শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

মতলব উত্তরে মাদকবিরোধী বর্ণাঢ্য র‍্যালি ও আলোচনা সভা

মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে একযোগে কাজ করতে হবে : ড. জালাল উদ্দিন এমপি

মনিরুল ইসলাম মনির প্রকাশিত: শনিবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২৬, ৯:৩৪ পিএম
মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে একযোগে কাজ করতে হবে : ড. জালাল উদ্দিন এমপি

চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে মাদকবিরোধী সচেতনতা গড়ে তুলতে এক বর্ণাঢ্য র‍্যালি ও সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

ছেংগারচর পৌরসভা প্রাঙ্গণ থেকে র‍্যালিটি বের হয়ে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে একই স্থানে এসে শেষ হয়। র‍্যালিতে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী, শিক্ষক, জনপ্রতিনিধি এবং বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অংশ নেন।
র‍্যালি শেষে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহমুদা কুলসুম মনি। তিনি বলেন, সমাজকে মাদকমুক্ত রাখতে প্রশাসনের পাশাপাশি পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সচেতন নাগরিকদের সম্মিলিত ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মাদক শুধু একজন ব্যক্তিকে নয়, একটি পরিবার ও সমাজকেও ধ্বংসের পথে ঠেলে দেয়—এ বিষয়ে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে।
সভায় বক্তব্য রাখেন মতলব উত্তর থানা-এর পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) প্রদীপ মন্ডল। তিনি বলেন, মাদক নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে। তবে টেকসই সমাধানের জন্য সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা এবং তরুণ প্রজন্মকে মাদকের ভয়াবহতা সম্পর্কে সচেতন করা জরুরি।
প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চাঁদপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য ড. জালাল উদ্দিন। তিনি মাদকবিরোধী এ ধরনের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে। তরুণদের খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড ও সৃজনশীল কাজে সম্পৃক্ত করার মাধ্যমে মাদকের ভয়াবহতা থেকে দূরে রাখা সম্ভব।
এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রহমত উল্লাহ, উপজেলা কৃষি অফিসার ফয়সাল মোহাম্মদ আলীসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা।
অনুষ্ঠানে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দও উপস্থিত ছিলেন।
তাদের মধ্যে ছিলেন বাংলাদেশ কৃষকদলের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার ওবায়দুর রহমান টিপু, কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সহ-সভাপতি আজহারুল হক মুকুল, জেলা বিএনপির সদস্য আলমগীর সরকার, ছেংগারচর পৌর বিএনপির সভাপতি নান্নু মিয়া প্রধান ও সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম প্রধান, উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি এসএম জাহাঙ্গীর আলম প্রধান, সাংগঠনিক সম্পাদক মিয়া মনজুর আমিন স্বপন ও তোফায়েল পাটোয়ারী, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক শামীম মিয়াজ, পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক উজ্জ্বল ফরাজী, জেলা যুবদলের সহসভাপতি খায়রুল হাসান বেনু, উপজেলা যুবদলের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক রাশেদ জামান টিপু ও সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ফয়সাল আহাম্মেদ সোহেল, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক শাহজালাল প্রধান, সদস্য সচিব আনিছুর রহমান মিয়াজি ও যুগ্ম আহ্বায়ক মফিজুল ইসলাম শান্ত, উপজেলা শ্রমিক দলের আহ্বায়ক আ. মালেক ও সদস্য সচিব নাছির উদ্দিন মৃধা, ছেংগারচর পৌর যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবু সাঈদ বেপারী, সদস্য সচিব আলম সরকার, পৌর শ্রমিক দলের সভাপতি গোল রাব্বানী স্টার ও সাধারণ সম্পাদক আক্তার হোসেন, পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক আশেক মাহমুদ সংগ্রাম, উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক নুরুল হুদা ফয়েজী ও সদস্য সচিব জয়নাল পাটোয়ারী পিনু, ছেংগারচর পৌর ছাত্রদলের আহ্বায়ক শাকিল খান ও সদস্য সচিব ফরহাদ হোসেনসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।
আয়োজকরা জানান, মাদকবিরোধী এ ধরনের সচেতনতামূলক কর্মসূচি নিয়মিতভাবে আয়োজন করা হবে, যাতে সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি পায় এবং একটি সুস্থ, সুন্দর সমাজ গড়ে ওঠে।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’