরীক্ষার্থীদের মিলাদ ও দোয়া অনুষ্ঠিত হয়েছে।
২৬ এপ্রিল (বৃহস্পতিবার) সকাল ১০টায় মাদরাসা মিলনায়তনে মাদরাসার অধ্যক্ষ মাওলানা মোহাম্মদ বিলাল হোসাইন এর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি’র বক্তব্য রাখেন মাদরাসা গভর্নিং বডির সভাপতি ও চাঁদপুর প্রেস ক্লাবের সভাপতি সোহেল রুশদী।
প্রধান অতিথি মাদরাসা গভর্নিং বডির সভাপতি ও চাঁদপুর প্রেস ক্লাবের সভাপতি সোহেল রুশদী বক্তব্যে বলেন, এ মাদরাসায় সুনাম রয়েছে। দিন দিন ছাত্রের পাশাপাশি ছাত্রীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে, এটি খুবই ভালো দিক।এখানে শিক্ষার্থীরা ক্লাস ওয়ানে ভর্তি হলে এম এ পর্যন্ত পড়াশুনা করতে পারে। তোমাদের ভবিষ্যৎ জীবনের জন্য এ মাদরাসা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। ১৯০১সালে এ মাদরাসাটি শুরু করেন মরহুম হাজী ছমির উদ্দিন কারী সাহেব। ১৯৬৬সালে এ মাদরাসায় কামিল প্রতিষ্ঠা করেন আমার দাদা মরহুম এটি আহমেদ হোসাইন রুশদী সাহেব।
তিনি বলেন, এ অঞ্চলের মানুষদের সহযোগিতায় এ প্রতিষ্ঠানটি এগিয়ে চলছে। সকলের প্রচেষ্টায় এ প্রতিষ্ঠানকে এগিয়ে নিতে হবে। মাদরাসায় পড়ালেখার মান বৃদ্ধি করতে হবে। মাদরাসার ফলাফল ভালো করতে হবে, যাতে সুনাম ছড়িয়ে পড়ে। ছাত্রীদের মাদরাসায় আসার পথে কোন সমস্যা অনুভব হলে, তোমরা  অধ্যক্ষ ও শিক্ষকদের জানাবে। আমি আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করব। তোমাদের নিরাপত্তার দায়িত্ব আমাদের। শিক্ষার উন্নয়নে মাদরাসার কমিটি ও শিক্ষকবৃন্দ সব সময় কাজ করছে। ছাত্রীদের আমি আশস্ত করতে চাই, তোমরা মাদরাসায় উৎসাহ উদ্দিপনার মধ্যে আসবা।
তিনি আরও বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মিড ডে মিল চালু করেছেন। শিক্ষার্থীদের মিড ডে মিল খুবই প্রশংসার দাবিদার। এতে বিদ্যালয়ে উপস্থিতি বৃদ্ধি পাচ্ছে। শিক্ষার্থীদের প্রতিদিন নাস্তা (ডিম, রুটি, কলা) ইত্যাদি নাস্তা দেওয়া হচ্ছে। সামনে তোমাদের দাখিল পরীক্ষা, তোমরা পরীক্ষায় ভালো ফলাফল অর্জন করে মাদরাসার সুনাম বৃদ্ধি করবে। তোমরাই আগামী দিনের ভবিষ্যৎ।
মাদরাসার সহকারি অধ্যাপক মো: কামাল উদ্দিনের পরিচালনায় আরো বক্তব্য রাখেন ও উপস্থিত ছিলেন, মাদরাসার উপাধ্যক্ষ মাওলানা ইয়াছিন মিয়া, প্রধান মুহাদ্দিস মাওলানা আখতার হোসাইন, সহকারি অধ্যাপক মাওলানা এমদাদ উল্ল্যাহ, সহকারি অধ্যাপক প্রভাষক মোহাম্মদুল্লা, সহকারি অধ্যাপক মোঃ বেলায়েত হোসেন মিজি, আরবী প্রভাষক মাওলানা এ এন এম হেলাল উদ্দিন, প্রভাষক মাওলানা নাজির হোসাইন, সিনিয়র শিক্ষক হাফেজ জহিরুল হক, সিনিয়র শিক্ষক মাওলানা মিজানুর রহমান, সহকারি শিক্ষক মাওলানা আব্দুল হালিম গাজী, সহকারি শিক্ষক মো: হাবিবুর রহমান, সহকারি শিক্ষক মাওলানা বাহাউদ্দিন, সহকারি শিক্ষক মাওলানা আনিসুর রহমান, ইবতেদায়ী প্রধান শরীফ মো: মোস্তফা খান, , মাদরাসার সহকারি শিক্ষক জাহাঙ্গীর আলম, সহকারি শিক্ষক (শরীরচর্চা) মো: শরীফ হাওলাদার, হিসাব রক্ষক মো: শরীফুর রহমান খান, জিলানী চিশতী কলেজের অফিস ইনচার্জ মো: রানা সরকার, মাদরাসার অফিস সহকারি মো: রিয়াদ হোসেন, অফিস সহকারি মো: শরীফ খান, সহ অন্যান্য শিক্ষকবৃন্দ।
অনুষ্ঠান শেষে দোয়া ও মিলাদের আয়োজন করা হয়। দোয়া, মিলাদ ও মুনাজাত পরিচালনা করেন ও সভাপতির বক্তব্য রাখেন,  শাহতলী কামিল মাদরাসার অধ্যক্ষ মাওলানা মোহাম্মদ বিলাল হোসাইন।
পর সকাল ১১টায় উত্তর শাহতলী জোবাইদা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের এসএসসি পরীক্ষার্থীদের বিদায়, দোয়া ও মিলাদ অনুষ্ঠিত হয়।
দোয়া ও মিলাদ অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ নুরুজ্জামান এর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি সোহেল রুশদী।
তিনি বলেন, এ বিদ্যালয়টি শিক্ষা বিস্তারে এলাকায় ভূমিকা রাখছে। তোমরা লেখাপড়ার পাশাপাশি সাধারণ জ্ঞান অর্জন করতে হবে৷ এ বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হওয়াতে এলাকার মেয়েরা এখানে পড়ার সুযোগ পেয়েছে। সাবেক এমপি রাশেদা বেগম হীরা এ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ছিলেন। তোমরা ভালো রেজাল্ট করে পাশের প্রতিষ্ঠান জিলানী চিশতী কলেজে ভর্তি হবে।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নির্বাচনের সময় দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করছেন৷ তিনি দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। তিনি প্রাইমারি স্কুলে শিক্ষার্থীদের নাস্তার ব্যবস্থা চালু করেছেন।  ডিম, পাউরুটি দ, কলা দিচ্ছে৷ এতে ঝড়ে পড়া রোধ হচ্ছে৷ শিক্ষার মান উন্নয়নে কাজ করতে হবে। এ বিদ্যালয়ের ছাত্রীরা খুবই মেধাবী৷
এসময় উপস্থিত ছিলেন, জিলানী চিশতী কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো: কামরুল হাসান, জিলানী চিশতী উবির প্রধান শিক্ষক মো: মোহসীন উদ্দিন, ৩০ন্য মধ্য শাহতলী কাদেরিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়েরর প্রধান শিক্ষিকা মোসা: তহমিনা আক্তার, ২৯নং উত্তর শাহতলী যোবাইদা বালক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো: দিদার হোসেন মিজি সহ বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকাবৃন্দ৷
শেষে দোয়া ও মিলাদ অনুষ্ঠিত হয়। দোয়া ও মিলাদ পরিচালনা করেন বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক মো: মনির হোসেন।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’